লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ অক্টোবর ১৯৮৪
গল্প/কবিতা: ২৫টি

সমন্বিত স্কোর

৫.২৭

বিচারক স্কোরঃ ৩.০৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপরিবার (এপ্রিল ২০১৩)

ক্ষরণ
পরিবার

সংখ্যা

মোট ভোট ৪১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.২৭

ইয়াসির আরাফাত

comment ১৬  favorite ১  import_contacts ১,১৭৯
৮/২/২০১৩ শুক্রবার !
প্রতিটি প্রবাসীদের জন্য খুব খুশির দিন ।
কিন্তু ,কেন যেন আজ কালো মেঘে ঢাকা আকাশের মত গম্ভীর রমিতের মন ।চঞ্চল এক হরিণ শাবক কাঞ্চন জঙ্ঘার মত নিঃচুপ নীরব ,জীবনের বহমান ছোট ছোট আনন্দের স্রোত বরফের মত জমে কঠিন পদার্থে পরিণত হয়েছে ।এই শীতের ভরদুপুরের ঝলমলে রোদ মনে হচ্ছে যেন গোধূলি লগ্নের লাল আভা ।কোন কিছু ভাললাগছেনা ।জীবনের গণিত সে খুব ভালো বোঝে , সে অল্পতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক ধারণায় উপনীত হতে পারে ,কিন্তু আজ সে হিসেব মেলাতে পারছেনা । তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে , হাত পায়ের রগ কে যেন টেনে ধরছে । কুয়াশা সিত্ত দ্বিতীয় প্রহরে ফল ভারে মাথা নত যবুথবু বৃক্ষের মত নিশ্চুপ নীরবতায় কাটছে প্রহর রমিতের ।

তার কি সমস্যা হয়েছে জানতে চায়লে সে উত্তর দেয় – কিছু হয়নি , কেন যেন ভাললাগছেনা , কাঁচ ভাঙা জানালা দিয়ে হাড় কাঁপানো শীতল হাওয়া কলিজাটা জমিয়ে দিচ্ছে ,মনে হছে বুকের পাঁজর ভেঙে যাচ্ছে , খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে ।কিন্তু, কাঁদতে পারছিনা ।মনে হচ্ছে মহাকাল আজ থমকে দাঁড়িয়েছে কাকতাড়ুয়ার মত !হৃদয়ের প্রবাল পাথরের উপর অনুতাপের জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ছে । ১৯৭১ সালে বুলেটের আঘাতে ছিদ্র হয়ে জাওয়া আমার দাদার রক্তাত সাদা শার্ট আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে ।দাদী যখন সেই শার্ট বুকে জড়িয়ে কাঁদত আমরা চাচাত ভাই বোনেরা গল্প শুনতে চায়তাম হাসাহাসি করতাম । দাদীর কষ্ট বোঝার জ্ঞান আমাদের ছিলোনা । গতকাল পারিবারিক তর্ক বিতর্কে ছোট কাকা দাদীকে বলেছে তুমি তো আমাদের একটু ভালো খাবার দাওনি । মানুষের থেকে চাওয়া পোশাক পড়িয়েছো ।কেন তুমি আমার বউ কে বললে দামী কাপড় কেনার প্রয়োজন কি ? তুমি পাগল হয়ে গেছ । তাই দাদী অভিমানে না খেয়ে আছে ।দাদীর যখন শক্তি ছিলো তখন ফুফুরা তাকে কাজের মেয়ের মত কাজ করিয়ে নেবার জন্য নিজের বাসায় রাখতে চায়ত ।আজ দাদী কোন কাজ করতে পারেনা তাই সে এক অবহেলিত কাগজের নৌকার মত ।দাদী যেন আঘাতে আঘাতে ক্ষয়ে যাওয়া এক অচল পয়সা ! দাদীর জন্য খুব খারাপ লাগছে ।

আমরা কেউ রমিতকে সান্ত্বনা দেবার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা, শাহিন ভাই বলে ফেলল “চিন্তা করিওনা দেশে গিয়ে দাদীকে নিয়ে হানিমুনে যাইয়ো । চলো সবাই জুম্মার নামাজ পড়ে আসি ।নামাজ পড়ে এসে একসাথে খাবনি ।”


জুম্মার নামাজ পড়ে এসে পরিবারের সবাই একসাথে খেতে বসলাম । এই একটা দিনই সবাই একসাথে খাবার সময় পাই । ভাবতে অবাক লাগে প্রবাসের ক্যাম্পগুলোর এক একটি রুমের সদস্য মিলে একটি পরিবার । এখানে সবাই সবার সুখদুঃখ ভাগাভাগি করে নেই অনেক সময় ঝগড়া বিবাদের জড়িয়ে পড়ে , আবার মিল হয়ে যায় । প্রবাসীদের বন্ধুত্বের বাঁধন এত শক্ত অনেক সময় রক্তের বাঁধনকে হার মানায় প্রবাসে একটি কোম্পানিতে যত দেশের শ্রমিক থাকনা কেন ? সকল শ্রমিকই এখানে পরম আত্মীয় ।এখানে ধর্ম বর্ণ রাষ্ট্রীয় ভেদাভেদ মূল্যহীন ।শুধু পাকিস্তানীদের আমরা মন থেকে ঘৃণা করলেও এক সাথে নামাজে দাঁড়ায় ,কাজ করি , একি মেস হলে খাবার খায় । অনেক সময় একে অন্যর বিপদে এগিয়ে আসি ।কারন ,বিবেক তখন বলে আমরা মানুষ আমরা প্রবাসী ।মুখে আমরা জাই বলিনা কেন বুকে পাকিস্তানীদের উপর একটি ঘৃণার দাগ থেকেই যায় , হাজার বৃষ্টি হোক সেই দাগ ধুয়ে জাবেনা এমনকি সভ্যতার রজত জয়ন্তীতেও খুশির জোয়ারে এই দাগ মুছে যাবার নয় ।

কোন কথা না বলে সামান্য একটু ভাত খেয়ে উঠে ,কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল রমিত । আমরা অবাক হয়ে গেলাম । যে ছেলে সারাদিন বকবক করতে করতে আমাদের পাগল করে দেয় সে আজ নীরব ।মনে হচ্ছে একটি একটি করে গোলাপের পাপড়ি ঝরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে । যে ছেলের অকারন কথা বলায় আমরা বিরক্ত হতাম । আজ তার একটু কথা শোনার জন্য আমাদের মন কেঁদে উঠছে ।কতদিন রমিতকে আমরা অপমান করেছি সে কখনো রাগ করেনি । হাসি খুসির কাফনে জড়িয়ে দুঃখ গুলো নিজ হাতে কবর দিত সে । আমরা আজ তার মলিন মুখ দেখে অনুতাপের আগুনে জ্বলে পুড়ে মরছি !এখানে তার পরিবারের কেউ নেই আমরাই তার পরিবারের সদস্য আমরাও চায় সে হাসি খুসি থাক । তাকে হাসানোর চেষ্টা করছি । মাঝে মাঝে বিখ্যাত কোন অভিনেতার মত মুচকি হাসি দিয়ে চুপ হয়ে যাচ্ছে পুকুরের খুব ছোট্ট একটি ঢিল ছুঁড়লে পানির ঢেউ গুলো মিলিয়ে যাবার মত ।একসময় রমিতের মোবাইল টি বেজে উঠল আমাদের বিনোদনে যেন বিঘ্ন না ঘটে তাই সে মোবাইল নিয়ে রুম থেকে বাইরে চলে গেলো ।
গোধূলি লগ্নে যখন পাখিরা ঘরে ফেরে ঠিক তখন রমিত রুমে আসলো দুই হাত ঘষে শীতল রক্ত গরম করার অকারন চেষ্টা করে জ্যাকেট পড়ল । দু একটি হাঁচি ফেলল , আমাদের বুঝতে সমস্যা হলনা হালকা শীতের শীতল হাওয়া তাকে চেপে বসেছে ।তার চোখ লাল ও নাকে সর্দি ভারী কণ্ঠস্বর প্রমান করে সে অনেক কেঁদেছে । চাঁদ যেভাবে মেঘের আড়ালে মুখ লুকায় ঠিক সেভাবে রমিত তার দুঃখ লুকিয়ে মুচকি হেসে আমাদের বলল পরিবারের সবার সাথে কথা বললাম , খুব ভাল লাগল । মাঝে মাঝে সবার সাথে কথা বলতে খুব ভালো লাগে আমার । এখন আপনার ভাবীর সাথে চুটিয়ে কথা বলব । আমি মেসে খেয়েছি , আপনারা খেয়ে নিয়েন । বলে সে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো ।

আমরা সবাই বুঝেছি রমিতের কোন পারিবারিক সমস্যা হয়েছে , কিন্তু সে তা আমাদের সাথে সেয়ার করতে চায়ছেনা । রঙ ধনুর সাত রঙের মত নানা কথার মালিকার ভাঝে তার কেঁপে উঠা কণ্ঠস্বর ও ছলছলে নয়ন আমাদের দৃষ্টির আড়াল করতে পারেনা । রমিত নিজেই জানেনা সে জীবন ন্যাট্যমঞ্চের অভিনেতা হলেও , গন ন্যাট্যমঞ্চের অভিনেতা নয় । গন ন্যাট্যমঞ্চের ভালো অভিনেতা হতে অনেক সাধনা ও চেষ্টা প্রয়জন , প্রয়োজন একজন শিক্ষা গুরুরও... ।
প্রতিদিনের মত রাত ১০ টায় আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি । রাত ১২ টার দিকে একটি দুঃস্বপ্নের জন্য ঘুম ভেঙে গেলো । দেখলাম অষ্টহস্তীসম এক দৈত্য সুন্দর বনের বৃক্ষ রাজি মাটিতে লুটিয়ে দিচ্ছে শান্ত প্রাণী গুলো পদতলে পিস্ট করছে হিংস্র প্রাণী গুলো খেয়ে ফেলছে অমৃত শক্তির আশায় । বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো দৈত্যটির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিজেদের দলের বলে দাবী করছে । ব্লাক বক্তব্যর ফুলঝুরি দিয়ে সাধারণ মানুষদের পাগল বানিয়ে তৈরি করছে দৈত্যর খাবার ।পুলিশ ফাঁকা ফায়ার করে মিডিয়াকে জানান দিচ্ছে তারা সত্যর পক্ষে দৈত্যকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে । ধ্বংস যজ্ঞ চলতে চলতে এক খেটে খাওয়া দিন মজুরের কুঁড়ে ঘর এই দৈত্য গুড়িয়ে দিলো । সেই দিন মজুর দৈত্যকে প্রশ্ন করল আমি তো তোমার কোন ক্ষতি করিনি , তোমার চামচা রাজনৈতিক কোন দলের টাকায় তো এই ঘর বানায় নি !আমি তো গণতন্ত্র অবমাননা করিনি । তবে কেন তুমি আমার ক্ষতি করলে ? দৈত্য ক্ষোভে দিনমজুরের জিভ টেনে ছুঁড়ে ফেলল অদুরের এক পুরনো মন্দিরের ঘণ্টায় গিয়ে বাঁধল জিভটি । শব্দ হলও ঢং টুং টুং কিছুক্ষণের মধ্যে শব্দতরঙ্গ বাতাসে মিলিয়ে গেলো ।এবার দৈত্য দিনমজুরের বুকের পাঁজর ভেঙে ফুসফুস ছুঁড়ে ফেলল শতবছরের পুরনো এক মসজিদের মিনারের চূড়ায় থাকা বলম্মে বিঁধল ফুসফুসটি । আজানের ধ্বনি ভেসে আসল আসসালাতু খায়রম মিনার নাওম । আমি আড়মোড়া ভেঙে ফেললাম । বুঝতে পারছি আমার শরীরের ঘামে ভিজে গেছে আমার পরনের পোশাক টি । একেবারে ভিত্তিহীন স্বপ্ন দেখলাম । তবে খোয়াবনামা নামক একটি বিষয় আছে শুনেছি খোয়াবনামা বিশেষজ্ঞগন নাকি ভিত্তিহীন স্বপ্নের ভিত্তি খুঁজে পান । প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হবে তাই বাইরে যাবার সময় দেখলাম রমি্ত এখনো ফেরেনি । বুকটা দুরু দুরু কাঁপতে লাগল কারন দুঃস্বপ্ন দেখে আমার মস্তিষ্ক কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আছে । বড় পোর্টেবলের শেষ প্রান্তে গো গো খেও মেও শব্দ শোনে থমকে দাঁড়ালাম । একটি সাপ ধরে দুটি বেড়ালে ঝগড়া করছে । দুর্বল বেড়ালরা চেয়ে চেয়ে দেখছে । এটি নতুন কিছু নয় তাই অবাক হলাম না বুঝে নিলাম গরম আসচ্ছে । নাইট গার্ড জয়নাল ভাই এসে আমাকে বলল – রমিতের কি হয়েছে টেন্ট এর পিছনে বসে বসে কাঁদছে সে । কি হয়েছে জানতে চাইলে আমারে খ্যাঁট ম্যাট করে উঠল । একটু গিয়ে দেখো , তাকে মনে হয় মাসানে ধরেছে নয়ত পরীতে ছাটা মেড়েছে ।আমি দেখছি বলে টেন্ট এর দিকে পা বাড়ালাম ।


রমিতের পাশে বসে একটি সিগারেট জ্বালালাম তাকে একটি দিলাম । কয়েকটি মাছি আমার শরীরে বসে জিভ দিয়ে চেটে পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে । কিন্তু মাছিদের এই সেবা বড্ড বিরক্তিকর । নিচে তাকিয়ে দেখলাম থুতু সর্দি ,চোখের পানি দশ পনেরো সিগারেট এর শেষ অংশ মিলিয়ে একটি অরুচিকর পরিবেশ তৈরি করেছে রমিত ।আর রমিতের এই পরিবেশ মাছিরা পছন্দ করেছে । কিছুক্ষণ পড়ে আমি বললাম – তোমার দাদী র অভিমান ভেঙ্গেছে ?
রমিত- হুম
আমি - বাড়িতে কোন সমস্যা আর আছে কি ?
রমিত- নাহ
আমি- তোমার মেয়ে কি বলল ?
রমিত- আজকেই দেশে যাবার অনুরোধ করল... হা হা হা ... তাকে কিভাবে বোঝাবো বিদেশ আসা যেমন কঠিন বিদেশ থেকে যাওয়াও তেমন কঠিন । জীবনের প্রদীপ নিভে গেলে হাসপাতালের হীম ঘরে দেহ পড়ে থাকে হাজার বছর নয়তবা কিছু দিন ।ভাবতে ভালো লাগে , মানুষ মারা গেলে তার ডেড সার্টিফিকেট টি এক পলক দেখার সুযোগ পায়না ।প্রশ্ন জাগে মনে এ বি সি ডি কোন গ্রেডে মানুষ মারা যায় তা কি ডেড সার্টিফিকেটে লেখা থাকে ?
আমি – তোমার আমার মাঝে অনেক অমিল এর মাঝেও একটি সুন্দর মিল আছে । আমরা দুজনই এক চিমটি ভালবাসার কাঙাল !আমরা কাশ ফুল হয়ে বাঁশ ফুল ছোবার চেষ্টা করি । তোমার আমা্র হৃদয়ের একই ক্ষরণ আমাদের মা নেই ।এখানেও তফাৎ আমার তো নেইইইই তোমার মা থেকেও নেই !তোমার মায়ের উপর অভিমান করে থেকনা তার সাথে কথা বলবে । দেখবে তুমি অনেক শান্তি পাচ্ছ । এখন তোমার মা তোমাদের পরিবার ছেড়ে অন্য একজনকে বিয়ে করে সংসার করছে । তার মানে এই নয় তোমার মা তোমাকে ভুলেছে । সবচেয়ে বড় কথা তিনি তোমার মা । তাকে ভালবাসা শ্রদ্ধা করা তোমার উচিৎ ঘৃণা করা নয় ।এখন আমার কথা তোমার ভালো লাগবেনা ! কিন্তু ,তিনি যদি চিরতরে হারিয়ে জান , বুঝবে কত মূল্যবান সম্পদ তুমি হারালে ।

রমিত উচ্চস্বরে কাঁদতে শুরু করল । মনে হচ্ছে ভালবাসার বরফগলা স্রোতধারা হৃদয় চিঁড়ে মিশে যাচ্ছে মহা সমুদ্রে। অনুতাপের সফেদ ফ্যানায় একটিও কালো বিন্দু দেখা জাচ্ছেনা । অনুরাগে গড়া প্রতিমা ভেঙে চূড়ে গুড়ো করে দিচ্ছে রমিতের বিবেক । জংলি সিপাঞ্জির পৃথিবির উপর অভিমান করে বুক চাপড়ানোর মত চাপড়াতে চাপড়াতে একটি শব্দ করছে মা আ আ আ , মা আ আ আ ...... মা আর বেঁচে নেই আজ তিনটের সময় টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জন মারা যায় । সেই তিন জনের একজন ছিল আমার মা । থানা থেকে লাশ ছাড়ল কিছুক্ষণ আগে । আমি শেষ দেখা দেখতে পাবোনা ।নিজের টিকেট এও কাল যেতে পারবনা ।কারন পৃথিবী জানে আমরা লেবার শ্রমিক আমাদের ইমারজেন্সি বলে কোন শব্দ থাকেনা । জীবন যুদ্ধে ধিরে ধিরে ক্ষয় হবার মত সবকিছু ধিরে ধিরে হয় । আমাদের কোন পরিবার থাকেনা , আমরা খাতা কলমে মানুষ হলেও শ্রমিক তাই বাস্তবে আমরা অমানুষ অবহেলিত নর্দমার কিট ।
আমি কিছুবলার আগেই রমিত আবার বলতে লাগল- সবাই জানে বা ভাবে আমি মাকে ঘৃণা করি যেটা ভুল ।আমি মায়ের থেকে দূরে দূরে থাকতাম কারন মায়ের সুখের সংসারে যেন কোন অশান্তি না লাগে ।শুধু হ্যালো কে এই শব্দ শোনার জন্য নেট থেকে প্রায় ফোন করতাম ।মাঝে মাঝে মা বুঝে নিত আমি ফোন করেছি । রমিত বাবা কথা বল ......চুপ করে কেন ?আমার উপর অভিমান করে কষ্ট দিস না বাবা ।তোর উপর আমার কোন রাগ নেই ।কিন্তু, তুই তোর বাপের অন্যায়ের কোন প্রতিবাদ করলিনা এটাই আমার দুঃখ !
আমি রেগে বলতাম আমি কি করব ?তুমিও তো অনেক বন্ধু নিয়ে আড্ডা জমাতে সেটা যদি দোষ না হয় , আব্বা একটি মেয়েকে বান্ধবী বানিয়েছে তাতে দোষ কি ?তুমি অকারন সন্ধেহে পরিবার নষ্ট করলে কি পেলে ?ভালো থেক তোমার নতুন পৃথিবী নিয়ে । লাইন কেটে দিতাম । এখন তো লাইন চিরতরে কেটে গেলো আর কোনদিন কথা বলতে পারবোনা । সত্যি খুব মূল্যবান রত্ন আমি হারালাম । এখন খুব ভালভাবে বুঝতে পারছি একসাথে না থাকলেও পরিবারের মায়ার বাঁধন ছিন্ন হয়না । অনন্ত কালের বাঁধন হচ্ছে পরিবারের বাঁধন । এখন সবাই ঘুমিয়েছে শুধু আমি জেগে আছি রাতজাগা পাখির মত ।নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা হচ্ছে খুব ঘৃণা ! আর একবার মায়ের সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে ।প্রান ভরে ডাকতে ইচ্ছে করছে মা আ আ আ ।

আমি রমিতকে বুকে টেনে নিলাম । তার মাথায় হাত বোলাতে লাগলাম । নিজের অশ্রু সংবরণ করতে পারলাম না । নিজেও মায়ের অবাধ্য ছিলাম , মাকে অনেক বিরক্ত করেছি । সময়ে কটু কথা বলেছি । এখন অনুভব করছি আমার রক্ত কণিকাগুলো আমার মায়ের ধুলোমাখা পা ধুয়ে দিচ্ছে । আমার বিকেক মায়ের পদতলে লুটিয়ে পড়েছে ক্ষমা চায়বার জন্য । মনের অজান্তে মাকে কষ্ট দেবার জন্য আমিও খুব অনুতপ্ত ।

ফজরের আজান ধ্বনি ভেসে এলো আমরা রুমে গেলাম ডিউটি যাবার জন্য ইউনিফর্ম পড়ে নিলাম । রমিত আজো ডিউটিতে যাবে কারন সে কোন প্রশ্নের মুখমুখি হতে চায়না । তার ব্যথা কারো সাথে সেয়ার করতে চায়না । সে একটি কথা খুব ভালভাবে বিশ্বাস করে জীবন একটি সংগ্রাম ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # বাস্তবতার আলোকে একটি অন্যরকম বেদনার শিহরন জাগানো গল্প । বেশ ভাল । ধন্যবাদ ।।
    প্রত্যুত্তর . ৮ এপ্রিল, ২০১৩
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক অসাধারণ....অসাধারণ....বানানের ভুলটা আমি আমলে নিচ্ছিনা...এমন একটি গল্প...যাতে চোখে জল আসে....সুন্দর বুনন...আর বস্তুনিষ্ট এবং বাস্তব সম্মত ক্ষুরধার লেখনি...রীতিমত মুগ্ধ....প্রিয়তে রাখলাম...
    প্রত্যুত্তর . ১০ এপ্রিল, ২০১৩
    • ইয়াসির আরাফাত এই গল্প কোন অবস্তানে আসুক বা নাসুক । আপনার হৃদয় ছুঁয়েছে জেনে ভেবে নিলাম এবার প্রথম হয়ে গেছি । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ গল্প টি মন দিয়ে পড়ার জন্য ।
      প্রত্যুত্তর . ১১ এপ্রিল, ২০১৩
  • তানি হক
    তানি হক আবেগে আপ্লুত হলাম আরাফাত ভাই ..অনেকদিন পরে আপনার গল্প কাদিয়ে ছাড়ল ..অনেক অনেক ভালো লাগলো ভাই আপনার প্রবাস গল্পটি ...শুভেচ্ছা আর ধন্যবাদ
    প্রত্যুত্তর . ১২ এপ্রিল, ২০১৩
    • ইয়াসির আরাফাত নববর্ষের শুভেচ্ছা নিবেন ,ভাইরে প্রবাস দিয়ে শুরু হলেও বিষয় টি পরিবার নিয়ে ।আর গল্পের বিষয় টি কমন , এখানে কাঁদার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না । জাস্ট অভিমান ও অনুরাগের পরিনতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র । আপনাকে গল্পটি ভাললেগেছে জেনে আমাকেও ভালো লাগছে ।
      প্রত্যুত্তর . ১৫ এপ্রিল, ২০১৩
  • খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি
    খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি আমিতো আমার গল্প বলেছি তুমি কেন কাঁদলে.....অথবা .....চলে যায় যদি কেউ বাধন ছিড়ে কাদিস কেন মন......গান গুলির জন্ম এভাবেই আবেগের তাড়নায় রচিত হয়েছিল......আরাফাত ভাই খুব ভাল লাগলো আপনার প্রয়াশ......শুভকামনা রইলো..............
    প্রত্যুত্তর . ১২ এপ্রিল, ২০১৩
  • আলোকবর্তিকা
    আলোকবর্তিকা আরাফাত ভাই, গল্পটি পড়ে আমি খুব ব্যথিত। আমার জীবনের খানিক প্রতিফলন রয়েছে। অসাধারন আবেগ আর বাস্তবতা। শুভ কামনা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ১২ এপ্রিল, ২০১৩
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় ভালো লিখেছেন আপনি--শুরুর দিকটা গল্পের ধারা কোন দিকে গড়াবে বোঝা যাচ্ছিলো না--এগোবার গতি সামান্য ধীর বলে মনে হচ্ছিলো।কিছুটা এগোবার পরে গল্পটি আরও সুন্দর ভাবে প্রকাশিত হোল।ছেলে মায়ের আত্মিক টান বড় সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন।মনের গভীরে কোথায় যেন আমি নিজেও বেদনাহ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৫ এপ্রিল, ২০১৩
    • ইয়াসির আরাফাত অভিমান ও অনুরাগের পরিনতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র । আপনাকে গল্পটি ভাললেগেছে জেনে আমাকেও ভালো লাগছে ।
      প্রত্যুত্তর . ১৭ এপ্রিল, ২০১৩
  • সূর্য
    সূর্য পারিবারিক টানাপড়েন, শ্রমিকশ্রেণীর অধিকারে বৈষম্য, সাবলীল বন্ধুত্ব... অনেক কিছুই জায়গা পেয়েছে গল্পে। অনেক অনেক ভাল লিখেছ।
    প্রত্যুত্তর . ১৫ এপ্রিল, ২০১৩
  • মোঃ আক্তারুজ্জামান
    মোঃ আক্তারুজ্জামান মুখে আমরা জাই বলিনা কেন বুকে পাকিস্তানীদের উপর একটি ঘৃণার দাগ থেকেই যায় , হাজার বৃষ্টি হোক সেই দাগ ধুয়ে জাবেনা এমনকি সভ্যতার রজত জয়ন্তীতেও খুশির জোয়ারে এই দাগ মুছে যাবার নয়- লেখকের ভাবনা যখন পাঠকের মনের কথা হয় তখনই পাঠক মুগ্ধ হয়| খুব ভালো লিখেছেন|
    প্রত্যুত্তর . ১৭ এপ্রিল, ২০১৩
  • মাহবুব আলম
    মাহবুব আলম awusome hoyse vai . pore khuv kosto pailam . thanks arafat vai
    প্রত্যুত্তর . ২০ এপ্রিল, ২০১৩
  • লুতফুল বারি পান্না
    লুতফুল বারি পান্না মনে হল একটা সত্যি গল্প পড়লাম। বাস্তব একটা ছবি।
    প্রত্যুত্তর . ২৬ এপ্রিল, ২০১৩

advertisement