স্মৃতির পাতায় ভর করেছে পুরান দিনের কথা,
মনের ভেতরে বেজে উঠেছে পুরানা কত ব্যথা!
বয়সে যখন বেশ ছোট্ট ছিলাম,
প্রাইমারী কি হাই স্কুলে পড়তাম!
ঠিক একুশে ফেব্রুয়ারীর আগের রাতে,
দল বেঁধে সব জড়ো হতাম ফুল কুড়াতে;
ভোরের আলো ফুঁটে ওঠার আগেই,
পৌঁছতে হবে শহীদ মিনারে সবার প্রথমেই;
জীবনের সংজ্ঞা বা শহীদের মর্মটা
বুঝে উঠার বয়স ছিলো কি ছিলো না ততটা;
উপলক্ষ্যটা পালনে ছিলো তোড়জোর,
খালি পায়ে বেরোতাম খুব ভোর ভোর;
আজ একুশেই দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে ভাবি,
বোধগুলো বুঝি ফিকে হয়ে গেছে সবি।
এখনো একুশ আসে বছর বছর
একুশে বসাইগান-কবিতার আসর;
শুধু শহীদের বেদীতে ফুলের স্তবক ছুঁতে
সময় নেই; বন্দী এখন জীবন-ঘড়ির হাতে!
‘একুশ পেয়েছে আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি,
বিশ্বে হয়েছে আমার বাংলা ভাষার বিস্তৃতি’-
এই গর্বে গরীয়ান হয়ে গাল ভরে করি গল্প;
২১-এ দাঁড়িয়েও এখনো একুশ-কে বুঝি খুব অল্প!