লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ নভেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৮টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৬৩

বিচারক স্কোরঃ ২.০১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftসবুজ (জুলাই ২০১২)

যাত্রী
সবুজ

সংখ্যা

মোট ভোট ৪৬ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৬৩

প্রিয়ম

comment ২৬  favorite ১  import_contacts ১,০৮৯
কে ?
কখন ?
কোথায় ?
কিভাবে ?
আমি ,এখনি ,এখানে ,এইতো, যেভাবে আমার পূর্বপুরুষরা চলে গেছে ,আমিও সেভাবেই যাব । কারন আমার যাবার সময় হয়েছে ,আমি বৃদ্ধ , আমি প্রবীণ ,আমি পুরাতুন, আমার নেই যৌবনের ডাক । আমি নইত সবুজের দলে । সবাইত পুরাতুনকে ফেলে দেয় এই ভেবে যে ,বৃদ্ধ থেকে কিছুই হয় না । তাই আমি নিজে থেকেই চলে যাচ্ছি ।

এভাবেই একজন খেটে খাওয়া মানুষ যখন চারদিক শুধু ঝিঝি ডাকছে ,হালকা শির শির বাতাস বইছে ,কোথাও কোন সাড়াশব্দ নেই একাগ্রচিত্তে, আপন মনে,নিজের আজান্তে এইসব সত্য ও বাস্তব কথাগুলো ,মনখুলে প্রানের ছোঁয়ায়,হ্যামিলনের বাঁশীর মতো বাজিয়ে যাচ্ছে । মনে নেই কোন ক্লান্তি ,বিষণ্ণ ও নয় সে ।

হটাত করে নব যৌবনের উদ্দলিত হাওয়ায় ,যৌবন সিক্ত মনে বাঘের মত হুঙ্কার ছেড়ে বলে উটল এক তরুণ, না....................................আমি আগে ,আমি আগে যাব, কারন ,আমি এমন আভিশপ্ত জীবন চাইনা । আমি দেখেছি আমাকে দিয়ে কিছু হবে না , আমি অনেক চেষ্টা করেছি , কিন্তু এখানে পাইনি কোন প্রকার সাহায্য কারো কাছ থেকে । এ দেশের মানুষ কখনও অন্য একজনের ভালকে উপভোগ করতে পারেনা । পারেনা ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে , পারেনা আদর, স্নেহ , মমতা দিতে , কখন ও চেষ্টাও করে না । শুধু পারে মানুষকে ধিক্কার দিতে, বঞ্ছন্না দিতে, অনুৎসাহিত করতে আর ঝগড়া, বিবাদ সৃষ্টি করতে, যাতে করে মানুষ বিভ্র্যান্তি হয়ে যায় , নষ্ট হয়ে যায় , এবং সমাজ নষ্ট করে ফেলে , দেশ নষ্ট করে ফেলে এমনকি নিজের আপন সংসার বলতে হাড়িয়ে ফেলে একটা সময় । সুতরাং আমি চাইনা আমার পূর্বপুরুষ যা করেছে আমি তাই করি , এজন্যই আমার চলে যাওয়া , আমাকে যেতে দিন ।

কি এক অপূর্ব বাক্য তাইনা ? একটি তরুন ফুটফুটে তাজা রক্তাক্ত গোলাপ, যার কিনা আলো ছড়ানোর সময় ! হাসি, আনন্দ দেবার সময় ! প্রেম, ভালোবাসা পাবার সময় ! বিদ্রোহী কবি নজরুলের অগ্নিবিনার মত হৃদয় কাঁপানো গল্প, কবিতা লিখার সময় ! মনের আনন্দে নাচিয়ে যৌবনের গান গাওয়ার সময় ! বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের গীতাঞ্জলীর মত প্রেমের আলো ছড়ানোর সময় ! বাংলার সম্রাট শাহাজাহান এর মত প্রেমের স্মৃতি স্থাপনা করার সময় ! বিশ্ববাসীকে জাগিয়ে দেয়ার সময় , বিশ্বকে জয় করার সময় ! সে কিনা অভিমানি , অভিমান করেছে নিজের কাছে, দেশের কাছে, সমাজের কাছে, দশের কাছে ।
আর অভিমান না করবেই বা কেন ?
এ দেশ , এ সমাজ , এ বিশ্ববাসী তাকে কি দিয়েছে ? বাচার অধিকার ? খাওয়ার অধিকার ? না , তাকে কিছুই দেয়নি কারন ,আমরা ভালবাসতে জানি না । আমাদের ভালোবাসা হাড়িয়ে গেছে , ফুঁড়িয়ে গেছে সমস্ত আদর, স্নেহ আর মমতা, সেই সাথে বিবেকও ।

বৃদ্ধ লোকটি বলল না তরুন না , তুমি যেতে পার না কারন , তুমি নবীন তুমি পারবে অনেক কিছু দিতে আমাদের এই সমাজকে । বদলে দিতে পারবে এ সমাজের যত অন্ধকার । তুমিই পারবে তোমার ভালোবাসা দিয়ে ব্রিদ্ধাছ্রম থেকে বাবা মাকে এনে সন্তানের বুকে তুলে দিতে । আর আমরাত জীবনের সবটুকু দিয়ে দিয়েছি , হারভাঙ্গা পরিশ্রম করেছি , মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছি , আমাদেরত সময় শেষ হয়ে গেছে ।

কিন্তু কি পেয়েছেন আপনি ? রাস্তায় ঘুমানো ? বাসি খাবার খাওয়া ? ছেরা জামা কাপড় পরা ? মানুষের ধিক্কার শুনা ? ছেলের বউ এর বঞ্ছন্নায় তারিত আপনি । সমাজ থেকে অবসর পেয়েছেন আপনি । ব্রিদ্ধাছ্রমে যাবার টাকাও নেই । সারাদিন ইট ভাঙ্গা আর রাতে ফুটপাতে গুমানও । এভাবেই কেটে যায় আর পরওপারে যাবার জন্য দিন গুনছেন, তাই না ?

বড় আবেগে তারিত কণ্ঠে তরুন ছেলেটি বলল ব্রদ্ধ লোকটিকে এভাবেই । আর লোকটি শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল । যেন কণ্ঠ থেমে গেছে তার ,অলস হয়ে গেছে তার সমস্ত দেহ মন ,হারিয়ে গেছে তার মনোবল । চারদিকে ঘোর অন্ধকার দূর হইতে ট্রেন আশার শব্দ পাওয়া গেল, সেই সাথে ব্রদ্ধ লোকটি তরুনের দিকে চেয়ে শুধু বলল আমি হেরে গেছি !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! বলে ছুটে চলল রেল লাইনের দিকে । পিছন পিছন তরুণ ছেলেটিও দাঁড়ান , শুনুন , কোথায় যাচ্চেন চিৎকার করতে করতে ছুটে চলল ।

পাঠক সুধীজন একটি কথা না বললেই নয় আসলে তরুণ ছেলেটির নাম “সাহস” । জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক যোদ্ধা । আদর স্নেহ, মমতায় বড় হয়েছে সে । বাবা মার একমাত্র সন্তান । যখন যা ইচ্ছে হত তাই দিত । কোন ইচ্ছাই তার অপূর্ণ থাকেনি বা রাখেনি । তাই বেদনার ছলে, আবেগের বলে, কলেজের কোন এক জায়গায়, গাছতলায় ,হয়ত বটতলায় , প্রেমে পড়েছিল “রমা” নামের মেয়েটির । ওরা একই বিভাগে পরে । রমার বাবা নেই , মা ও মারা গেছেন অনেক আগে । যখন রমা প্রথম শ্রেণীতে পরত তখন তার বাবা মারা যায় , কি কারনে তা বলতে পারে না । শুধু মনে পরে যে, গরুর গাড়িতে করে তার বাবাকে হাসপাতালে নেয়ার ছবি । মায়ের দুচোখ বেঁয়ে অশ্রু বেঁয়ে পরার ছবি ।পরন্ত বিকেলের নিশ্তব্ধতার ছবি । যেদিন সূর্যটা তার কেমন যেন গোমরা হয়েছিল । আকাশটা মেঘে ঢাকা অন্য রূপ ধারণ করছিল ,তারই প্রতিছবি দেকেছিল সে । নিশ্তব্ধ হয়েছিল ,কণ্ঠরুধ্য, বাকহীন আজানা শোঁখে কাতর, ডানা ভাঙ্গা পাখির মত দারিয়ে দারিয়ে দেকছিল বাবার শেষ যাত্রা । তারপর এভাবেই কেটে যায় অনেক বছর । একদিন মার পার্যাষলাইস্ট হয়ে যায় , হাসপাতালে কিছুদিন থাকার পর রমাকে ছেরে চলে যায় পরপারে । ঠিক সেই বিশন্নতা আর একাকীত্ব যখন তাকে গ্রাস করছিল ,তখনই মেঘের আড়াল থেকে যেমন সূর্য বেড়িয়ে এসে হাসি দেয় , ঠিক তেমনি ভাবে সাহস তার জীবনে ,আলো ছড়াতে এসেছিল । হয়েছিল তার জীবনের এক পরম সঙ্গি , ভাগাভাগি করে নিয়েছিল সমস্ত সুখ দুঃখ ।


কিন্তু আজ সাহস জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া এক পথিক । বাস্তবতার কলাগ্রাশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না সে । যে সমাজে মানুষ না খেয়ে রাত কাটায়, যে সমাজে মানুষ বড় হয়েগেলে নিচের দিকে তাকায় না । যে দেশে মানুষ বাচার কোন নিশ্চয়তা নাই, যে দেশে মানুষ তার অতীত অস্তিত্ব ভুলে যায় । যে দেশে নারীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্ছিত । যে দেশে কবি, লেখক প্রান খুলে মনের ভাব লিখতে পারে না । যে দেশে শিক্ষা প্রতিস্তানে সন্ত্রাস আর রাজনীতি চলে । যে দেশের শাসন কর্তারা যখন নিজের পকেট ভারি করতে ব্যস্ত । যে দেশে মানুষ যখন বিবেকহীন । সে দেশে ,সে সমাজে , সে লোকালয়ে সাহস বাচতেঁ যায় না । তাই সাহস এই পথ খুজে নিয়েছে , কিন্তু যাবার আগে রমাকে অনেক মনে পরছে । এজন্য রমার জন্য একটি চিঠি লিখে যায় , যাতে রমা তাকে ভুল বুঝতে না পারে ।

প্রিয় সিক্ত রমা,
আমার মনের গভীরের কোন এক তৃপ্ত বাসনার অন্তরালে ,যেখানে ভালোবাসা থাকে ঠিক সেই স্থান থেকে আমার সুচারুর সুপ্রভ ভালোবাসা নিও । আশাকরি পরম করুনাময় এর অসীম রহমতে ভালো আছ এবং থাকবে ।
কিন্তু আজ আমি এমন এক বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি , যা তুমি শুনলে অভাক হবে আর হবারই কথা । কারন যেদিন তুমি একাকীত্ব বোধ করছিলে , নিজেকে বিষণ্ণ ভাবছিলে , নিজেকে নিঃশেষ করতে চেয়েছিলে , সেদিন আমিইত তোমার মাঝে আলোর ঝলকানি হয়ে এসেছিলাম । তোমাকে বাঁচাতে চেয়েছি ,পথ দেখিয়েছি নতুন জীবনের । উচ্ছশিত করেছি জীবনকে উপভোগের , বাঁচতে শিখিয়েছি নিজের উদ্দমতায় । শিখিয়েছি এ দেশ , জাতি , সমাজকে কিছু দেবার , আরও শিখিয়েছি এক অসীম সুরভিত ভালোবাসার । অতপর আমি হেরে গেছি । হেরে গেছি ।
ভাবছ আভিমান করছি তাইনা ?
কারন আমিই বলেছি বহুবার “ গভীর সুচারুর সুপ্রভ, আর সুরভিত সুশীল সুষমা যুক্ত ভালোবাসায় আভিমান , খেলা করে সারাক্ষন” । তাই বলছি , না, আভিমান করিনি ,তোমার সাথে আর অভিমান করতে আসবনা । আর আসবনা ভালবাসতে , আসবনা আদর, স্নেহ, মমতা পেতে , আসবনা কোন বায়না ধরতে ।
প্রেয়সী, ভালো থেকো নতুনকে বরণ কর , আর ভুলে যেও আমাকে , ক্ষমা কর আমাকে । জানি আমাকে ভুলতে পারবে না , ক্ষমাও করতে পারবে না , কারন আমিইত তোমাকে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছি আর আমিই জীবনের কাছে হেরে যাব ? তা কি করে হয় ? হয় , কিভাবে হয় তা তোমাকে বুঝাতে পারব না ।
যাইহোক, যাবার আগে তোমার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম ,কিন্তু পারলাম না , কারন ? তোমার সাথে দেকা করলে আমার এ শবযাত্রা সফল হবে না । পারবনা তোমাকে ফেলে যেতে কারন তোমার ও দুটি চোখে সারাক্ষণ এক মায়া খেলা করে । যা আমাকে বাধা দিবে এই সবুঝের মায়া মমতা ছেরে যেতে । ঠিক করেছি রাত ১০ টার ট্রেন আসবে ........................।
সুতরাং , আমাকে পালিয়ে যেতে হচ্ছে তোমাকে আড়াল করে । ভালো থেকো , সুন্দর থেকো, সুস্থ থেকো, আমাকে ভুলে যেও , এই শুভ কামনায় ।
তোমার ভালোবাসা
“সাহস”

আকাশ মেঘলা মনে হয় বৃষ্টি আসবে , বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে রমা চিটিটা পড়ছে আর অঝর নয়নে কাঁদছে । কি করবে ভেবে পাচ্ছে না । হটাত করে এক বিকট মেঘের গর্জন রমা যেন অন্য এক জগত থেকে ফিরে এলো । একবার শুধু ঘড়ির দিকে তাকিয়েই ছুটে চলল রেল লাইনের দিকে । মনে মনে আল্লাহ্‌কে ডাকতে লাগল । অন্ধকারে কিছু দেকা যাচ্ছিলোনা ,বিদ্যুৎ চমকানোর আলোতে ছুটে চলছে আল্লাহ্‌র কাছে তার জীবনের ভিক্ষা চাইছে । ট্রেন আসছে শব্দ পাচ্ছে সে । পারল না , তাকে বাচাতে ,ট্রেনটি পাস কাটিয়ে চলে গেল । মুহূর্তেই থমকে গেল সে , নিস্তব্ধতা হয়ে গেল টার দেহ মন । দুই হাঁটু গেরে বসে পড়ল রেল লাইনের পাথরের উপর । শুনতে পেল কে যেন কথা বলছে ।
এই যে ?
আপনি হেরে গেলেন ?
জীবনের কাছে ?
বলছিলাম না এ জীবনের কোন মুল্য নেই । কণ্ঠটা মনে হয় সাহসের , রমা মাথাটা উচু করে দেকার চেষ্টা করছে , কিন্তু কোন ভাবেই বুঝতে পারছে না । ধিরে ধিরে সামনের দিকে আগাতে লাগলো । বিদ্যুৎ চমকানোর আলোতে বুঝতে পারলো সে এটাই সাহস । ভাঙ্গা গলায় চিৎকার করল সাহস । সাহস পিছন ফিরে বলল রমা !!!!!!!!
রমা কেঁদে কেঁদে বলছে সাহস আমিও তোমার এই পথের যাত্রী হতে এসেছি । আমিও যাব , কেন আমাকে একা ফেলে চোরের মত পালিয়ে যাচ্ছ ? কেন ? কেন ?
সাহস বলছে না রমা না , আমি আর তোমাকে ছেরে যাব না । আমি বেছে থাকব , ভালবাসব , দেশের জন্য , দশের জন্য, তোমার জন্য । কারন এই দেক ............উনি , উনি কে ? রমা বলল । উনি একজন জীবন যুদ্ধে পরাজিত মানুষ আমার পথের পথিক । কিন্তু দেখ আমার জন্য বেছে থাকার অবলম্বন রেখে গেছে । যে পাথরের উপর ইট রেখে ভাঙ্গা হয় , সেটি আর হাতুড়ি ।
রমার যেন মন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল । চোখের বাধ ভেঙ্গে গেছে । সাহসকে জরিয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে , বল তুমি আমাকে ছেরে কোথাও যাবে না ? বল ? বল ?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement