এখানে মাটির পৃথিবী, উদলা নরম গরম হাওয়া
কখনও শিশিরে সিক্ত, কখনও দু হাতের তালু মাখা রক্ত
বৈশাখী ঝড়ে ছিন্ন -ভিন্ন মাথার ছাদ, ক্ষয়িষ্ণু ওজোন স্তরে
পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষা কচি কচি বরফ কুঁচির অবিরত আর্তনাদ
ঝরা, ব্যাধি আর শোকের মিছিল এঁকে দিয়ে যায় বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন !
সেই ক্ষণে শিল্পীর তুলিতে ধরা দেয় এক আজব ভগ্নাংশ ।

খণ্ড চিত্রের মহা ছায়াছবি ! হাতের মুঠোয় ধরা কাল্পনিক অবিভাজ্যের শবদাহ !
আমি অবাক তাকিয়ে রই, সমান তালে কাঁপতে থাকে
মাটি আর আকাশ । আমি হাসতে হাসতে ভূতলে লুটাই ।
গুড়ুম গুড়ুম শব্দে চকিত হই না । বিলেতি বাবুর মত পানসে হাসি
অধরের দু কোণে জমাট টিপ্পনী কাটে ।
নিস্তেজ, নিরাবরণ কংকালের সারি গুনগুন রবে ভৈরবী সুর তুলে !
আমার কপালের বলি রেখায় ভাঁজ পড়ে ।

মাঝে মাঝে আলেয়াকে আলো ভেবে ভুল করি অংকের হিসাব
বক্র রেখার দিক ভ্রমে আমারও মতিভ্রম ঘটে
জ্যামিতিক মারপ্যাঁচে খুঁজি জীবনের মিছে পূর্ণতা !
আক্ষেপ আর আফসোস সাথী হয় বারবার; সূর্যাস্তের পর নেমে আসা
আঁধারের মত মনে হয় কেয়া তরীর প্রতিটি পাতা !

অন্ধকারে কার যেন অট্রহাসিতে চমকিত হই, ভুলের পসরা সাজিয়ে
মিছে সঙ সাজার অহম লুটায় ধুলায়
কে যেন বলতে থাকে, তুমি আধেক মানুষ, আধেক পশু !
তোমার কিসের পূর্ণতা !!