আমার এই জল শহরে এখন নোটিশ করে ঝমঝম বৃষ্টি হয়
একেবারে রুটিন মাফিক, সুবেহ সাদিকের একটু আগে থেকে;
যখন ঘুম পরীরা সব জাতের ঘুম নিয়ে একসাথে হাজির হয়,
ঠিক তখন; যখন কামরাঙার গতর বেঁয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে পড়ে
আদুরী বৃষ্টির আদর; সে আদর নিতে আমার খুউব ইচ্ছে করে!!


আমার এই জল শহরে এখন সারাদিনই ঘুম পাড়ে বিন্দুবাসিনী
বৃষ্টির ফোঁটা; যেমন করে ঘুম পাড়ে মাতাল চাঁদ, তেমন করে;
মাতাল চাঁদের যেমন কোনো ঘর লাগে না, দুয়ার লাগে না;
তেমনি তারও কোনো ঘর লাগে না, তারও কোনো দুয়ার লাগে না,
যেখানে সেখানে কাঁচা-পাকা বাঁশের মাদুর পেতে সে ঘুমিয়ে পড়তে
পারে; আমারও তার মতো ঘুমাতে খুউব খুউব ইচ্ছে করে!!


আমার এই জল শহরে এখন সারাক্ষণ পা ধুয়ে দেয় কবিতা জল,
তাদের কেউ কেউ আবার একহারা মন্ত্রপূত; ড্রেন গলিয়ে,
নর্দমা ভিজিয়ে তবেই তারা শুদ্ধ হয়েছে; অনেক মূর্খ মাছি আছেন,
যারা সন্ন্যাস জীবনের বর্ণমালা কিছুই জানেন না, তবুও তাদেরকে
ব্রতচারী বলে গাল মন্দ করেন!
এমন গালমন্দ শুনতে আমারও খুউব খুউব ইচ্ছে করে!!


আমার এই জল শহরে এখন মশার পেটের ভেতর দিয়ে নৌকা চলে,
খানাখন্দে ঘুরে বেড়ায় শিং, মাগুর, কৈ; যৌবন জ্বালায় পোয়াতি
মেঘেরা অস্থির হয়, কারো কারো পোয়াবারো হয়, কারো কারো তেরো;
মাঝে মাঝে সবকিছুকে সাগর মনে হয়, বৈভব বাড়িয়ে দেয় হৃদয়ের
ঘেরো, শ্রান্তি আর ভ্রান্তির বেড়াজালে স্বপ্ন আঁকে ডুমুরের ফুল;
আমার এই জল শহরে ডুমুরের ফুল হতে খুউব খুউব ইচ্ছে করে-!!