তোমার চোখে জল দেখেছি

বৃষ্টি সংখ্যা

এস.কে.দোয়েল
  • 0
আজ তোমার চোখে জলের ছায়া দেখেছি। দেখেছি বৃষ্টির জলের মত ফোটা ফোটা চিহ্ন। আজ সকাল এগারটার দিকে যখন তোমায় তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে বেদনাময় মুখ দেখলাম,তখন আমি ভরকে গিয়ে কিছুটা কষ্ট অনুভব করলাম। তুমি কেন কেঁদেছ এর উত্তরটা তোমার কাছ থেকে প্রবল জানার ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও সাহস হয়নি। কারণ তোমার সাথে আমার কথা হয়না একযুগ পুর্তি হতে চলল। এই একযুগে কথা না বলার অনাভ্যাসে নানা দ্বিধা সংকোচে কেটে গেছে প্রায় বারটি বছর। কখনো কি হিসেব করে দেখেছ এই বারটি বছরে কতগুলো দিন পেরিয়ে গেছে? কিন্তু আমি তা করেছি। প্রতিটি দিনে প্রতিটি প্রহর তোমার অপেক্ষায় আমার বারটি বছর গুনতে গুনতে কেটেছে। তোমাকে মনের মঞ্জিলে চির আবদ্ধ করে রাখতেই কাগজ কলমে লেখনির যাত্রা শুরু । আমার লেখক হওয়ার স্বপ্ন কখনো ছিলনা। আমি কখনোই কল্পনাই করেনি যে, লেখার জগতে প্রবেশ করবো। অথচ তোমাকে ঘিরেই আজ আমার কবিত্ব,সাহিত্য। তুমি হয়তো জানো না; আজ ইন্টারনেট জগতে ওয়েবসাইটগুলোতেও আমার লেখা প্রকাশ হয়, এমনকি বেশ পরিচিতি বেড়েছে আমার। এই পরিচিতার মাঝে কিছু অতিব চমৎকার বন্ধুদের সাথে আমার সখ্য গড়ে উঠেছে। সামনাসামনিতে এই কথোপকথনে মাঝে হয়তো জানতে চাইবে,সেইসব প্রিয় বন্ধুরা কারা,জানতে পারি?
আজ তোমাকে বলছি। তুমি কি মনে রেখেছ দীর্ঘ একযুগ পর এই চিঠি লেখার বিষয়টা একটু ভিন্নতা নয়! আকর্ষবোধ নয়!! জানিনা তুমি অবাক হয়েছ কীনা? অবাক তো নাও হতে পার। কারণ তুমি আজ বেদনাহত। সহপাঠির শোকের কান্নায় ভীষণ জর্জড়িত। তোমার সহপাঠী এক তরুণ শিক্ষক আকস্মিক হার্টএ্যাটাকে অকালপাত করেছে। এত অল্প বয়সে মারা যাবে এটা তুমি কেন, কেউ এটা মেনে নিতে পারবে না। এই তো কিছুদিন আগে সদ্য চাকুরীতে নিয়োগ পেয়ে চার-পাঁচ শিক্ষকতা শেষ হয়ে যাবে জীবনের ইতিটানা দিয়ে। এটা সহজেই মেনে নেওয়া যায় না। তোমার ওই কষ্টময় অনুভূতি আমি দূর থাকলেও অনুভব করতে পারি। এটাই ভালবাসা।এটাই হৃদত্বার প্রেম।

আমি শুনেছি এক তরুণ শিক্ষকের সাথে তোমার বেশ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। দুইদিন আগেও তাঁর সাথে খানা খেয়েছ। এক সাথে চলেছ,কথা বলেছ। এইসব স্মৃতি তোমাকে এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে পুরো অন্তর-চোখ জুড়ে। চোখ দিয়ে বৃষ্টি জড়িয়েছ। জানি না আমি মরলেও তুমি বিন্দুমাত্র কষ্ট পাবে কীনা? কয়েক ফোটা চোখের জল তোমার চোখ থেকে ঝরবে কীনা? তবে আমি স্বার্থক হবো যে, আমার মৃত্যুতে যেন এক ফোটা চোখের জল তোমার চোখ থেকে না ঝরে। কোন কষ্ট অনুভব না হয়। তুমি জানো না,ওই তরুণ শিক্ষক জামিল সাহেবের সাথে আমারও বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আমার লাইব্রেরীতে আসতো,কথা হত,ভালমন্দ কুশল বিনিময় হতো। আমার বয়েসী হওয়ায় তার সাথে এক ধরণের বন্ধুত্ব সম্পর্কের মায়াজালের ফ্রেমে বেঁধেছিল। আমিও বিষন্নতাবোধে জর্জড়িত যে, তার এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে না পারার। কিন্তু কি করবে বলো-মানুষ কি জানে কখন তার মৃত্যু হবে? মহান আল্লাহ পাক প্রত্যেকটি প্রানীর জন্যই মৃত্যু অবধারিত করে রেখেছেন। তাই মৃত্যু কখন হবে এমন কোন নির্দিষ্ট সময়,দিন-তারিখ পরম করুনাময় আল্লাহ্ কাউকে বলে দেননি। তুমি কি লক্ষ্য করেছ, আমরাও জামিল সাহেবের অকাল মৃত্যু সহজেই মেনে নিতে পারছিনা। নবাগত তরুণ এখনো বিয়ের মুখ দেখেনি। যদিও হাজারো আবেগের প্রবোধ আমরা দিয়ে যাচ্ছি। অথচ দেখ আমাদের মতো আরেকদল মানুষ তার জন্য কবর খুঁড়তে,বাঁশ কাটতে, কাফনের কাঁপড় আনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাড়াতাড়ি দাফন করতে হবে। লাশ বেশিক্ষণ ঘরে রাখা যাবে না বলছেন কেউ কেউ। একটু চিন্তা করে দেখ, গতকাল বৃহস্পতিবারের তার মুল্যায়ন ছিল। তোমরা এক সাথে স্কুল করেছে,বাচ্চাদের ক্লাশ নিয়েছ। রাত চারটায় যখন সে হার্ট্অ্যাটাকে প্রাণ ত্যাগ করে,তখন সে হয়ে যায় লাশ!! ক্ষণিকের এই জিন্দেগীতে জীবনের কি বিচিত্র চিত্র কখনো ভেবে দেখেছ? দেখ তুমি আমি কেঁদে কোন ফায়দা হবে না। চোখ বৃষ্টির জলে সাত সাগর পুরলেও কোন লাভ হবে না। তাঁর চেয়ে চল আমরা তার জন্য মাগফেরাত কামনা করি। মহান প্রভুর কাছে তার পারলৌকিক জীবনের মঙ্গল কামনা করি।সে যেন জান্নাতবাসী হয়।

আজ তোমার চোখের জলে লাবন্য গালটা কি ফ্যাকাসে দেখেছি। আমার এই ভালবাসার এক যুগ প্রহরে তোমার এমন কান্না বেশ কয়েকবার দেখেছি। এক নি:শব্দের ভিতর তোমার হৃদভাঙা কষ্ট অনুভব করে গেছি আড়ালে থেকেই। এই এক যুগে তুমি-আমি কতবার যে কাছাকাছি হয়েও বোবার মত পাশ কেটে চলে গেছি দুজন।কিন্তু কথা হয়নি অথচ দেখা হয়েছে মুখোমুখি কতবার!গত ২৩জুনেও তোমার-আমার চোখাচোখি হয়েছে। এক নি:শব্দেই বুকদুটো ধুরু ধুরু করেছে। চাপা ব্যথা অনুভব হয়েছে। তোমাকে দেখার পর আসলেই আমি স্থির থাকতে পারিনা বলে সব সময় আড়ালে খাকার চেষ্টা করেছি। তুমি জানো না, তোমাকে ২৩ তারিখে দেখার পর আমার কি অবস্থা হয়েছিল। প্রচন্ড অনুভবের আবেগের তাড়নায় ভালবাসার মাদকতা নিয়ে “এখনো এক পৃষ্ঠা বাকি আছে” কবিতাটি লিখে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। আজকের চিঠিটাও শেয়ার করলাম বন্ধুদের সাথে। ভাল থেকো সব সময়। আবার যখন তোমার সাথে আমার দেখে হবে সেদিন যেন আমরা বোবার মত পাশ কেটে না যাই। আমরা কথা বলব। আর সংকোচ নয়। যেদিন এক যুগ পূর্তি হবে সেদিন আমরা লাভ বার্থ ডে পালন করতে চাই। আজ অপর পৃষ্ঠায় লিখলাম চিঠিটা পড়ে নিও। আর যদি কোন রাগ-অভিমান থেকে থাকে তাহলে আমার মোবাইলটা খোলা রাখলাম। ইচ্ছেমত মিষ্টিভাষায় গালিগালাজ করো। তবু তোমার চোখে আর শ্রাবণধারা কান্নার জল দেখতে চাই না।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
সালেহ মাহমুদ চমৎকার কথামালা, খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
আহমেদ সাবের ওয়াহিদ ভাই 'এর মতই বললাম- "চমৎতকার চিঠি। এবার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।শুভেচ্ছা জানবেন"।
মিলন বনিক ডায়েরির পাতা থেকে তুলে আনা পন্গ্তিমালাগুলো অনেক ভালো লাগলো...শুভ কামনা...
তানি হক সুন্দর কথা মালার পরিচ্ছন্ন গল্প ...ভালো লাগলো ...ধন্যবাদ
মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন .........................চমতকার চিঠি। এবার উত্তরের অপেক্ষায় রিলাম।শুভেচ্ছা জানবেন।
নৈশতরী হুম.......মুরব্বি আমিও আপনার সাথে একমত, তাই যেন হয় !!
মৌ রানী তোমাকে দেখার পর আসলেই আমি স্থির থাকতে পারিনা বলে সব সময় আড়ালে খাকার চেষ্টা করেছি। .........আবার যখন তোমার সাথে আমার দেখে হবে সেদিন যেন আমরা বোবার মত পাশ কেটে না যাই। আমরা কথা বলব। আর সংকোচ নয়। ........... না বলা প্রেম। বার্থ ডে পালন হোক। পূর্ণ হোক জীবনের গল্প। ভালো লাগলো খুব।
মোহসিনা বেগম তবু তোমার চোখে আর শ্রাবণধারা কান্নার জল দেখতে চাই না। ----- কেন ভাই দোয়েল , কান্না হাসি মিলেই তো জীবন ! খুব ভাল লেগেছে গল্প । অভিনন্দন ।

১০ মে - ২০১২ গল্প/কবিতা: ২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বাংলা - আমার চেতনা”
কবিতার বিষয় "প্রেম”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ জানুয়ারী,২০২২