তোমার বয় ফ্রেন্ড বুঝি অনেক নাড়াচাড়া করে? একদম ঝুলে গেছে। তোমার বয়সের মেয়েদের টান টান বুক ফুলা থাকে?
‘কি করবি কর না এতো কতা কস ক্যান শুয়রের বাচ্চা।’ সাদিয়া বিড়বিড় করল। কিছু বললা? না, আমার কোন বয় ফ্রেন্ড নাই।


উত্তরটা শুনে দোদেল দিগন্ত হাসল;অন্ধকারে সাদিয়া হাসিটা দেখতে পেল না।
যাক ভালো হল। বেশি বেশি ছবিতে সাইন করতে হলে বয় ফ্রেন্ডদের লিস্ট বড় করতে হবে। এটা জানতো -নায়িকাদের উপর যদি কোন অধিকার থেকে থাকে তা হল প্রযোজকদের । তারাই একটা সাধারণ ঘরের মেয়েকে নায়িকা বানাতে পারে।নিজ হাতে গড়ে, এনে দিতে পারে তুমুল জনপ্রিয়তা। নায়িকাদের চরিত্র হত হয় নরম মাটির মত যাতে যে কোন আকৃতি তৈরি করা যায়। আজ থেকে প্রতিটি প্রযোজককে বয় ফ্রেন্ড ভাবতে হবে। একাধিক ছবিতে সাইন করা ডাল ভাত হয়ে যাবে।

কোন যদি চরিত্র না পেলেও আইটেম সং করতে পারবে। এক আইটেম সং দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে যাবে। তরুণরা নিঃসঙ্গ রাতে তোমাকে বিছানায় পেতে চাইবে কল্পনায়। অনুভব করবে তোমাকে। এক জন পুরুষ যতটা ভদ্র ই হোক একজন মেয়েকে নগ্ন হয়ে দেখতে প্রছন্দ করে; কল্পনা করতে প্রছন্দ করে। তাদের আড্ডার বিষয় বস্তু হবে তুমি। তোমার নগ্নতা তাদের উষ্ণতা দিবে। পত্র-পত্রিকায় বা অন লাইন দুনিয়ায় তোমাকে খুঁজবে।তোমার মিনি মিনি স্কার্ট বা উরু সন্ধিতে চোখ ভিজাবে। তোমাকে নিয়ে যে কোন খবর গো গ্রাসে গিলবে। এক জন নায়িকার হিসেবে এ যোগ্যতা তা অর্জন করা বিশাল বড় ব্যাপার। অমুক নায়িকার গোপন ভিডিও ফাঁস হইছে, তা দেখার জন্য তন্নতন্ন খুঁজে ভিডিও লিংক। না পেল হতাশ হয়। ধরো কার চোখে পড়ল, ‘এক কিশোরী ধর্ষিত হয়েছে’ তার জন্য ন্যূনতম সমবেদনা না দেখিয়ে উল্টো খুঁজবে ভিডিও টি, কীভাবে ধর্ষিত হল। নগ্নতা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে তা এড়ানো বিরল। নগ্নতা আমাদের মৌলিক অধিকার। একজন মানুষের যতটা ক্ষমতা থাকে শুষে নেবার ; তার এক শত গুন ক্ষুধা থাকে ভোগ করার। ভোগ করার এ এক অসীম পিপাসা।
তাই পর্দায় তোমার উত্তেজক উপস্থিতি এনে দিতে পারে তারকা খাতি।


আজ রাতের পর তোমাকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হবে না। তোমার পিছে ছুটবে ক্যামেরা। ফ্ল্যাশ লাইটের ঝলকানি উজ্জল জীবন । ‘চুপ কর শুয়রের বাচ্চা।’ অনবরত বিড়বিড় করতে করতে কথা গুলো থেমে গেল। কিছুটা তরল ভিজিয়ে দিল বিছানা।নিস্তেজ হল উত্তেজক। রাত্তি শেষ হল। ভোরের আলো সাদিয়ার চোখে মুখে চুমু খাচ্ছে। জেগে থাকা দুঃস্বপ্ন টার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিল। মেঝেতে পরে থাকা অন্তবাস কুড়িয়ে নিয়ে বাথরুমে চলে গেল। বাইরের পৃথিবী অপেক্ষা করছে তার জন্য। নতুন এক দিন। মধ্যবিত্ত অভিশাপ্ত জীবন থেকে মুক্তি।
সাদিয়া বিগ বাজেটের তিনটি ছবিতে সাইন করেছে। প্রেস কনফারেন্স ডাকা হয়েছে।
অপেক্ষামান সাংবাদিকদের উৎসুক চোখ খুঁজছে সাদিয়াকে। প্রেস কনফারেন্সের মধ্যমণি মুহুমুহু করতালিতে আসন গ্রহন করল। হাত দিয়ে উরুসন্ধি থেকে চুল সরিয়ে অনেক কথা বলল। কেউ কেউ পার্সোনাল ফটো শুট করতে চাইলে;কামুক হাসিতে স্থান ত্যাগ করল।

সাদিয়ার নিজের বলে কিছু রইল না, যা আছে সব দর্শক বা মানুষের অধিকার।
লাল গাড়ি ছুটছে নিরাপদ গন্তব্যে। লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন শব্দগুলো ভনভন করবে কানের কাছে...।


‘ক্লান্ত দেহ দিন শেষে বিশ্রাম নিবে উষ্ণ বিছানায়। কখনও শীত স্পর্শ করতে পারবে না ; উষ্ণনতার চাদরে মোড়ানো এক জীবন। যেখানে নগ্নতা নেই নির্জন রাতের শেষে; আছে ক্ষুধার্ত মানুষের পিপাসা। তোমার শরীরটা হয়ে উঠে আমাদের মৌলিক অধিকার। মৌলিক অধিকার পূরণে তোমার উদারতার জন্য সাদিয়া তোমায় অভিবাদন। শরীরে জড়িয়ে নাও আমাদের মৌলিক উষ্ণ অভিনন্দন...।”