উত্তরে মোর মন যমুনা
দক্ষিনে জলধরের দস্যিপনা ।
কদম ফুলের ঘরের মাঝে
মন্ডা মিঠায় রান্না বান্না ।

বকুল ফুলের নুপুর পায়
ধুতুরা ফুল গেঁথে খোঁপায়
বধু সেজে কৃষ্ণচূড়া
কলমিলতা আনতে যায় ।

শিমুল ফুলের ভাঙা নায়ে
বাদামতলির গাঙে গিয়ে
শাপলা শালুক তুলে এনে
নীল ভ্রমরা গান গায় ?

সবুজ ক্ষেত আর সবুজ ঘাস
অঙ্গে মেখে দেবীর সাজ
মাটির গন্ধে পাগল পাড়া
প্রজাপতি দিসেহারা !

নানান রঙের উড়ে ঘুড়ি
মন পবনে ধান করছে চুরি
চড়ছে ধেনু খোলা মাঠে
ফুল পাখিদের নিয়েই সাথে ।

সন্ধ্যে হলে বাদুর গনা
লাল টুক টুক দুষ্টু পনা
চাঁদের হাসিই পাগল হয়ে
সমীরণে নিত্য করে ।

সাঁঝ সকালে ডাকে পাখি
দিনের আলোর উঁকিঝুঁকি
নেংটি ইঁদুর সেজে বাঁদর
ফুল কুড়াতে দেই তো দৌড় ।

হাতছানি দেয় হাসনাহেনা
ঘরেতে তাই মন টিকে না
ফড়িং হয়ে উড়ে বেড়ায়
মন মহাশয় যেথা যেতে চায় ।
ডর্পি ফুলের মধু খেয়ে
অঙ্গ মেলায় মাতাল হাওয়ায় ।

বাংলার রূপ বলবো কি আর
বোঝার হলে বুঝবে সবাই ।
চাইনা আমি সর্গ – বেহেশত
এই বাংলাতেই থাকিতে চাই ।

হাতের কাছে রূপের নদী
চলছে ধারা নিরবধি ।
গুনে ভরা পলিমাটি
সোনার চেয়েও বেশি খাঁটি !

কোথা গেলে পাবে এই মন
মায়ামমতার বিছানা ।
বাংলার রূপের কথা বলে
শেষ হবেনা শেষ হবেনা ।