লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩
গল্প/কবিতা: ৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৬

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftনতুন (এপ্রিল ২০১২)

নতুন আলোর বৃত্তে
নতুন

সংখ্যা

মোট ভোট ১৬

মালঞ্চ

comment ১০  favorite ০  import_contacts ৮১২
কোথা হতে আসো বন্ধু
কোথায়ই বা যাও?
আমাকেও নিয়ে যেতে পারো তো?
ঘুরে আসি তোমাদের গ্রাম
জেনে আসি সে গ্রামের নাম…
সে কি বড় বেশী দূর,
এ-এ-ক রাত পরে আসো নিয়ে রোদ্দুর!
এই সোনামাখা রোদ
তার কতখানি দাম?
পারবো না দিতে জানি
তবু হাতছানি দেয় ঐ নীল সরণী…
যদি পারো-
লিখে রেখো বুক জুড়ে
আমার এই…তুচ্ছ মনোস্কাম……

মাসিমণি… একটা মিষ্টি ডাকে চোখ তুলে দেখি, বৃষ্টিস্নাত স্নিগ্ধ সূর্যের মতই দ্যুতি ছড়িয়ে তিতলি দাঁড়িয়ে। হাতটা বাড়ানো, হাতে ধরা একটা কাগজ। আমি হেসে বললাম- আজই লিখেছিস? ধীরে ঘাড় নাড়লো ও। নামটা তিতলি হলেও মোটেই ছটফটে নয়। ভালোনাম যদিও আমারই রাখা, বড় প্রিয়… সূর্যতপা। সূর্যের সঙ্গে কোথায় যেন ওর নাড়ীর যোগ। নামটা এতো সার্থক হবে ভাবিনি কখনও!

আজও প্রতিদিন মর্নিং ওয়াক সেরে ফিরে আসার সময় দেখি তখনও ও ছাতে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে ঐ স্বর্ণগোলকটা দেখছে। তার পরতে পরতে রঙ বদল, গাছগাছালির সবুজ মায়া, পাখপাখালির কূজন যেন ওর মগ্ন চেতনায় অবচেতনে মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে। ছোট্টবেলা থেকেই ওর এই অভ্যেস। ও যে লেখে এটা জানতে পেরে একদিন ওকে বলেছিলাম- কি লিখিস প্রতিদিন? লজ্জায় লাল হয়ে বলেছিল- এমন কিছু নয়, দেখানোর মত না। বলেছিলাম- বেশ তো, যা লিখিস তাই নাহয় দেখাস। তোর অনুভব, তোর ভালোলাগা খাতার পাতায় লিখে রাখিস এটাই বা কম কি? তারপর থেকেই কিছু লিখলে আমাকে দেখায়। ওর মনের নানা রঙের নানা মাত্রিক অনুভবকে কচি মনের কচি হাতে পাতার পর পাতা ধরে রেখেছে। সবসময় সেগুলো যে কবিতা তা হয়ত নয় কিন্তু শিশুবেলা থেকেই ও যে কতখানি কল্পনাপ্রবণ ও সেই কল্পনার জগৎ কতখানি সুদূর প্রসারিত তা ওর কবিতা পড়লেই বোঝা যায়।

একদিন কথা প্রসঙ্গে ওর মাকে একথা বলতেই বিষন্ন হেসে বলল- আর কবিতা… সেই যে আপনি শিখিয়েছিলেন “ভোর হল দোর খোল খুকুমণি ওঠো রে”, তারপর থেকেই তো মেয়ে ঘুম থেকে উঠেই সটান চলে যায় ছাতে আর বিড়বিড় করে কবিতার মত কি যেন বলে আর পড়তে বসে আগেই সেগুলো খাতায় লেখে! সেই ওর লেখা শুরু। আপনাকে আর নতুন করে কি বলবো দিদি, আপনি তো সবই জানেন্, ওর বাবার চাকরীটা চলে গেল। এই অবস্থায় ওর পড়াশুনার কি হবে তা ঈশ্বরই জানেন, তার আবার কবিতা।

আমি সবই জানি, তাইতো ওর পড়াশুনার দায়িত্বটা আমিই তুলে নিয়েছিলাম। এমনিতে পড়াশুনায় যথেষ্ট ভালো তার উপর নম্র ও বাধ্যও। ওকে পড়াতে আমার কোন কষ্ট করতে হয়না। আর আমার কাজই বা কি, ওকে পড়িয়ে বরং সময়টা ভালই কাটে।

সত্যিই ওদের খুবই অভাবী সংসার। তিতলি এখন একটু একটু করে ১৫ই পা দিয়েছে। সামনেই মাধ্যমিক। এসব ভাবতে ভাবতেই আমি হাত বাড়িয়ে কাগজটা নিয়ে বললাম- পড়া করেছিস তো, না শুধুই কবিতা লিখেছিস? যদিও জানি, এ শুধু প্রশ্নের জন্যই প্রশ্ন। তাতেও ও ছোট্ট করেই ঘাড় নাড়লো শুধু। হঠাৎ আমার মনে হল, ও আজ একটু বেশিই চুপচাপ! কিন্তু জিজ্ঞাসা করেও কিছুই জানতে পারলাম না। পারিবারিক কোন সমস্যা ভেবেই আমিও আর কোন জোর করলাম না। হাজার হোক এখন তো একটু বড় হয়েছে। এভাবেই দেখতে দেখতে একদিন ওর পরীক্ষাও এসে গেল, শেষও হয়ে গেল। আমার দেখেশুনে মনে হল, ভালভাবেই উতরে যাবে।

কিন্তু কিছিদিনের মধ্যেই আমাকে স্তম্ভিত করে দিল একটি খবর- তিতলির বিয়ে!! প্রথমে নিজের কানকেই বিশ্বাস করে উঠতে পারলাম না। আমার বাড়ির পাশে বাড়ি, আমার আত্মীয়সম, কন্যাসম… প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে যে কোন সমস্যা আমার সাথে আলোচনা করে, আর সেখানে ওর বিয়ের কথা আমি জানবো না, এও কি সম্ভব! আর এইতো মাত্র ১৫/১৬ বছরের মেয়ে, এইটুকু মেয়ের বিয়ে! কিন্তু সবই সম্ভব, গুজব নয়, সত্যিই তিতলির বিয়ে। ওরা নাকি ভাল পাত্র পেয়েছে যাদের কোন দেনাপাওনা নেই। সুতরাং এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা আর কি-ই বা হতে পারে।

এরই মধ্যে রেজাল্টও বেড়িয়ে গেল আর সবাইকেই দারুণ রেজাল্ট দিয়ে মুগ্ধও করল। কিন্তু মেয়ের মুখে তার কোন ছাপ নেই, কে যেন ওর স্নিগ্ধ স্বর্ণালী সৌন্দর্য আর দ্যুতিটাকেই ব্লটিং পেপার দিয়ে শুষে নিয়েছে। ওর বাবা-মা আমাকে অনেকরকম ভাবে কৈফিয়ত দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, আমি শুনতে চাইনি। ওদের অনেক সমস্যা সে তো জানিই কিন্তু তাই বলে এই বয়সেই ওর স্বপ্নকে এভাবে চুরমার করে দিতে হবে? আমি তো আমার সাধ্যমত ওর অনেকটা ভারই তুলে নিয়েছিলাম। কেই বা আছে আমার, ওকেই তো সন্তানের মত আঁকড়ে ধরেছিলাম আমার শূণ্য জীবনে। মাতৃত্ব কাকে বলে তাতো জানতে পারিনি, তিতলি আমার সেই অভাব অনেকখানি পূরণ করেছিল। ওর এই পরাজয় মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল আমার, বড্ড কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল- ওর নয়, আসলে পরাজয়টা আমার। ওর বাবা-মাকে কত করেই না বুঝিয়েছিলাম… কিন্তু ওরা বুঝিয়ে দিল, আসলে আমি ওর কেউ নই, কেউ নই!

ও হ্যাঁ, সেই যে কবিতাটা ও আমায় দিয়েছিল সেটাই ওর লেখা শেষ কবিতা ছিল। বিয়ের দিন পর্যন্ত আর কোন কবিতা লেখার চেষ্টা করেনি। বিয়ের দিন ওকে প্রবল বর্ষণে দলিত মথিত একটা ফুলের মতই দেখাচ্ছিল, যেন বিষাদ প্রতিমা! আমি একটা শেষ চেষ্টা করেছিলাম, হয়ত সান্ত্বনা। বলেছিলাম- তোর জীবনে হয়ত সত্যিই সূর্য উঠেছে তিতলি। তুই ঐ আলোটাকে চিনতে শেখ, দেখবি, তোর মনোস্কাম ঠিক পূর্ণ হবে। তোর আকাশকে তুই নিজেই ভরিয়ে তুলতে পারবি কবিতার সোনারোদে।

এরপর ওদের সাথে যোগাযোগ নেই অনেকদিন হল। মেয়ের বিয়ে দিয়ে মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটাকেও বিক্রি করে দিয়ে ওরা অন্যত্র চলে গেছে আমাকে একা, একদম একা করে দিয়ে। আর জানা হল না, ওর চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা যে নীল আকাশ, তার বুকে কবিতার সোনারোদে নিজেকে সেঁকে নিতে পেরেছে কিনা। কিন্তু কেন জানিনা, মনটাকে বিশ্বাস করাতে বড় ইচ্ছা জাগে। এরই মধ্যে বছর দুয়েক কাটতে চলেছে। তিতলির কথা অনেকখানিই ফিকে হয়ে এসেছে। আমার একাকী জীবনের একাকীত্ব অনেকখানি গা সওয়া হয়ে গেছে। আমার ভাই বিশ্ব আজও নিয়মিত আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে যে ওর অমূল্য সময় দিয়ে সপ্তাহে একদিন করে ওকে অংক বিজ্ঞান পড়িয়ে যেত। আমার উত্থান-পতনহীন দিনগুলো যেন গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যায়, সময় থামতে জানেনা তাই।


এর মধ্যেই হঠাৎ একদিন ডোরবেল বেজে উঠল। কী আশ্চর্য, আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, এই অসময়ে! কিছু যেন একটা স্বপ্নও দেখছিলাম… আমার চারপাশে যেন অজস্র আলো! এমন সময়ে কে! আজকাল শরীরে-মনে যেন ক্লান্তির পাহাড়! অনিচ্ছা সত্বেও উঠে বসে চোখ মেললাম। কিন্তু এ কে! নিজের চোখই নিজের সঙ্গে রসিকতা করছে কি! আমার কাজের মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়ে তিতলি! কিন্তু এ কেমন ক্লান্ত চেহারা, কোথায় যেন একটা বড় ছন্দপতন ঘটে গেছে! একসঙ্গে আমার মনে যেন প্রশ্নের ঝড় উঠল। কোনরকমে তাকে সামাল দিয়ে আমি প্রাণভরে আগে ওকে দেখতে থাকলাম। কেন যেন আমার দুচোখ দিয়ে বহু যুগ পরে ঝলকে ঝলকে জল চলে এল।

এতোক্ষণ তিতলিও যেন চুপচাপ আমাকেই দেখছিল। এবারে ও খুব শান্তভাবে আমাকে ধরে ওর পাশে বসালো। তারপর আমার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলল- আমি জানি মাসিমণি, তুমি কি জানতে চাইছো। আমি এখন আপাততঃ এখানেই আছি। আমি চমকে উঠলাম- কেন রে? খুব ধীরেধীরে বলল- শাশুড়ীর সব অন্যায়-অত্যাচার মুখ বুঁজে সহ্য করেই মানসিক লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলাম শুধুমাত্র পড়াশুনাকে আঁকড়ে ধরেই। কিন্তু শাশুড়ির ইচ্ছেই নয় আমি আর পড়াশুনা করি, পরীক্ষায় বসি। ঘরের বৌএর এতো শিক্ষার নাকি প্রয়োজন নেই, তাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম- আর তোর বর? বলল- ও মানুষটাকে আজও ঠিক চিনতে পেরেছি কিনা আমি নিজেই ঠিক জানিনা। কি করেই বা চিনবো বল? সারাদিন বাড়ি থাকেনা, ফলে কিছু জানতেও পারেনা। জানলেও এই সমস্যা সমাধানের কোনও ইচ্ছে হয়ত বা উপায়ও ওর নেই। কারণ… মুখটা আরও খানিকটা নীচু হল- রাতটুকুই তো তার আমাকে পাওয়ার একমাত্র সময়। আর ঠিক সেই সময়ে আমার না পাওয়া, হতাশা, কান্না হয়ত ওর বিরক্তির……! খানিক থেমে বলল- আমি বরকে বলেছি, পরীক্ষা দিয়েই ওখানে ফিরে যাবো। কিন্তু শাশুড়ি বলেছেন- ওনার কথা অমান্য করে পরীক্ষায় বসলে আমি যেন আর ও বাড়িতে পা না রাখি। তারপর মুখ তুলে দৃপ্ত কন্ঠে বলল- কিন্তু আমি জানি আমি কোন ভুল করিনি। ওঁরা আমাকে ঠিক ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি সেদিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকবো। একটু দম নিল, তারপর বলল- এই পরীক্ষার সময়টা তুমি আবার আমাকে পড়াবে মাসিমণি?

আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতই বলে উঠলাম- তুই আলোটা চিনতে পেরেছিস? ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলে উঠল- কেন পারবো না? আমার সেই আলোটা তো আসলে তুমিই। সূর্যের আলোটা আমি! অবাক দৃষ্টি তিতলির মুখে স্থাপন করে মূহুর্তে যেন কোথায় হারিয়ে গেলাম। কত যুগ বাদে স্পষ্ট দেখতে পেলাম আমার ভিতরের সেই ছোট্ট ছটফটে মেয়েটাকে যে অনেকখানি স্বপ্ন বুকে নিয়ে ছোট্ট নদীর মতই তিরতির করে বয়ে যেতো। তিতলি জীবনে না এলে যে ভুলেই গিয়েছিল, তমসা বলে কেউ ছিল, আজও আছে। তমসারও একটা জীবন আছে, স্বপ্ন আছে, ইচ্ছে আছে, প্রেম আছে, মাতৃত্ব আছে। শুধু ভাগ্যের দোষে সকলেই তার মধ্যে অন্ধকারই দেখেছে। অথচ এতদিন বাদে এই ছোট্ট মেয়েটা একটু আলোর অন্বেষণে বুভুক্ষু প্রাণের ভিতর সূর্যের আলো দেখল! তমসারও তবে আলো আছে!

যদিও ওর আর আমার লড়াই এক নয়, আলাদা, তবু বিষয়ের ভিন্নতা সত্বেও লড়াইএর চিত্রটা তো সেই একক মেয়েরই ছিল। মাতৃত্বে অক্ষমতা তো একটা মেয়ের নিজের সঙ্গেই নিজেরই সবচেয়ে বড় লড়াই। আর এ লড়াই তো কেবলমাত্র নিজের বা পরিবারের সঙ্গেই নয়, গোটা সমাজের বিরুদ্ধেই। অবশ্য সে যুগে কটা মেয়েই বা লড়াইএর ক্ষমতা রাখত আর এ যুগেই বা কজন রাখে। তাই হেরে যাওয়াটাকেই জীবনের বিধি বলে মেনে নিত। সময়ের হিসাব পালটেছে, সমাজের অবয়ব কি খুব কিছু পালটেছে আজও? মেয়েদের এই সবকিছু মুখ বুঁজে মেনে নেওয়া, তাদের এই ভালোত্ব অসহায়ত্বকেও কি কোন মূল্য দিয়েছে সমাজ কোনদিন? আর যে মেনে নেয়নি তাকে তো লাঞ্ছনা গঞ্জনার ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যেতে হয়েছে।

একই বাড়িতে থেকে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারিনি, একাকীত্বই যখন ভবিতব্য তখন অনাদরের ঘরের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে পথে পা রেখে অনিশ্চিত জীবনের একাকীত্বকেই বরণ করেছিলাম সাদরে। এই ছিল আমার অমার্জনীয় অপরাধ। হোক অনিশ্চিত, খোলা আকাশ তো একটা ছিল। শ্বাস নেওয়ার মত খোলা হাওয়া তো ছিল। সবুজ বনানী, পাখির কূজন, নদীর সঙ্গীত চলার পথে আমার সঙ্গী হয়ে বাঁচার প্রেরণা তো জুগিয়েছিল।

কিছু আগেও ভেবেছি, এ শুধুই সূর্যতপার গল্প। কিন্তু এ গল্প সমানভাবে তমসারও গল্প! তবু এ গল্পে আমিতো তিতলির এমন করুণ পরিণতি চাইনি, এ বয়সেই ওর এমন দুঃসহ একাকীত্বও চাইনি। চেয়েছিলাম… শুধু একটু লেখাপড়া শিখুক, মানুষ হোক। তবে……!

এমন সময় আমাকে আবারও অবাক করে দিয়ে একটা কাগজ আমার চোখের সামনে মেলে ধরল, তাতে জ্বলজ্বল করছে একটা কবিতা! তারপর আমাকে বলল- আমাকে এত কেন ভালোবেসেছো মাসিমণি যে তোমার সবটুকু আলো আমায় দিয়ে নিজেকে এমন অন্ধকারে ভরিয়ে দিয়েছো? এভাবে কি কেউ নিজের প্রতি অবিচার করে? আমি জানতাম একথা তাই এ কবিতা আমার একার নয়, তোমারও মাসিমণি। মূহুর্তে আমার দুচোখে জ্বলে উঠল যেন সহস্র ভোরের আলো-----!

এসো মাধবী রাত… এসো গৈরিক আশা
এসো চৈতালী হাওয়া… হেমন্তী ভালোবাসা।
এসো স্বপ্নসাম্পান… গেয়ে আনন্দগান
এসো চাঁদের সরণী বেয়ে… সাগর সঙ্গমে নেয়ে।
তোমারই প্রতীক্ষাতে আছি
ফুলশয্যা রচিয়াছি
নিজহাতে জ্বেলেছি চিরাগ,
তব চন্দনচর্চিত আননে… এঁকে দিতে চুম্বনদাগ।
এসো প্রেম
এসো নিকষিত হেম
তব শৃঞ্জিত চরণে… অঞ্জলি দেবো অনুরাগ।
এসো ভোরের বহ্নি হয়ে
এ বিষাদ সাগর বলয়ে-
------হে বন্দিত ভৈরবী রাগ……।

স্বপ্ন এভাবেও সত্যি হয়! তমসার চারপাশে সূর্যের গাঢ় সোনালি রঙ! রচনা করেছে নতুন দিনের নতুন আলোর বৃত্ত! সেই বৃত্ত জুড়ে উড়ছে ঘুরছে অসংখ্য তিতলি!
সূর্যতপার চোখে চোখ রেখে আমি ক্রমশঃ তলিয়ে যেতে থাকলাম… অভিভূতের মত বললাম- কোথায় অন্ধকার রে! এই যে আমায় ঘিরে এমন স্বর্গীয় আলোর বিচ্ছুরণ………!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement