এই তো সেদিন আমার নাম জিজ্ঞেস করতে তোমার বাড়ন্ত ঠোঁট কাঁপছিল!
আমারও কম না, দু চোখের তারায় আলোর নদী হাসছিল !
কিছুক্ষণ পর আমার আলোর নদী আর তোমার জলের আকাশ এক সাথে উড়ছিল!
অতঃপর মুক্ত বিহঙ্গের মত কখনও বকুল তলায়
কখনো ব্রহ্মপুত্রের তীরে জেগে উঠা চরের কাশবনে
কখনো ভর দুপুরে, বুনো রাজহংসের মত হাবুদের তালতলার মধ্য পুকুরে গীতাঞ্জলি গাইছিল!
আমার সূর্য দীঘল কালো কেশের বনে
তোমার কাঁচা হাতের লেখা কবিতার পঙতি গুলো রাজ্যের সব আকুতি নিয়ে
বইয়ের মলাট ভারি করছিল ।
আমিও নকশি কাঁথার মত তোমার-আমার তাঁর ছেঁড়া স্বপ্ন গুলো জোড়া তালি দেওয়ার স্বপ্নে
বিভোর ছিলাম ! একটুও টের পাইনি
ভোরের সূর্য অনেক বড় হয়েছে
গাঁয়ের মেঠো পথ বেয়ে তোমার হাত ধরে ঘুরে বেড়ানোর দিন শেষ হয়েছে
কাজলা দিদির গল্পের সেই রূপ কথা বালুচরে হারিয়ে গেছে !
এখন আমি আছি, সোনার তালা, রূপোর বাটি নিয়ে
রুপালি জোসনায় ভিজে ভিজে, দু' হাতে কুন্তলের মায়া জড়িয়ে !
শুধু উদাস দুপুর বেলা, যখন মাঝি পাল তুলে ভাটিয়ালি গায়
এই টুনটুনি মন সজনে পাতার দাঁড় বেয়ে উঠে তোমার নায় !