নিশি
লেখকঃ আব্দুল মবিন সরকার

নিলয় নিশির পানে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। নিশিও নিলয় এর পানে এক দৃষ্টিতে মাঝে মাঝে তাকাত। নিশি নিলয়ের কথা বুঝতনা। কি করে বুঝবে, সে নিলয়ের কাছ থেকে কোন বাক্য শোনেনি। নিশি তাই তার মনের কথা বুঝতে পারেনি। নিলয় শুধু শুধু নিশিকে মনে মনে ভালবাসত; নিলয় তার ভালবাসাটা প্রকাশ করতে চাইত কিন্তু সে তার মনের কথাটা শুধু শুধুই মনের মদ্ধে চেপে রাখত এবং কখন হাসত এবং কখন দুঃখ পেত। নিশির পানে নিলয় এত তাকাত কেন এটা নিশির একদিন মনে হল; সে ভাবতে লাগল যে, নিলয় আমার পানে এত তাকিয়ে থাকে কেন? তার এই মনের প্রশ্নটাকে সে বার বার করতে থাকে। নিশি বিভিন্ন রকম চিন্তা ভাবনা করতে থাকে কিন্তু তার সঠিক উত্তরটি খুঁজে পায়না। নিশি একদিন রাত্রে ভাবল যে নিলয়কে কিছু প্রশ্ন করা উচিৎ, তানাহলে বিষয়টি বঝা যাবেনা তাই তাকে জিজ্ঞাসা করা যরুরি, নিশির এই প্রশ্ন করার মানে সে নিজে নিজেই বুঝে উঠতে পারেনি, যা হোক সে তবুও সিদ্ধান্ত নিল যে সে জিজ্ঞাসা করবে। পরের দিন নিশি ও নিলয় উভয়ে কলেজে গেল। নিশি কলেজে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে লাগল, সে দেখতে পেল যে নিলয় তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নিশি নিলয়কে হাত ইশারা করে ডাকল; নিলয় তার চাহনি দেখে অবাক হল। সে বুঝতে পারলনা যে নিশি তাকে কেন ডাকছে। নিলয় হাত ইশারা করে বলল যে, সে আসছে। নিলয়ের বুক দুরু দুরু কাঁপতে থাকল; সে বুঝতে পারছিলনা যে সে কি বলবে। নিলয় নিশির কাছে ধিরে ধিরে এগোতে থাকে তার পর সে তার নিকটে আসে এবং বলে যে, তুমিকি কিছু বলবে? নিশি তার দিকে চেয়ে বলল যে, তুমি আমার দিকে এমন করে তাকাও কেন? নিলয় কিযে উত্তর দিবে সে তা বুঝতে পারছিলনা। নিশি তার মুখপানে চেয়ে একটু মুচকি হেঁসে বলল যে যেকথাটি তুমি বলতে পারছনা সে কথাটি আমি বুঝে নিয়েছি। নিলয় ইতস্থত বোধ করে বলল যে, বলত আমি কেন তোমার দিকে তাকাই। নিশি বলল যে, তুমিই বল। নিলয় বলল যে আমি কিছু বলতে পারব না । নিশি তাকে বলল যে, তাহলে তুমি আমার দিকে আর তাকাবে না। নিলয় বলল যে, আমিযে তোমার দিকে তাকাই তা তুমি বুঝলে কিকরে? নিশ্চই তুমিও আমার দিকে তাকাও। নিশি ইতস্তিত বোধ করে বলল যে, কেন আমি তা জানিনা, তখন নিলয় তাকে বলল যে, তুমিও আমার দিকে তাকাবে না, তখন নিশি একটু মনে মনে কষ্ট পেল এবং নিলয়ের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। নিলয় বুঝতে পারল যে, নিশি তাকে পছন্দ করে। একদিন ভোরবেলা দুজনে কলেজে আসার পথে একদৃষ্টিতে তাকাল। তার পর দুজনেই অন্যপানে তাকাতে থাকে কিন্তু এ ওর পানে এবং সে তার পানে বারং বার তাকাতে থাকে এভাবে তারা কলেজে পৌঁছে। সে দিন ছিল পরিক্ষার দিন। যথারিতী নিয়মে মহীলারা এক পাসের বেঞ্চ গুলোতে বসল এবং ছেলেরা অন্য পাসের বেঞ্চ গুলোতে বসল। শিক্ষিকা তাদেরকে প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য কাগজ এবং প্রশ্নের কাগজ দিল। নিলয় নিশির পানে প্রশ্নের উত্তর লেখা বাদ দিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে লাগল। শিক্ষিকা নিলয়ের দিকে তাকিয়ে বলল যে, “এই ছেলে তুমি লিখছনা কেন”? নিলয়ের তখন ঘোরটি কাটল এবং সে চমকে উঠে শিক্ষিকার দিকে তাকাল। শিক্ষিকা তাকে আবারো বলল যে, তুমি লিখছনা কেন এবং তার দিকে তাকাচ্ছ কেন? নিলয় ইতস্থিত বোধ করে বলল যে কিছুনা ম্যাডাম, এমনিতেই তাকাচ্ছি। শিক্ষিকা তাকে বলল যে তুমি তাকনো বাদ দিয়ে প্রশ্নের উত্তর লিখ। নিলয় প্রশ্ন পত্রের দিকে তাকাতে থাকে এবং প্রশ্নের উত্তর গুলো লিখতে থাকল। লিখার মাঝে তার কিছু কিছু ভুল হতে থাকে এবং সে পুণঃ পুণঃ সে ভুল গুলোকে ঠিক করতে থাকে। এভাবে তার লেখার মধ্যে কিছুটা ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়। পরীক্ষা শেষে নিশি তাকে ডাক দিয়ে বলে যে, তুমিকি আজও বলবেনা যে তুমি আমার দিকে তাকিয়ে কি এত ভাব? নিলয় তার প্রশ্নের উত্তর দিতে সেদিনও পারেনি। তারপর একদিন নিশি মনে করল যে আজকে আমি তার কাছ থেকে উত্তর নিয়েই ছাড়ব। নিশি সকাল বেলা গোসল করে ফ্রেস হয়ে যথারিতি নিয়মে কলেজে গেল। নিশি মাঝে মাঝে রিকশায় করে এবং মাঝে মাঝে পাঁয়ে হেঁটে কলেজে যেত। নিলয় সেদিন পায়ে হেঁটে কলেজে গেল। কলেজে তার যেতে একটু দেরি হয়েছিল; সে ক্লাস রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকল, শিক্ষক তার দিকে তাকিয়ে বলল যে, তুমি ভেতরে এসো। নিলয় তখন ক্লাস রুমের ভেতরে প্রবেশ করল। ক্লাস রুমের ভেতরে প্রবেশ করার পর, সে আবারো নিশির দিকে তাকিয়ে থাকল। শিক্ষক তাকে বলল যে “তুমি দাড়িয়ে কি দেখছ, যাও বেঞ্চে বস”। নিলয় বেঞ্চে গিয়ে বসল। সে ক্লাসটি ছিল ইংরেজী ক্লাস। নিলয় ইংরেজীতে খুব ভাল ছিল এবং সে শিক্ষকের সাথে ইংরেজীতে কথা বলতে পারত, সেজন্য শিক্ষক তাকে খুব পছন্দ করত। নিশি অপর প্রান্তের বেঞ্চে বসে বসে কিছু একটা ভাবছিল। নিলয় তার দিকে ফিরে তাকাল, নিশিও তার দিকে ফিরে তাকাল। এবার দুজনে দুজনার দিকে তাকিয়ে থাকল কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলতে পারল না। ক্লাস সেশে দুজনে বাইরে বের হল। নিশি নিলয়কে জিজ্ঞাসা করল যে তুমিযে আমাকে ভালবাস এইকথাটি বলতে পারছ না কেন? নিলয় উত্তর দিল আমিযে তোমাকে ভালবাসি এটা তুমি বুঝলে কেমন করে? নিশি বলল যে তুমি মনে করযে আমিকি কিছু বুঝতে পারিনা? নিলয় বলল যে এই বুঝাটাই আমার কাছে কখনও বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। নিশি বলল কেন বোঝা হয়ে দাঁড়ায় সেটাকি আমাকে ভেঙ্গে বলা যাবে না? নিলয় বলল অবশ্যই বলা যাবে, তাহলে এবার আমার জীবনের একটি কাহিনী শোন; আমি একটি মেয়েকে খুব পছন্দ করতাম সে মেয়েটির নাম ছিল সুমা। সুমা আমাকে মন দিয়ে ভালবাসত কিনা যানিনা। তার সাথে আমার দীর্ঘ দিনের চলাফেরা ছিল। একবার সে আমার একটি ছোট কথায় রাগ করে কিন্তু আমি সেরকম কোন কথাই তাকে বলিনি। তার পর দেখলাম যে, সে কিছুদিন পরে অন্য জনকে ভালবাসতে শুরু করে এবং সে আমাকে দুরে ঠেলে দেয়। তার পর সে ছেলেটির সঙ্গে তার বিয়ে হয়ে যায়, তাই আমি কাউকে ভালবাসতে ভয় পায়। নিশি বলল আমার ব্যাপারে এরকম কিছু তুমি মনে করনা, কেননা আমি তোমাকে মনথেকে ভালবাসব এবং আমি আমার হৃদয়ের কঠরতা দিয়ে নয় বরং কোমলতা দিয়ে তোমার এই হৃদয়ের ক্ষতকে চিরতরে মুছে দিব। নিলয় বলল, তুমিকি তা পারবে? নিশি বলল যে, অবশ্যয় পারব, তুমি দেখবে যে তোমার মন থেকে সেগুলো মুছেগেছে, তুমি শুধু আমাকে মন দিয়ে ভাল বেস। নিলয়ের চোখ বেয়ে আস্রুবিন্দু গরাতে থাকে, ঠিক এমনি সময় নিশি তার হাত দিয়ে আস্রুবিন্দু গুলো মুছে দেয় এবং বলে তুমি আর কেঁদনা, আমাকে খুব খারাপ লাগছে। তার পর নিলয় এবং নিশি উভয় উভয়কে ভালবাসতে লাগল। দুজনে প্রত্যহ এক সঙ্গে কলেজে আসত এবং ঝালমুড়ি খেত। উভয়ের বয়স আসতে আসতে বাড়তে লাগল এবং তার পর তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, তারা বিয়ে করবে। তারা দুজনে সিদ্ধান্ত নিল যে তারা তাদের বাবা-মাকে জানাবে এবং যথারীতি তারা জানাল। তাদের বাবা-মা তাদের কথাতে সম্মত হল এবং কিছুদিন পর তাদের বিয়ে হয়ে গেল। নিশি ও নিলয় উভয়ে সুখে-সান্তিতে বসবাস করতে লাগল।
এভাবে তারা তাদের হৃদয়ের কোমলতা দিয়ে দুজন দুজনাকে আবিষ্ঠ করে রাখতে লাগল।

নাম করনের সন্ধি বিচ্ছেদঃ-
নিশি= নিশা + ই
নিশা= রাত্রি
ই= তুমি।



এই গল্পটি সম্পূর্ণ কালপনিক।