আমি তসবি জপি বেদনার কোলাহলে একাকী ।
অধরে জমানো যত সান্দ্র আঁধার...ডেকে আনে কষ্টের সফেন ঊর্মিল ।
বুকের চিমনী বেয়ে শূন্যতার ধোঁয়া উঠে অন্তরীক্ষ নীলে ... ।
মৃদু বাতাস ফুঁ দেয় ...সে ধোঁয়ার তরু লতায়
বেগুনী ফুলকি ...অনল স্ফুলিঙ্গ ।
যাই বলি ... ।
সে তো আমার পাঁজরের রক্তের আলপনা ...।

অস্তিত্ব-শূন্য পৃথিবীতে আমি একাকী মৌসুমি চাঁদ ।
অনির্বাণ শোকাগ্নি হয়ে ঝরে পড়ি পূর্ণিমায় ...।
রঙধনুর নীলাভ তরঙ্গ নামে ক্ষত চিহ্নের সিঁড়ি বেয়ে।
বেদনা সিক্ত ললাট জুড়ে ছোপ ছোপ দাগ রেখে যায় বিদগ্ধ অশ্রুকণা
অসুখ-স্মারক লিখে পাঠায় হতাশার নোট ।
অনুক্ষণে ভাবি... প্রসিক্ত হয়ে ছিল ? তৃষ্ণার্ত ঠোঁট !

জানিনা তুমি ছুঁয়ে দেখেছিলে কি সে কাশ ছায়াবীথি ...
ক্ষণপ্রভা হৃৎ স্বনন ।
হৃদয়ের অতলান্তের প্রহত অরণ্য !
অনুভব করেছিলে কি... চোখে জমানো রহিত অস্তঢেউরাগ !

সবাই বলে জীবনটাই অমন ...সমুদ্র সৈকতে জেগে উঠা যত বিষাদ-লবণ
আমি বলি – তুমি তো দেখেছো ! আমার অনস্তিত্ব চিলেকোঠা
যেখানে রিক্ত ধুলো জমে অবেলায়...যেখানে স্বপ্ন পরে থাকে খুব হেলায় !
কেউ জানে না ! শুধু তুমি !
তুমিই জানো প্রভু ! কিসের এত দুঃখ আমার
কিসের এত শূন্যতা ।

জ্বলে উঠে জিভে কষ্টের তীব্র নোনা স্বাদ...ক্রমাগত নিভে আসে মন ... ।
অনাসক্ত দুঃখ বুক করে হিম ...কষ্টের আবক্ষ-জলে ভেসে যায় সুখ-প্রতিম
অপরশ আঁচলে সুপ্ত কামনার অবিরল বৃষ্টি
খুঁজে বেড়ায় সুখের ঠিকানা ।
তুমি ধন্য করো...তুমি পূর্ণ করো ... রিক্ততায় ভরা এই বুকের নীলিমা ।
শুধু তোমার কাছেই কাঁদে এই...শূন্যতায় ভরা অন্তলীন প্রেরণা ।