শুভ্র গগনে প্রখর রবির কিরন
স্বপ্নের বীজ বুনে কিছু জীবন।
তপ্ত মরুদ্যানে শিলাবৃত সুউচ্চ গিরীমালা
শহরের চারদিক বেষ্টিত পথ পিচঢালা ।
কিশোরীর সদ্য যৌবনের মত উম্মাতাল
উটের কাফেলা নিয়ে দুরন্ত রাখাল ।
ধরনীর বুকে অবিন্যাস্ত ছেড়া ফাটল
অসহ্য জ্বালায় কেউ তুলে পটল।
তৃষ্ণার্ত মরু পথিক ঘর্মাক্ত অবায়াভে
অসহনীয় জীবন ধারন নিতান্ত অভাবে।
ক্লান্তির চিহ্ন জীর্ণশীর্ণ দেহ মাঝে
ধূ-ধূ প্রান্তরে মরীচিকার মাঝে খুঁজে।
একটু জল, বৃষ্টি চাতকের মত
অমৃত ছোঁয়ায় মেটে তৃষ্ণা যত।
(২)
আনন্দে মনভাসে শ্যামল গায়ে বর্ষা এলে
সবাই মিলে স্নানে মাতে নবধারা জলে।
পবনে ভেসে আসে কদম ফুলের সুভাষ
খেটে খাওয়া মানুষ পায় দুর্ভোগের আভাষ।
দুস্ট ছেলেরদল ভাসায় কলার ভেলা
পাড়ায় পাড়ায় কাদা-পানিতে চলে অনেক খেলা।
আলো আধারির সাঁঝে ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকে
কাশবনে শিয়ালের দল হুয়াক্কা শব্দে হাঁকে ।
হাসনাহেনার সুভাষিত সুভাষে মন করে আনচান
কাদা-পানি মাড়িয়ে কেউ শুনে যাত্রা-পালার গান।
পাহাড়ের পাদদেশে গৃহহারা গড়ে সুখের আবাস
বর্ষা ধারায় গিরী ধ্বসে জীবনের সর্বনাশ ।
আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ভরে উঠে মানুষে
অন্ন,পানির অভাবে কেউ মরে নিমেষে ।