আমার মায়ের কোমল মনের
দোআশ মাটির ঘরে
বহুদিন সেথায় রাখিনি মাথা
পড়ে আছি বহু দুরে
বিদেশ বিভূঁই যতনা সুখের
তারচে বেশী বেদনা
মায়ের বুকের সুখের সাথে
হয় না তার তুলনা

দিন শেষে যখন ফিরে আসি
ইট পাথরের ঘরে
সারা রাত ধরে মা’কে খুঁজি
স্বপ্নীল বালু চরে

আমার মা’য়ের শাড়ীতে আঁকা
সবুজের আল্পোনা
উর্বর সোনার মাটিতে রয়েছে
কৃষকের স্বপ্ন বোনা

কুঁড়ে ঘরের চালে থরে থরে
লাউ কুমড়া জালি
ঝিঙে ফুল গুলো নোলক হয়ে
সৌন্দর্য দেয় ঢালি

আমার মায়ের সারা আঙ্গিনায়
বন জঙ্গল আদারে
পাখ পাখালির মুখরিত গানে
আনন্দে মন ভরে


ঘাসফুল বনফুল জড়িয়ে গায়ে
না কোরে অবহেলা
আনন্দে মেতেছি পড়েছি গলায়
বৈচির গাঁথা মালা

নদী ছুটে চলে আপন খেয়ালে
কষ্ট পেছনে ফেলে
ছাতিম তলার পাতার বাতাসে
সব কষ্ট যাই ভুলে

আমি দেখি দুচোখ ভড়ে আর
হৃদয়ে স্বপ্ন আঁকি
সারি সারি সরিষার ভুঁই কতো
হলুদে মাখামাখি

আমার গাঁয়ের সন্ধ্যা রাতের
দক্ষিনা হাওয়ায়
ক্লান্ত কৃষক ঘুমায় আবেশে
মাটির ধুলায়

পড়ন্ত বেলায় গরুর মিছিলে
কৃষক ঘুরে সাথে
সোনা ধানে ভরে উঠে গোলা
বধুর নরম হাতে

আমার মায়ের কোমল মায়া
জড়িয়ে বুকে রাতে
বেঁচে রয়েছি প্রবাস বিভূঁইয়ে
আশির্বাদ নিয়ে সাথে

এ কি স্বপ্ন সবই?
না না না না
এ আমার গাঁয়ের আঁকা ছবি
বাস্তব সোনা