হাজার কথার ভীড়েও আদ্রিতাকে আমার
অনেক কথাই হয়নি বলা।
কিছু কথা অনুরাগের, বাকীটা আক্ষেপের।
তবুও জীবন, ধাবমান সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে
নির্বাক শব্দ স্রোতে।

স্মৃতি যখন স্বজোড়ে পিঠ চাপড়ে দেয়,
দীর্ঘশ্বাসের ভাঁজে কি যেন হয়!
আচমকা উদাস, এক বিকেল নীলে হারিয়ে ফেলা স্বপ্নের,
এক আকাশ নক্ষত্রের ছন্দপতন।
তবুও এক রাত্রি স্বপ্নের সাথে আমার নির্জন সহবাস।

তোমার নিটোল কপোল গড়ানো অশ্রুতে,
আমিও প্লাবিত হয়েছিলাম।
কোমলতায় হয়তো আমিও কম যাই না-
তবুও তোমায় সেদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।
অথচ এখনো বুকে ক্রমাগত হাহাকার।

কোমলতার কথাই যখন বলছি-
কোমলতা আবেগের পুরোটা মূল্যের শোধ দিতে পারেনা।
পারে শুধু হৃদয়ের বরফ গলিয়ে, জমাট মেঘ
বৃষ্টি হয়ে ঝরাতে।
কাঁটাতার পেরিয়ে সীমান্তটা আর পাড়ি দেয়া হয়না।
যেমনি ষোল না পেরোনো গুলনাহার ঠেকাতে পারেনি
মিয়ানমার সেনাদের অরোধিত বীর্যের নিষিদ্ধ অনুপ্রবেশ।
কিংবা রোহিঙ্গা বশিরের বুকের রক্তক্ষরণে লেখা শেষ চিঠি
পৌছে না প্রিয়তির কাছে।
কিন্তু তবুও আবেগ নাড়া দেয়,কোমলতার পেলবতায়
জেগে উঠে হৃদয়ের সবুজ বৃক্ষরাজি।

আমি, পা কাটা নিরক্ষর নিজাম,
নদী ভাঙনের শিকার নিঃস্ব নিরঞ্জন,
ফুটপাতে শুয়ে থাকা অনাথ আজগর আলী
কিংবা নর্দমার পাশে পরিত্যক্ত কম্বলে ভাঁজ হয়ে থাকা
টোকাই টুকুকে দেখে মনটাকে ভেজাতে পারি
আষাঢ়ে না হয় শ্রাবণে।
কিন্তু আবেগের বাজারে ,
স্বার্থের চড়া দামে আবেগ মূল্যহীন।

আমি না পাওয়ার কষ্টের রঙে ,
আদ্রিতাকে আঁকতে চাইনা ।
আক্ষেপের গল্পে আমি মেলাতে চাইনা আদ্রিতা কিংবা
আদ্রিতার অহেতুক স্মৃতি রোমন্থন।
আমি আবেগের মূল্য দেয়া শিখতে চাই
স্বার্থের গৈরিক শূন্যতায়।
শক্তি আমার,কোমলতায় ভিজে উঠা মন।