প্রত্যেকটি শিশুই আগামী দিনের কর্ণধার।তাই তাদের স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ করে দেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।যে শিশুটি তার কাজিনকে দা নিয়ে দৌড়ায় সে শিশুই কৈশোরে দুরন্ত হয়ে উঠে।রাগ ভালবাসা আবেগ সবই বজায় থাকে। তবুও বাবা মায়ের সাহচার্যে ঠিকই মৌলিক শিক্ষাটা পেয়ে থাকে।তাইতো বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েও রেল স্টেশনে এক হতভাগা মায়ের চার বছরের শিশু সন্তান হারানোর কান্না দেখে নিজের মায়ের কথা মনে করে আবার বাড়ি ফেরার জন্য পাগলের মতো দৌড়াতে শুরু করে সুমন।সুতরাং গল্পটি বিষয়ের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই আমার মনে হয়েছে ।বাকীটা বিবেচনার ভার পাঠকদের কাঁধেই রইলো।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ১৯৮৩
গল্প/কবিতা: ২৮টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - শিশু (সেপ্টেম্বর ২০১৯)

বাড়ি ফেরা
শিশু

সংখ্যা

মাইনুল ইসলাম আলিফ

comment ২  favorite ১  import_contacts ৩৬
এক
সুমন তখন আড়াই তিন বছরের শিশু।তার মায়ের কাছে শোনা গল্প , সে নাকি তার এক কাজিন কে দা নিয়ে তাড়া করেছিল । আসলে সে কিন্তু এমন নয়। অনেকের গল্পই হয়তো এমন কিছু দিয়ে শুরু হয় , তারপর কৈশোর !
কি যে দুরন্তপনায় কাটে, সে তো কল্পনার অতীত।

সুমনের বয়স তখন দশ বছর । হৈ হুল্লোড় করে পাড়াটাকে মাতিয়ে রাখা ছিল তার দুরন্তপনার সাধারণ গল্প ।
পাড়ার ছেলেদের নিয়ে খেলার দল বানানো , মিছেমিছি চোর পুলিশ খেলা , ছানাভাতি খেলা , জোলাভাতি খাওয়া , দৌড়াদৌড়ি , পলাপলি , পুকুরে গোছল করা কিংবা গাছে উঠা বাদ যায়নি কোন কিছুই ।
সাহেব বাড়ীর পকুরে গোছল করতে গিয়ে কখন যে এক দেড় ঘন্টা পার হয়ে যেতো টেরই পেতো না সুমন।
পাড় থেকে লাফালাফি , কলা গাছের ভেলা বানিয়ে তাতে চড়া , উল্টা সাতার কাটা , সাতার কেটে এপার থেকে ওপারে যাওয়া এসব ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী।

গাছে চড়তে ভীষণ ভালোবাসতো সে । আম জাম সুপারি পেয়ারা কিংবা খেজুর গাছ সবটাতেই চড়তে জানতো সে । বিশেষ করে আমের মৌসুমে সে নিয়মিতই আম গাছে চড়তো ।
কারণ আম তার অন্যতম প্রিয় ফলের একটি। কখনো কখনো ছুরি আর লবণ নিয়ে গাছে চড়ে বসতো সে।
গাছের ডালে হেলান দিয়ে বসে কাঁচা আম কেটে কেটে খেতো।
সেই গাছে চড়াই বুঝি কাল হলো তার!

দুই
একদিন হঠাৎ গাছ থেকে পড়ে গিয়ে দুই হাত ভেঙে গেলো । হাত এমন ভাবে ভাঙলো যে , হাতের চামড়া ছিড়ে হাড় বেরিয়ে গিয়েছিল।
হায়! হায়! সর্বনাশ! " মরছে গো মরছে " এই জাতীয় কথা বলতে বলতে দৌড়ে এলো সুমনের মা , ফুপি আর দাদী।
তারপর দু মাস কাটাতে হলো পংগু হাসপাতালের বিছানায়।
চার চারটি অপারেশন হলো।
সবাই ভেবেছিল সুমনের দুটি হাতই কেটে ফেলতে হবে ।
কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে শেষমেষ তা আর করতে হয়নি। সুস্থ হয়ে তবেই বাড়ি ফেরে সুমন।কিন্তু একটা হাত সামান্য বাকা রয়ে যায়। এটুকুই অসামঞ্জস্য আগের সুমন আর এখনকার সুমনের মধ্যে।
গাছে উঠা কমেছে বটে, দুস্টুমি আর খেলাধুলা এতটুকু কমেনি । সে এত বেশি খেলায় মজে থাকতো যে সুমনের দাদী মাঝে মাঝে ওকে বলতো " টুন্ডারে টুন্ডা! লেহাপড়া যে করছ না খাবি কি কইরা ? কামলা খাইডা যে খাবি, তার জো ও তো রাহছ নাই , হাত দুইডা থুইসছ ভাইংগা "
টুন্ডা কথাটা শুনে খুব কষ্ট পায় সুমন।বিষন্ন চোখে বেদনা ভরা মন নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে সে।খোলা মাঠকে সামনে রেখে একাকী দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার পাশে সারি সারি তালগাছের নিচে।
সবুজ মাঠের খোলা হাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে সে , যেন এক বুক কষ্ট নেমে গেলো আর নিজেকে হালকা মনে হতে লাগলো ।
ভাঙা হাত নিয়েই রোল নয়ে থাকা সুমন ক্লাস ফাইভে উঠলো ফার্স্ট হয়ে।

তিন
অভাবের সংসারে ছেলেমেয়েদের খাওয়া পড়ার খরচ যুগিয়ে লেখাপড়া চালানো মোটেও সহজ কথা নয় । তাইতো চারশো পাঁচশো
টাকা মাইনে পাওয়া বাবা নোমান উল্লাহ মাঝে মাঝেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন । ক্ষেতের মুলা টমেটো গাছের তাল সুপারি বিক্রি করে বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে কোন মতে দিনাতিপাত করেন ।

মা জোহরা বেগম বাড়ির আশেপাশের ঝোপঝাড়ে জন্মানো কচুশাক, কচুর লতি,পুকুরের মালঞ্চা শাক কচুরিপানার ফুল কুড়িয়ে এনে রান্না করে করে সংসারের খরচ বাঁচান।
সুমনের দুঃসম্পর্কের চাচার ক্ষেতে মাঝে মাঝে মুজুরি খাটতেন নোমান উল্লাহ । সুমন তখন ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়েছে থানার একমাত্র সরকারি পাইলট স্কুলে ।
সবার চান্স জোটে না ওই স্কুলে । ভাল ছাত্রদের ঠিকানা ছিল ওই স্কুল । আর ওখানে যারা পড়তো , সবাই ওদের বেশ সমীহ করতো।
বাবার সাথে মুজুরি খাটতে সুমনকেও তার বাপ ভাইয়ের সাথে যেতে হতো।
সকাল সকাল কাজ সেরে এসে আবার স্কুল।স্কুল থেকে এসে আবার কাজ।
রাতে পড়াশুনা।এভাবেই চলছিল সুমনের সাধারণ জীবন।
বিপত্তি বাধে অন্য কোথাও , ছোট ভাইয়ের সাথে রোজ ঝগড়া লেগেই থাকতো সুমনের।ওদের ঝগড়ায় বেশ রেগে যেতেন ওদের বাবা নোমান উল্লাহ। রেগে গিয়ে তেড়ে আসতেই ওরা পালিয়ে যেতো।
মজার ব্যাপার হলো , পালিয়ে গিয়ে দুই ভাই ঝগড়া ভুলে এক হয়ে যেতো । দুজন মিলে ক্ষেতের কাঁদাজল গায়ে মেখেই সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতো । তারপর সন্ধ্যে হলে ঘরের পিছনে লুকিয়ে থাকতো । কখনো কখনো আড়ি পেতে শুনতো , কি বলছে বাবা মা!
বইয়া রইছে ক্যা ? যাইয়া দেহোন যায়না কই গেলো পোলা দুইডায় ?

হ অনেক রাইতই তো হইল ! কই , কি দ্যাখতাম কওছে ? প্রত্যেক দিনইতো এরহম করে ওরা।পাইছেডা কি ? আজকা আসুক ফাযিল দুইডা বাইরাইয়া পিডের চামড়া উডাইয়া লামু।
বাবা মায়ের কথোপকথন ওরা বেশ এনজয় করে।
ইমন আবার কিছুটা ভয়ও পায় । সুমনকে বলে,ভাইয়া বাবা খুব রাইগগা আছে , গেলে মারবনে । সুমন ইশারায় চুপ করতে বলে ইমনকে।
তারপর ভয়ে ভয়ে আস্তে আস্তে ঘরে ফিরে দুজন।
মা জোহরা বেগম কোরআন শরিফ পড়ছিলেন ।তাই পড়ছেন । কিছুই বলেন নি । বাবা নোমান উল্লাহ মারবেন বললেও মারেন নি ? শুধু জিজ্ঞেস করলেন , আর কহনো এমুন করবি তরা ?
দুজন সমস্বরে বলে উঠলো , না বাবা আর করমুনা ।
এরপর আর পালায়নি বটে কিন্তু ঝগড়া একদিন দুদিন পর পর লেগেই থাকতো।
সুমন ক্লাস সেভেন পাশ করে ক্লাস এইটে উঠেছে সবে । একদিন ছেলেদের এই ঝগড়ার জের ধরেই মা জোহরা বেগম ছোট মেয়ে নদীকে নিয়ে ঘরবন্দী হলেন।
ঘোষণা দিলেন ঘর থেকে বের হবেন না , কিছু খাবেন না , গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করবেন।
সুমন আর ইমন এসে যখন দেখলো মা ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে আছেন, তখন সুমন জানালার কাছে এসে দাড়ালো , পাশে ছোট ভাই ইমন।
ভয়ে বুক ধুকপুক করছে ।
ইমন নিশ্চুপ । সুমন ডাকলো , "মা"
মা কোন সাড়া দিলেন না ।
সুমন আবার ডাকলো " মা....."
এবার সাড়া দিলেন মা জোহরা বেগম । বললেন, তরা ডাকিছ না আমারে , তরা তো মানুষ হবি না । অমানুষের মা হইয়া বাইচা থাহার চেয়ে মইরা যাওয়া ভালো। আমি আত্নহত্যা কইরা মরমু।তরা তগো মতন থাহিছ , প্রত্যেকদিন ঝগড়া করিস কেউ না করবো না ।
মায়ের কথা শুনে কাঁদতে শুরু করলো সুমন ।নির্বাক ইমন অপলক চেয়ে রইলো ভাইয়ের দিকে।

জোহরা বেগমের শাশুড়ি , জা এসে অনেক রিকোয়েস্ট করলেন , কিন্তু কারো কোন কথাই শুনলেন না জোহরা বেগম ।
ঘন্টা দুয়েক মা...মা করে , " মা আর কখনো ঝগড়া করবো না " এই কমিটমেন্ট করার পর তবেই মা জোহরা বেগম ঘরের দরজা খুলে কাছে টেনে নিলেন দুই সন্তান কে।যতই বকা ঝকা করেন না কেন মা তো সন্তানকে হৃদপিন্ডের মতোই মনে করেন।তাইতো আদরের সাথেই আরবি পড়ান , বাবার সাথে নামাজ পড়তে নিয়ে যান।বড়দের সম্মান আর ছোটদের স্নেহ করতে যে শিক্ষা দেয়া দরকার তার সবটাই প্রাণপনে দেয়ার চেষ্টা করেন বাবা আর মা দুজনই।

চার
পড়তে মন চায় না সুমনের। খেলার দিকে ঝোক বেশি । মাঝে মাঝে মায়ের হাতে খুব মার খায় সুমন। খেলতে বারণ করলেই মন খারাপ করে । কাঁদতে কাঁদতে চোখ লাল করে ফেলে ।
" সবাই খেলতে যাইতে পারে , আমি গেলে কি সমস্যা ? কেউ আমারে দেখতে পারে না " কাঁদতে কাঁদতে এমনটাই বলে উঠে সুমন ।
ততদিনে ক্রিকেট ফুটবলে অভিষেক হয়ে গেছে সুমনের । ওর খেলার পরিধি এখন আরো বড় ।
মাঠে গিয়ে খেলতে শুরু করেছে । খেলেও ভাল।
বাড়ির উঠোনে খেলবে বলে একটা ব্যাট বানিয়েছিল । দা দিয়ে কাটা কাঠের ব্যাট ।
সব ছেলেরা যখন কেনা ব্যাটে খেলে সুমন আর ইমন খেলে এই বানানো ব্যাটে ।
আর এই ব্যাটটাই একদিন সুমনের বড় ভাই লিমন কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিল । যে কিনা খেলা মোটেই পছন্দ করতো না ।
খুব কষ্ট পেয়েছিল সুমন । ফুপিয়ে ফুপিয়ে অনেক কেঁদেছিল সে। মা জোহরা বেগম বড় ছেলেকেই সাপোর্ট করলেন " ঠিকই করছে , দেহি এখন কি দিয়া খেলে ? সারাদিন খালি খেলা আর খেলা। খেলোয়াড় অইছে । কয় টেহা কামাই করসছ ব্যাট খেইল্লা?
মন খারাপ করে বাইরে চলে যায় সে । একাকী হেঁটে হেঁটে অনেক দূরে চলে যায় ।
মনটাকে শান্ত করার চেষ্টা করে সে । মাঝে মাঝে ভাবে , দূরে কোথাও চলে যাবে সে ।
সুমন বেড়াতে খুব ভালবাসতো । তাই সে মাঝে মাঝে ফুপুদের বাড়িতে বেড়াতে যেতো । অনেক সময় ওখানে গিয়ে কাজ করতে হতো তবুও সে বেড়াতে যেতো । আবার অনেক সময় রাগ করে চলে যেতো । কিছু দিন কাটিয়ে তবেই ফিরতো ।
ফুপুদের বাড়িতে বেড়াতে গেলে খবরটা বাড়িতে পৌঁছে যেতো । তাই বাড়িতে কোনো চিন্তা করতো না।
সুমন তখন ক্লাস টেনে পড়ে। ছয় সাত মাস বাকি এসএসসি পরীক্ষার । একদিন বিকেলে বাড়ির বাইরে রাস্তায় পায়চারি করছিল সুমন । হঠাৎ একটু দূরে কাউকে হেঁটে আসতে দেখে । খুব সুন্দরী না হলেও চেহারার দ্যুতিময় আভায় আর কাজলা চোখের মায়ায় পরীর মতো লাগছিল মেয়েটাকে ।বুকের ভেতরে কেমন একটা শিহরণ জাগিয়ে গেলো! জীবনে এই প্রথমবার ।

মেয়েটা সুমনের দুঃসম্পর্কের এক ফুপুর মেয়ে বৃষ্টি ।
ক্লাস এইটের বৃত্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলো । সপ্তাহ খানেক ছিল । চলেও গেছে। এর আগে বেশ সাবলীল ছিল যার সাথে । গল্প , আড্ডা , খেলাধুলা করতো যার সাথে ছোটবালায় । সেই মেয়েটির সাথেই এবার কেমন লজ্জা লজ্জা ভাব ছিল । যদিও বলার মতো তেমন কোন কথাও হয়নি শুধুমাত্র প্রথম দিনের শিহরণ জাগানিয়া ফার্স্ট লুকটা ছাড়া।

পাঁচ
স্কুল থেকে পিকনিকে যেতে চেয়েছিলো সুমন । টাকা চেয়ে পায়নি , তাই আর যাওয়া হলো না । অভাবের দোষে আক্ষেপে পুড়েছে , লাভ আর কিছুই হয়নি ।
এসএসসি পরীক্ষা শেষ ।
অসুখ নিয়েও ফার্স্ট ডিভিশনে পাস করেছে সুমন ।
সেবার আশেপাশের দু তিন গ্রামের ষোলজনের দুজন মোটে পাশ করেছিল। সুমন তাদেরই একজন। অন্যজন পেয়েছিল সেকেন্ড ডিভিশন ।

কলেজে ভর্তি আর বইয়ের জন্য চাচার কাছে হাত পাততে হয়েছিল । আবেগী সুমন লজ্জায় মাথা সোজা করতে পারেনি । কিন্তু করার ছিলনা কিছুই।

পড়ার মতো তেমন ভাল কোন জামা কখনোই ছিল না পাঁচ ভাই বোনের কারোরই ।
তবু্ও ইচ্ছে হয় সুমনের ,ভাল প্যান্ট কিংবা শার্ট পড়তে।
একদিন চাচার দেয়া পাঁচশো টাকা খরচ করে প্যান্ট আর শার্ট কিনে আনে সুমন । টাকাটা ওর খরচের জন্যই দিয়েছিল চাচা । কিন্তু তবু্ও মায়ের বকুনি শুনতে হয় সুমন কে । কারণ অভাবের সংসারে মা জোহরা বেগমের আর কোন উপায় থাকেনা ।
বড়লোহী কারবার ! খাওন জোডে না প্যান শাট পিনতে আইছে জমিদারের পোলা । খাওন নাই আজকাততে । দেহি প্যান শাটে পেট ভরেনি ?
মনটা বিষিয়ে উঠে ।
বাড়িতে আর মন টিকছে না । অসহ্য লাগছে । কেউ ওকে দেখতে পারে না । ওর বেঁচে থেকেই বা লাভ কি ?
দূরে কোথাও চলে যাবে সে । মা বাবা ভাই-বোন সবাইকে ছেড়ে সে চলে যাবে অনেক দূরে ।
নতুনগুলো রেখে পুরোনো প্যান্ট শার্ট পড়েই বেরিয়ে পড়ে সুমন । বন্ধুর বাসায় রাত কাটিয়ে পরদিন চলে যায় এয়ারপোর্টে । দুদিন কাটিয়ে ভাবে , সিলেট না হয় চট্টগ্রাম চলে যাবে সে ।
এদিকে সুমনকে খুঁজতে হন্যে হয়ে ছোটে মা জোহরা বেগম। বড় মেয়ে যুথি সুমনের বন্ধুর বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে , এসেছিলো। কিন্তু কোথায় গেছে তা আর জানতে পারেনা। তাই ব্যর্থ হয়েই ফিরতে হয় যুথিকে।
সংসারের টানাটানির কারণেই বড় বোনটা লেখাপড়া করেছে মামা বাড়ি থেকে।মাস ছয়েক হলো ফিরেছে বাড়ি।

ছয়
হাতে একশো টাকা ছিল । তাও প্রায় শেষ ।
সবে কুড়ি টাকা আছে ।
একটা পাউরুটি কিনবে বলে ভ্রাম্যমাণ হকারের কাছে গিয়ে দাড়ালো সুমন।
হঠাৎ পাশেই একটি জটলা দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলো সে । কি হয়েছে ? খোঁজ নিয়ে সে জানতে পারে এক মহিলা তার চার বছরের একটা শিশু সন্তানকে হারিয়ে ফেলেছে । তার সাথেই ছিল। কিন্তু কোথায় কিভাবে হারালো , মহিলা কিছুই বলতে পারছে না । শুধু হামাগুড়ি দিয়ে , মাটি চাপড়ে বলছে , আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও । আমার খোকা , আমার মানিক কে ফিরিয়ে দাও।

সুমনের মাথাটা ঘুরছে ।
আমার মা...। আমার মা....
কথাটা বলেই দৌড়াতে শুরু করলো সুমন ।
দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত সুমনের ঘাম ঝরছে ঝর ঝর করে ।
পাগল নাকি ছেলেটা ? এক পথচারীর কন্ঠের আওয়াজ।
উত্তর দেবার ফুসরত নেই।
সুমনের পথ আর শেষ হতে চায় না।
নিজের ভেতরেই প্রশ্ন নিজেকে , বাড়ির পথ আর কতদূর ?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement