লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ নভেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৪৪টি

সমন্বিত স্কোর

৫.১৪

বিচারক স্কোরঃ ৩.৭৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৩৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftসরলতা (অক্টোবর ২০১২)

ফেসবুক বন্ধুতা
সরলতা

সংখ্যা

মোট ভোট ৫৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.১৪

জাকিয়া জেসমিন যূথী

comment ৩৮  favorite ০  import_contacts ২,২৮৫
।১।
হাসিখুশি চমৎকার উচ্ছ্বল চঞ্চল মেয়ে সামান্থা। কথা বলতে খুব ভালোবাসে। বেশ মিশুক। অপরিচিত নতুন কোন মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলতে ওর একটুও সময় লাগে না। মুহূর্তেই এতটা আপন করে নেয় যে মনে হয় কতদিনের চেনা!
ফেসবুক ব্যবহার করার মাধ্যমে নতুন নতুন দেশে বিদেশে থাকা সিনিয়র জুনিয়র অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে। নিজের আত্মীয় বন্ধুরা ছাড়াও ফেসবুক এর অন্য বন্ধুদের তালিকা থেকে বা হোম পেজ এ দেওয়া ‘বন্ধু হিসেবে যোগ করতে পারেন’এমন কাউকে দেখলেই নাম কিংবা প্রোফাইল পিক দেখে পছন্দ হলে যোগ করে নেয়। এমনি করে জানা অজানা অনেক অনেক বন্ধু এখন ওর।
বড় বোনআতিফা বলে,“তুই এতসব অচেনা লোককে কেন যোগ করিস?সবাই কিন্তু সমান নয়। আজেবাজে লোক দিয়ে ভার্চুয়াল এই জায়গাটা ভরা থাকে। ঝামেলা বাঁধলেবুঝবি!”
এসব কথায় সামান্থাকখনো পাত্তা দেয়না। ফেসবুক বন্ধুদের কারো কাছ থেকে কোন অপ্রীতিকর কিছু কখনোই সে পায়নি। আপু অযথাই ভয় পায়।
দেশে বিদেশে ওর বন্ধুতা লিস্টে থাকা বিভিন্ন বয়সী নানান নারী-পুরুষ বন্ধুদের কারনে ওর উপকারই বেশি হয়েছে। এইসব নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে নিজে অনেক কিছু জানতে পেরেছে। একেক মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ারিং এর মাধ্যমে অনেক কিছু শেখা যায়।
তবে,সবাইই যে নির্ভেজাল ভালো মানুষ তা নয় অবশ্য। কিছু মানুষ আছে আজাইরা বকবক করে ওর মাথাটা খেয়ে নিতে চায়। সব সময় কি আর কথা বলতে ভালো লাগে! সময় অসময় আছে না! এরকম হলে ও ফ্রেণ্ড লিস্ট থেকে তাকেছাটাই করে দেয়। তাও আবার জানিয়ে। “দেখুন ভাই,আপনি না ভীষণ বিরক্তিকর! মাফ করবেন। আপনাকে ডিলিট করে দিচ্ছি।”এই বলে। নিজের কান্ড দেখে ওর বেশ হাসি পেয়ে যায়! মুছে দিবি। দে!আবার জানানো কেন!
সেদিন রাতে এক অদ্ভূত কাণ্ড হয়েছে। ফেসবুক এর ম্যাসেজ ইনবক্সে দেখে এক তরুণ ওকে ম্যাসেজ পাঠিয়েছে।
“আমাকে আপনার বন্ধুতা লিস্টে জায়গা দেয়া যায়? তাহলে প্লিজ আমাকে রিকোয়েস্ট পাঠান।” প্রো-পিক দেখে মনে হলো, ওরই বয়সী হবে। সামান্থা একটু অবাকই হয়ে গেলো। বন্ধু হিসেবে যোগ করতে ইনবক্সে ম্যাসেজ দিতে হয় নাকি?রিকোয়েস্ট পাঠালেই তো চলে।
লোকটার সম্পর্কে কৌতূহল হলো। তবু আগে লোকটার প্রোফাইল ঘেঁটে দেখে নিতে চাইলো। যতটা দেখা গেলো তাতে সন্দেহজনক কিছুই নেই। যাহোক সে নিজেই বন্ধুতার রিকোয়েস্ট সেন্ড করে দিলো। দেখাই যাক না! খারাপ হলো পরে না হয় ডিলিট করে দেওয়া যাবে!
লোকটাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর সাথে সাথে ওকে এক্সেপ্ট করে নেওয়া হলো।
লিস্টে যোগ হওয়ার সাথে সাথে সামান্থা ভালো করে নতুন বন্ধুর প্রোফাইলের সবকিছু ঘেঁটেঘুঁটে দেখা শুরু করলো। দেখতে দেখতে বেশ রাত হয়ে গেলো। ঘুমানো দরকার।
রাত আড়াইটা পেরিয়ে গেছে। এখনো পুরো প্রোফাইল, নোটস, ছবি, ভিডিও ইত্যাদির কিছু কিছু দেখা বাকি রয়ে গেছে। লোকটা কোত্থেকে ওর নাম পেয়েছে বার বার জিজ্ঞেস করেও ও এখনো জবাবটাপায়নি। কোন মিউচুয়াল ফ্রেন্ডও তো নাই। জানলো কি করে!
কিন্তু,আর বেশি রাত জাগতে ইচ্ছে করছে না। “থাক।সকালে উঠে দেখে নেবো বাকিটা। কয়েকদিনের কথাতে লোকটা নিশ্চয় নিজে থেকেই জানাবে”ভেবে সামান্থাইন্টারনেট লাইন অফ করে দিলো।
কিন্তু, মনের ভেতরের খচখচানিটা কিছুতেই গেলো না।যা তার আর কোন সময়েই হয়নি। আজ কেন যেন শুয়েও শান্তি পেলোনা ও।

।২।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে প্রতিদিন সামান্থার অনেক ব্যস্ততা। বোন দুলাভাই দুজনে নিজেরা রেডি হয়েঅফিসে চলে যায়। ভাগ্নে ভাগ্নী দুটোকে ঘুম থেকে তোলা থেকে শুরু করে নাশতা খাওয়ানো, পোশাক পরানো, টিফিন রেডি করে সাথে দিয়ে দেওয়া, স্কুলে দিয়ে আসা এবংছুটির পরে বাসায় আনাসবই ওর একার কাজ। বোন-দুলাভাই দুজনেরই অফিস সামলে এসব দিকে সময় দেয়াটা বেশ কষ্টকর হয়ে উঠে। দুজনেরই অফিস সেই গুলশানে। আর বাসা-স্কুল সব ধানমন্ডিতে।
নেহাত সামান্থাপড়াশুনা শেষ করে অবসরই বসে আছে। এখনো কোন চাকরি শুরু করেনি। তাই এসবে ওর কোন সমস্যা হচ্ছে না।
কাল রাতে ভালো ঘুম হয়নি। ভোরবেলাতেই ও বিছানাছেড়েছে আজকে। অন্যান্য দিন যা সে কখনো করেনা।আজ সকালে নাশতা না খেয়েই আগে নেট কানেকশন লাগালো।
ফেসবুক লগ-ইন করে দেখতে পেলো,ইনবক্সে একটা ম্যাসেজ। মাউস ড্রাগ করে ম্যাসেজ ওপেন না করেই যতটূকু পড়লো, “সরল আহমেদঃ ‘আপনার অনুমতি ছাড়াই আপনার ছবি ব্যবহার...”
“কি লিখেছে? ‘আপনার ছবি’ মানে? আমার ছবি? আমার ছবি কোথায় ব্যবহার করেছে? কোন্ ছবি? পেইন্টিং?”
পুরো ম্যাসেজটা ওপেন হওয়ার পরে দেখতে পেলো, “আপনার ছবি অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করার জন্য দুঃখিত। আমার মনে হয় আপনার ভালো লাগবে।”
কাল রাতের সেই লোকটা। ম্যাসেজটার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝলোনা। “যাক্।রাতে অস্থিরভাবে না ঘুমানোর মত কোন কারণ ঘটেনি। অযথাই সন্দেহ করেছিলাম!”
এরপর সারাদিন নিশ্চিন্ত মনে অন্যান্য ঘরকন্যায় ডুবে গেলো।

।৩।
বিকেলে মেহজুবার ফোন এলো। সামান্থার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। দুজনে একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বছর মাস্টার্স সমাপ্ত করেছে। মেহজুবা মনোবিজ্ঞানে। সামান্থা গণিতে।
“এই, সিদ্ধেস্বরী কলেজে নিয়োগের সার্কুলার হয়েছে। দেখেছিস? ইত্তেফাক পেপারে গতকাল প্রকাশ হয়েছে বিজ্ঞপ্তিটা। বিভিন্ন বিষয়ের সাথে গণিতেও প্রভাষক নেবে। সার্কুলারটার বিস্তারিত তুই বিডিজবসডটকম থেকে দেখে নিস। ফোনে তো এত ডিটেইল বলা যায়না।”
“আচ্ছা ঠিক আছে।দেখবো।”জবাব দিলো সামান্থা।
সন্ধ্যায় নেট কানেকশন লাগিয়ে ফেসবুক,বাংলা ব্লগ,বিডিজবসডটকম সব জায়গাতেই লগ-ইন করে আগে চাকরির বিজ্ঞপ্তিটা দেখে নিলো।
তারপরে,ফেসবুক ট্যাব ওপেন করলো। ফেসবুক ওয়ালে চোখ পরলো।একটা ভিডিও। গানের। কে যেনো ওকে ভিডিওতে ট্যাগ করেছে। হরহামেশাই ফেসবুক বন্ধুদের কেউ না কেউ ফটোগ্রাফিক ছবি,গল্প, কবিতায় ওকে ট্যাগ করে। দেখার জন্য। কেমন বানানো হলো জিনিসটা।কিন্তু নাম ট্যাগ করাই সার। ওর কখনোই এসবের সবগুলো সময়মত দেখা হয়ে ওঠে না। কমেন্টও করা হয়না বেশিরভাগেই।
কিন্তু,আজই হঠাৎ ওর এই ভিডিওটা দেখার শখ হলো। কেননা ওটা গানের ভিডিও। গান তো সামান্থার ভীষণ পছন্দ! বিশেষ করে আধুনিক বাংলা গান।
“পলাশ ফুটেছে। শিমুল ফুটেছে। (তপন চৌধুরী)”
“নাহ। এই গানটা তো মনে হচ্ছে কখনো শুনি নাই।”
গানটা লোড করে কানে হেড-ফোন লাগিয়ে ও শুনতে শুনতে ভাবলো“নাহ্!গানটা মন্দ লাগছে না। ভিডিও গান! বাহ! গানের কথাগুলো তো ভালোই... পলাশ ফুটেছে ... শিমুল ফুটেছে... এসেছে দারুন মাস... আমি জেনি গেছি... তুমি আসিবেনা ফিরে... মিটিবেনা পিয়াস...পলাশ ফুটেছে... শিমুল ফুটেছে... এসেছে দারুন মাস । ...আমি জেনে গেছি ...তুমি আসিবেনা ফিরে... মিটিবেনা পিয়াস... কতদিন কত আশার স্বপন দেখেছি সংগোপনে ...কতদিন কত আশার স্বপন দেখেছি... সংগোপনে হৃদয় আমার ভরেছিলাম দখিনা ...” কানে হেড ফোন লাগিয়ে শুনতে শুনতে ও ভিডিওটি দেখতে লাগলো। দেখতে দেখতে ভিডিওটার মাঝ বরাবর এসে ওর মাথা গরম! “ওওওহ,নো!!! এটা কি!ভাগ্যিস খেয়াল করেছিলাম!”

এতক্ষণে ইনবক্সের ওই ম্যাসেজটার অর্থ পুরোপুরি বোধগম্য হলো। লোকটা এই রোম্যান্টিক গানের মধ্যে একটি ছেলে আর একটি মেয়ের ছবি ব্যবহার করেছে। গানের সুরে সুরে মেয়ের ও ছেলেটার ছবি মাঝে মাঝে পর্দায় ভেসে উঠছে। ছেলের ছবিটা ওই সরল আহমেদের নিজের। আর, মেয়েটা অন্য কেউ নয়। সামান্থার! ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে,প্রেমিক প্রেমিকার ভূমিকায় যেন ওই সরল আর সামান্থা!
এতক্ষণে চোখে পরলো, গানের সাথের কিছু কমেন্ট। এদের কাউকেই সামান্থা চিনতে পারছে না। বোধহয় সরল নামের লোকটার পরিচিত।
পুলক হাসানঃ “কি রে সরল,গানের ভেতরে কাকে দেখছি? ইনি কি আমাদের সরলের সরলা নাকি? :P”
ইশরাত নূপুরঃ“গানের সাথে ভিডিওটা বেশ লাগছে! ছবিগুলো দারুন এটাচ করেছেন।”
সরল আহমেদঃ “পুলক,তুই ঠিক ধরেছিস! সরলা পেলাম এতদিনে!”
সরল আহমেদঃ “ধন্যবাদ,নূপুর।”
স্মৃতি হায়াতঃ “ভালো লাগলো ভিডিওটা। @ কংগ্র্যাটস্ সরল!”
সরল আহমেদঃ “থ্যাংক্স,স্মৃতি।”

হায় হায়! এই দৃশ্য যদি পরিবারের কারো চোখে পরে তাহলে কি হবে ভাবতেই ভয়ে কেঁপে উঠলো ও। এমনিতেই ইন্টারনেট আর ফেসবুক ইউজ করা নিয়ে বহুত বকা শুনতে হয় ওকে। মেহজুবাও প্রায়ই বলে, “বন্ধু, তুমি তো আছো এক ফেসবুক লইয়া!” আর ভিডিওটা দেখলে তো কথাই নেই। ক্ষ্যাপাবে!
“এখন কি করবো?লোকটাকে সামনে পেলে কাঁচা খেয়ে ফেলতাম! শালা শয়তান!কোন ব্যাক্কলে যে ব্যাটার নাম সরল রাখছে! সরল না গরল! এই ব্যাটা একটা পাজির পা ঝাড়া! ছেলেগুলোর হয়েছে এই এক বদ স্বভাব।এদের বসতে দিলে মাথায় চড়ে বসে!!! এরকম একটা কাজ কিভাবে করতে পারলো? ওওহ, আমি এখন কি করবো!!!” রাগে গর গর করতে করতে মাথার চুল চেপে বলতে থাকলো সামান্থা।
পরবর্তী কয়েকটা ঘন্টা ওর অন্য সব কাজ মাথায় উঠলো। কিভাবে এই ভিডিও ডিলিট করা যায়!সেরকম কোন অপশন পেলোনা। তাতে মাথা গরম হয়ে উঠলো আরো। কি করা যায়! কি করা যায়! কম্পিউটার টেবিলের চেয়ার থেকে উঠে বার বার ঘরের মধ্যে পায়চারী করতে লাগলো। একবার খাটে বসে তো একবার বিছানায়। সারাদিন কম্পিউটার চালানো। মাঝে আবার দু’বার কারেন্ট চলে গেছে। কাজের সময়েই যত ঝামেলা! কারেন্ট যাওয়ারও দরকার পরছে আজকে! যত্তসব!
‘ফেসবুক অথরিটি’বলে একটা বিষয় আছে এই ব্যাপারে ওর একটা ক্ষীণ ধারণা থাকলেও সেটা কিভাবে করতে হয় তা সামান্থার জানা নেই।
দুপুরের দিকে সরল আহমেদকে অনলাইনে পাওয়া গেল। ও রিকোয়েস্ট করলো ভদ্রভাবে। কারণ মা বলে,“শত্রুর সাথে খারাপ ব্যবহার না করে মোলায়েম ভাবে কথা বলতে হয়। নইলে শত্রু ক্ষতি করে।”
যাহোক মিস্টার সরল ওটা ডিলিট করে দিবে বলে ওকে আশ্বস্ত করলে ও কিছুটা শান্ত হলো। দুপুরে আধো ঘুম আধো জাগরণের বিশ্রাম হলো।
বিকেলে আবার অনলাইনে বসলো সে। আবার ভিডিওটা চেক করে দেখে, কিসের কি। ঐটা তো বহাল তবিয়তেই আছে!
এবার আর ও চুপ করে থাকতে পারলোনা। লোকটাকে হাজার বার রিকোয়েস্ট করতে লাগলো।মেসেজের পরে মেসেজ দিতেই থাকলো। বার বার বুঝালো।“ভাইয়া প্লিইইজ!ওটা থেকে আমার ছবিটা সরিয়ে ফেলুন।”
রাতে আপু ও দুলাভাই দু’জনেই অনলাইনে বসে। রেগুলার। তাছাড়া দেশে বিদেশে ওর আরো কত আত্মীয়-বন্ধু থাকে। ওদের কেউ যদি দেখে ফেলে ভিডিওটা।তারপরে বাসায় জানিয়ে দিলে কেয়ামত হয়ে যাবে। কারন ওটা তো ওর ওয়ালে একেবারে প্রথমেই অবস্থান করছে।

।৪।
লোকটাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে যখন কিছুতেই ক্ষ্যান্ত করতে পারলোনা,ও তখন ফেসবুক ওয়ালে একটা নোটিশ দিয়ে দিলো।
“বন্ধুরা,আমি একটি বিপদে পরেছি। আমার অনুমতি ছাড়া একটি ভিডিওতে সরল আহমেদ নামের এক তরুন আমার ছবি এটাচ করেছে।কিভাবে এ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়?সাহায্য করুন।প্লিইইইজ!”
একই ধরনের ম্যাসেজ ঐ ভিডিওটির নিচে অন্য যারা কমেন্ট করেছে সেখানেও সে দিয়ে দিলো যাতে ঐ লোকের বন্ধুরাও জেনে যায় বিষয়টা।
ফেসবুক একাউন্টে হেল্পঅপশনে গিয়েও একটা ডায়রী করলো। এর মধ্যে সরল আবার অফলাইনে। যখন অনলাইনে আবার তাকে দেখা গেলো,সামান্থা বুঝে গেলো এই লোককে শায়েস্তা করতে অন্য পথ ধরতে হবে! তাতে কাজ হলে হতেও পারে! লোকটা যা করেছে তা একধরনের প্রপোজালই বলা যায়! অদ্ভূত ভিন্নতা সে আবেদনে!
সে ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে আবার ম্যাসেজ দিলো লোকটাকে।
“আপনি যে কাজটা করেছেন,একটু ভেবে দেখুন তো,আমার হাজবেন্ড দেখলে সে কি মনে করবে?”
অনেকক্ষণ কোন রিপ্লাই নেই। এর আগে বেশ কিছুক্ষণ মেসেজ-পাল্টা মেসেজ দেওয়া-দেওয়ি চলছিলো।
মেসেজের জবাব আসার অপেক্ষা করতে করতে সে আবার চেক করে দেখলো ভিডিওটা। ভালো করে খুঁটিয়ে দেখার পরেসারাদিনের তীব্র মাথার যন্ত্রণাটা দূর হয়ে গেলো। এতক্ষণ যেমন মনে হচ্ছিলো বুকের ভেতরে কেউ ছুরি চালিয়ে দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে ছুরিটা যেন কেউ বের করে নিয়েছে বিনা ব্যাথায়।
শেষ ট্রিকসটা কাজে লাগলো তাহলে! ওকে ম্যারিড ভেবে সরলের প্রেম উধাও!
সারাদিন অনেক কড়া কড়া কথা শুনিয়ে ফেলেছে লোকটাকে। রাগে। তা না করেই ওর উপায় কি ছিলো! লোকটার যদি ওকে ভালো লেগেই থাকে অন্য কোনভাবে জানাতে পারতো সেটা। তা না করে যেটা করেছে তা খুবই অবিবেচকের কাজ! একটা ভদ্র ঘরের মেয়ের সম্মান জড়িয়ে আছে যেখানে! এটা সে বুঝবেনা?ও তো কোন মডেল বা সেলিব্রেটি নয়।ওর ছবি কেন একজন অচেনা ছেলের সাথে ভিডিওতে থাকবে!!
এখন বিপদ কেটে যেতেই লোকটাকে ধন্যবাদ জানাতে ইচ্ছে করলো। হাজার হোকও তো অভদ্র নয়। ওর ম্যাসেজ এর উত্তর এলো,“উফ্!আপনি একটা অসহ্য! ক্যানো জ্বালাচ্ছেন?”
কয়েক সেকেন্ড পর ফেসবুক এর অন্যান্য বন্ধুদের প্রোফাইল ঘুরে এসে ওর বলতে ইচ্ছে হলো,“আমি কোথায় আপনাকে জ্বালিয়েছি! আপনিই তো সারাদিন আমাকে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে রেখেছেন!”কিন্তু,ওই লোকের নামে ক্লিক করে মেসেজ দিতে চেয়ে দেখা গেলো,লোকটা ওর ফ্রেন্ড লিস্টে নেই। নিজেই ওকে ডিলিট করে দিয়েছে।
সামান্থার মুখের কোণে মুচকি হাসি দেখা গেলো। “যাক্ বাবাবাঁচা গেলো! জঞ্জাল নিজেই পথ পরিস্কার করে বিদায় নিয়েছে।”

পরিশেষঃ
এই ঘটনার পর সহজ সরল মেয়ে সামান্থার একটা উচিত শিক্ষাও হয়েছে। “লোকটার অবশ্যই কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিলোই। নইলে নিজে বন্ধুতার অনুরোধ না পাঠিয়ে কেন ওকে দিয়েই সেটা করিয়ে নিয়েছিলো!আরএক রাতের মধ্যেই এমন একটা অঘটন কেন ঘটিয়েছিলো!”অনেক ভেবেও এর কোন সদুত্তর পায়নি ও। তবে,এরপর থেকে ও আর অচেনা কাউকে ওর ফ্রেণ্ড লিস্টে যোগ করেনা। এমনকি ওর ফেসবুক এর সমস্ত জায়গায় ও কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করে নিয়েছে। অর্থাৎ,রেস্ট্রিকশন দিয়ে দিয়েছে যেন ইচ্ছে করলেই একেবারে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ছাড়া কেউ আর ওকে বাইরে থেকে দেখতে না পায় বা ওর সম্বন্ধে বেশি কিছু তথ্য না পায়। আর নিজের অনেক ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্যও ও ফেসবুক থেকে মুছে ফেলে বাস্তব জীবনের সাথে ভার্চুয়াল জীবনের একটা সীমারেখা টেনে নিয়েছে।
এই একটি ঘটনা ওর সরল সাধারণত্ব পালটে ওকে অনেক কঠিন করে দিয়েছে। এখন আর ইচ্ছে করলেও ফেসবুক বা অনলাইনে নিজের ব্যক্তিগত অনেক কিছুই শেয়ার করা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • সূর্য
    সূর্য এই ফেসবুকে ট্যাগিং নিয়ে রামু কক্সবাজার আর পটিয়াতে কি কান্ডই না হয়ে গেল। দারুন লিখেছ সরল আহমেদদের গরলতা খুব সুন্দর দেখিয়েছ। তবে রক্ষা পাবার উপায় যে বলে দিলে এখন সরল আহমেদরা কি আর কথা রাখবে (পোস্ট মুছে দেয়া বা আনফ্রেন্ড করা)? হা হা হা ।
    প্রত্যুত্তর . ১১ অক্টোবর, ২০১২
    • জাকিয়া জেসমিন যূথী হুম! সুন্দর মন্তব্য। এটা হলো বাংলাদেশের পুলিশের কোন কেস নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাতকার দেয়ার মতন ব্যাপার। কাউকে খোঁজাখুঁজি হচ্ছে, তখন পুলিশ কি করে? কি কি তথ্য কিভাবে পেয়েছে হ্যান ত্যান সব সংবাদ মাধ্যমকে বলে দেয়। এতে করে দেশের মাধ্যম সহ অপরাধ চক্রও সবই জেনে যায়। ...গল্পের কথা বলি, আসলে, হাত গুটিয়ে বসে থাকা যাবে না। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সর্বাগ্রে সচেতন থাকতে হবে।
      প্রত্যুত্তর . ১১ অক্টোবর, ২০১২
  • কনা
    কনা ভালো লাগলো গল্পটা
    প্রত্যুত্তর . ১৩ অক্টোবর, ২০১২
  • মনির  মুকুল
    মনির মুকুল গল্পটা পড়লে সামান্তার মত অনেক সরলা নিজেকে কিছুটা সেভ রাখতে পারবে। বিষয়বস্তুটা সুন্দর।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ অক্টোবর, ২০১২
  • আহমাদ  ইউসুফ
    আহমাদ ইউসুফ ভালো একটা বার্তা দিয়েছেন আপনি/ এবার যদি মানুষের শিক্ষা হয়/ ভালো লাগলো/
    প্রত্যুত্তর . ১৬ অক্টোবর, ২০১২
  • আশিক বিন রহিম
    আশিক বিন রহিম comotkar apu comotkar..anek anek suvhecca
    প্রত্যুত্তর . ১৬ অক্টোবর, ২০১২
  • মাহবুব খান
    মাহবুব খান জুই আপনি এবার দারুন ,বাস্তব মনকাড়া লেখা দিয়াছেন
    প্রত্যুত্তর . ১৯ অক্টোবর, ২০১২
  • শিউলী আক্তার
    শিউলী আক্তার হুম দারুণ গল্প ; বাস্তব ! শুভ কামনা ।
    প্রত্যুত্তর . ২১ অক্টোবর, ২০১২
  • ঐশী
    ঐশী আপু সত্যিকারের চিত্র !
    প্রত্যুত্তর . ২৩ অক্টোবর, ২০১২
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক ফেইসবুকের মায়াজালে এমনটি অবিচিত্র কিছু নয়...তবে সামান্থা যে সরে আসতে পেরেছে তাই কম কি...অনেকে পারে না...গল্পটা অনেক ভালো লাগলো...শুভ কামনা সতত....
    প্রত্যুত্তর . ২৬ অক্টোবর, ২০১২
  • অষ্টবসু
    অষ্টবসু বিচারকের বিচারে আপনার গল্পটি এবারের সেরা গল্প...যদিও আমার মতে যে গল্পগুলি স্থান পেয়েছে সেগুলিও কোন অংশে কম নয় এর তুলনায়, সুতরাং বিচারকের মান নিয়ে কোন সংশয় না রেখেও এটা বলা যেতে পারে বিচারকও মানুষ, এবং প্রত্যেক মানুষের ই নিজস্ব ভাল লাগার একটা ব্যাপার থেকেই...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৭ নভেম্বর, ২০১২

advertisement