অনেকদিন দেখিনা সেই খরশোলা,
সকালে সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে ওঠা
তার চোখ, যেন মাথা থেকে ঠিকরে
বের হওয়া এক রূপোলী আলো। শান্ত নদীতে
ওঠা ছোট ছোট ঢেউ কিংবা মাছরাঙ্গা-
গাংচিলের ভয়ে ডুব দেওয়া অদৃশ্য মাছ ;
এখন আর শুশুকের মত ওঠে না জেগে।
ঝাঁক বেঁধে চলা সেই খরশোলা ছিল ,যেন
মামাবাড়ি বেড়ানো ছেলেমেয়ের দল।

আজ বহুদিন হয় দেখিনা সেই খরশোলা;
না যমুনায়, না বড়ালে , না হুরাসাগরে।
আজ মামা বাড়ির পাশ দিয়ে যাই আমি
হয় না মামা বাড়ি যাওয়া, নাই অবসর।

আমার মত খরশোলারাও হয়তো ভুলে গেছে
ওদের মামাবাড়ি,শৈশবের উজান ছুটে চলা।
অথবা আজ ওরা হারিয়ে গেছে নীলকণ্ঠ বিষাক্ত নদীতে।
কোনদিন আর হয়তো দেখবো না, দেখবে না
আমার সন্তান কোনদিনই পৃথিবীর আলোয়
সেই খরশোলা, একঝাঁক ধুসর ভয়ার্ত মাছ ;
হুরাসাগরে বা ইছামতী অথবা বড়ালে ;
না যমুনা-সুরমা-কীর্তন খোলায়।




( বি. দ্রু: খরশোলা এক ধরনের মাছ ,যাদের সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মত শৈশবে সখ্যতা ছিল। অনেক অনেক সময় চলে গেছে খরশোলার সাথে, মাছধরার সাথে। )