লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ নভেম্বর ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৮৮

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবন্ধু (জুলাই ২০১১)

এক সকালে
বন্ধু

সংখ্যা

মোট ভোট ৮৮

Israt

comment ৪৩  favorite ৩  import_contacts ১,০২৫
ছুরিটা আস্তে আস্তে ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে। কিন্তু আমি কোন ব্যাথা টের পাচ্ছিনা। আমার মুখের উপর একটা মুখ ঝুঁকে আছে। মুখটা খুব পরিচিত, খুব আপন মনে হচ্ছে, কিন্তু চিনতে পারছিনা কেন! সে কি হাসছে? লোকটার মুখে হাতে রক্ত। এত রক্ত কিসের? আমার মনে হচ্ছে আমি ভেসে যাচ্ছি। না, না তলিয়ে যাচ্ছি...তলিয়ে যাচ্ছি...
।।১।।
ফোনটা এসেছিল মাঝ রাতে... “দোস্ত, আমার খুব দরকার, তুই কি কাল ভোরে আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবি?”
“ভোর মানে কয়টায়? সকালে তো আমার অফিস আছে”
“এই ধর ৬ টা, আমার সাথে কথা বলে অফিস যেতে পারবি, আয় না দোস্ত, আমি তোর গলির সামনে থাকব”।
“ঠিক আছে আসব, কিন্তু ঘটনা কী বলতো? কোন সমস্যা নাকি?”
“তা দোস্ত সমস্যা তো অবশ্যই। নইলে কি আর এত ভোরে তলব করি তোকে বল? তাহলে ওই কথাই থাকল বন্ধু- কাল ভোর ৬ টা”।
“Ok. রাখছি তাহলে দোস্ত”।
এরপর সারা রাত ঘুমই হল না শফিকের। কী এমন বিপদ হল যে এত সকালে ওর সাথে দেখা করতে চাইছে আবির? কী জানি কোন ঝামেলায় জড়িয়েছে আবার। নাহ! খামোখা চিন্তা করে লাভ নেই। কাল সকালেই তো জানা যাবে। ঘুম আসবে না বুঝে উঠে পরে শফিক। পেপারটা নিয়ে বসে। বাসি পেপার পড়া তার পুরনো এবং প্রিয় একটা অভ্যাস। পেপারের মধ্যে কোন ভাল খবর থাকলে হয়। খালি খুন-খারাপি, রেপ, ডাকাতি... ধুর! “ঢাকার পল্লবীতে বন্ধুর হাতে যুবক খুন” এটা কি কখনও হতে পারে? বন্ধু কিভাবে বন্ধুকে মেরে ফেলবে! আর যে মারতে পারে সে বন্ধু হয় কিভাবে!! সামান্য কটা টাকার জন্য মেরে ফেলল ছেলেটাকে! এগুলো অতিরঞ্জন বলেই মনে হয় শফিকের।
এখনো ঘুম আসছে না। না ঘুমিয়ে এত বড় রাত কিভাবে কাটবে! মিথিলাকে ফোন করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু এতক্ষণে নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পরেছে ও। আর তাছাড়া রাতে ফোনে কথা বলা পছন্দ ও করে না মেয়েটা। ঠিক আছে, আর মাত্র দশ টা দিনই তো, ঘুমিয়ে নাও সোনা... বিয়ের পর রাতে ঘুমাও কিভাবে দেখব তো!
কিছুক্ষণ টিভি দেখল শফিক। কিন্তু মন বসল না। মার সাথে কথা বলতে পারলে ভাল লাগত। অনেক দিন মার সাথে দেখা হয় না।
ড্রয়িংরুমের সেন্টার টেবিলের উপর কতগুলো বিয়ের কার্ড পরে আছে। আজ ১৭ তারিখ, আসছে ২৭ তারিখেই বিয়ে। ইনস্যুরেন্সের কাগজটাও পরে আছে- লাইফ ইনস্যুরেন্স, মিথিলা নমিনি। এ নিয়ে আফিস কলিগরা খুব হাসাহাসি করেছে- এত প্রেম নাকি ভাল না!
মিথিলার সাথে শফিকের পরিচয় আবিরের মাধ্যমেই। আবির আর মিথিলা একসাথে ব্রিটিশ কাউন্সিলে ক্লাস করত। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। একদিন টি এস সি-র আড্ডায় ওকে নিয়ে এসেছিল আবির। তারপর এক মাসের মাথায় শফিক-মিথিলা কাহিনী শুরু। আবির খুব খুশি হয়েছিল ওদের জন্য। বিষয়টা জানার পর ওই পার্টি দেয় সবাইকে। ওদের বিয়ের ব্যাপারটাও বাসায় অনেকখানিই ম্যানেজ করেছিল সে। তবু ও মাঝে মাঝে মনে হত শফিকের যে আবির মিথিলাকে পছন্দ করত। এমনকি একবার সরাসরি জিজ্ঞেস করেই বসেছিল সে। খুব রাগ করেছিল সেদিন আবির।

আবার আবিরে ফিরে এল চিন্তা। কী সমস্যা হল ওর? ইদানিং ঠিকাদারিতে নেমেছে ও। এই সপ্তাহেই টেন্ডার জমা দেয়ার কথা। সেখানে কিছু হল না তো? আচ্ছা, ঠিক মত বললে কী হয়। খুব-ই টেনশন হচ্ছে।
ফোনে রিংটোন শোনা যাচ্ছে। মিথিলা! “কী ব্যাপার? তুমি এতও রাত পর্যন্ত জেগে আছ?”
-হুম, ঘুম আসছে না। তোমার কথাই ভাবছিলাম আসলে।
-তাই নাকি? কী ভাবছিলে শুনি একটু।
-ভাবছিলাম কিছু একটা।
-তো ঘুম আসছেনা কেন তোমার? প্রতিদিন তো ১১ টায় ঘুমিয়ে যাও।
- জানিনা। টেনশন হচ্ছে খুব। কালকের দিনটা আমার জন্য খুব ইম্পরট্যান্ট। খুব জরুরি একটা কাজ করতে হবে ভোরে। সেই টেনশনেই হয়তো বা...
-কি কাজ?
-আছে। ভেব না তুমি ঠিকই জানতে পারবে। ইনফ্যাক্ট, আমার এই কাজটাতে তুমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ফ্যাক্টর।
- আমি ফ্যাক্টর আর আমিই জানিনা! হেঁয়ালি রেখে বল তো কী কাজ?
- উফ! বললাম না সময় হলে জানবে। শুধু তুমিই জানবে। টা টা।
হুট করে কিছু না বলেই ফোন রেখে দিল! আর কলব্যাক করতেও ইচ্ছে করছেনা শফিকের। কেন জানি খুব বিষণ্ণ লাগছে। শেষ রাতের দিকে একটু ঘুমিয়েও গেল সে।
বিশালএকটা মাঠে দাঁড়িয়েশফিক । অনেক দূরে একটা কুয়া। কুয়াটার পাশে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে। মেয়েটার মুখ এখান থেকে বোঝা যাচ্ছেনা। কিন্তু দূর থেকে মেয়েটাকে দেখতে খুব ভাল লাগছে শফিকের। ও এগিয়ে যাচ্ছে কুয়াটার দিকে। কিন্তু সে যতই কুয়ার দিকে যাচ্ছে মেয়েটা সরে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত মেয়েটার কাছে গিয়ে তার হাত ধরতে যাচ্ছে শফিক। আর সেই মুহূর্তেই সে কুয়ার ভিতরে পরে গেল।
।।২।।
সাড়ে পাঁচটায় বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। মোড়ের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল আবির , যদিও তাকে চিনতে কষ্ট হয়েছে আমার। চাদর মুরিয়ে এমনভাবে এসেছে যে চেহারা দেখার উপায় নেই। “কী রে এই গরমে এই অবস্থা কেন?”
“উফ! সেসব পরে। আগে চলত একটু আড়ালে যাই, এখানে অনেক লোক।”
একটা কানা গলিতে নিয়ে এল আবির আমাকে।
“এতো ঢং করছিস কেন বলে ফেল না কী বলবি। সারারাত টেনশনে আমার ঘুম হয়নি। কি সমস্যা তোর খুলে বল।”
মৃদু হাসল আবির। ওর হাসি বরাবরই সুন্দর। মেয়ে হলে নির্ঘাত ওর প্রেমে পরে যেতাম।
“তেমন কিছু না”, বলে চাদরের তলা থেকে ডান হাতটা আস্তে করে বের করে আনল সে। একি আমার বুকে হঠাৎ কিসের ধাক্কা লাগল? তীক্ষ্ণএকটা অনুভূতি হচ্ছে বুকের বাম পাশটায়। আবিরের মুখে লাল লাল ছিটে কিসের। আমি পরে যাচ্ছি, একটা লাথি এসে লাগল পায়ে। রাস্তায় পরে গেলাম নাকি? মাথাটা কেমন যেন করে উঠল।
মিথিলার কথা মনে পরছে। ওর কী যেন একটা জরুরি কাজ আছে বলছিল, কাজটা হল তো ঠিক মত? ... আমার মুখের উপর ঝুঁকে থাকা মুখটা হঠাৎ মিথিলার মুখ হয়ে গেল। ভোরের নতুন আলোয় স্নিগ্ধ লাগছে ওর মুখটা। ওর মুখেও হাসি, একি রক্তের ছিটে নাকি ওর মুখেও। ওর মুখটা আরও কাছে এগিয়ে এল। সুন্দর, কি সুন্দর লাগছে ওকে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement