এলো বৈশাখ, এলো নতুনের ডাক, বসুধার ঝরে গেলো পুরাতন ফুল
ছড়ায় আমের বোল, ভরে বুক কিশোরীর, কোলে তার জাম-লিচু-কুল;
এলো বৈশাখ, ঘুচলো আঁধার,-চৈত্রের শেষে হাসে সূর্যের দিন
জাগবে হৃদয় তবে রুদ্র-উৎসবে, নাচবে রৌদ্র-ছায়া-ঝড় সীমাহীন!
নেমেছে বর্ষা আবার-বিমুক্ত আকাশ যেন বিক্ষুদ্ধ স্বদেশ,
যেন শ্রাবন রুদ্র-জলে শ্রদ্ধ হবে দেহ, রুদ্ধ হবে ক্রোধ-ঘৃণা-দ্বেষ;
এই দেশপ্রেম-হরা খরতাপ-গাহে ঝরুক বর্ষা বর্ষভর
পাষাণ-ভাসানো আসুক বৃষ্টি, শানুক বজ্র, হানুক ঝড়!
রুদ্র প্রতাপ গ্রীষ্ম-ধুয়া বর্ষা দিনের শেষে
ভদের মাহের আদর-গাহে আসলো শরৎ হেসে
উদ্ভাসিল নিরভ’ আকাশ, উৎসারিল নদী
হাসবে নিখিল, ভাসবে অখিল দু:খ নিরবধি!
পূবালী হাওয়ায় নাচে ধান সোনালী রৌদ্রে,-চারিপাশে হেমন্তের রব;
কাস্তেরা ঝলসায় কিষানের হাতে; নাড়ার ফাঁকে কুড়ায় ধান ঘুরে ঘুরে
অভাবী ছেলের দল; ব্যস্ততা-কোলাহল খুব-কিষাণীর আঙিনা জুড়ে;
মাড়ানির ধান আর পিঠা-পুলি ছড়ায় ঘ্রাণ-চারিদিকে শুধু উৎসব!
এলো শীত, এলো হিমকেশী, হিম ভোরে কেঁপে এলো কুয়াশার দিন
পল্লীর ঘরে ঘরে নকশী কাঁথার ধুম, নাগরীরা আবছায়া ধোঁয়াশায় লীন,
এলো শীত, এলো হাতকাঁপা জার, কিশোরীর ম্লান গালে নারকেল তেল
পথিকের পায়ে চোরকাঁটা, শিশিরের জল; প্রকৃতির অপরূপ রূপ উদ্বেল।
আসলো আবার বসন্ত ঐ, তরুণ প্রাণের সঞ্চরী
বিশাখ দেহে জাগলো পাতা, ফুটলো ফুলের মঞ্জুরী
হাসলো অরুণ, ভাসলো তরুণ বরুণ-আলোয়-ঢেউ জড়ি
সবুজ-আলোয় জাগবে স্বদেশ, হাজার রাতের ঘুম হরি!