লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ১১টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৪৩

বিচারক স্কোরঃ ২.৫৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮৯ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাবা (জুন ২০১২)

অনর্ঘ ঐশ্বর্য
বাবা

সংখ্যা

মোট ভোট ৬৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৪৩

ইসমাইল বিন আবেদীন

comment ৩৭  favorite ২  import_contacts ১,১১৯
নিরুপমা, কোথায় তুমি এখন ; কোথায় ?
সেই কবে যে তুমি চলে গেছ। তবুও তো তোমার বিচরণ আছে।
একটি দিনের জন্যেও কি আর ফিরে আসতে পারো না !
সর্বস্ব হারিয়ে এখন যে আমি নিঃস্ব প্রায়
তুমিই বা কোন অতল গহ্বরে বাঁধা আছো
কিংবা ফিরে আসার পথ কি ভুলে গেছ ? নাকি ধূসর
অন্ধকারে ডুবে আছ। খুব, খু-উ-ব জানতে ইচ্ছে করে।
আর কোনদিনই কি তুমি ফিরবে না !
কেন ফিরবে না ; কারণটা কি জানতে পারি না- ওগো ব্যর্থ দয়িতা !

এখন আমার মনের খোরাক, আমাদের পুষ্প- আর
তোমার লেখা সেই কবিতা গুচ্ছ।
ওরাই আমার হৃদয় দরজার কড়া নাড়ে
মাঝে মাঝে মনে হয় বেশ হয়েছে- ফিরিয়ে কী লাভ !
যে গেছে সে তো আসবার নয়।

আমাদের পুষ্প ; এখন অনেক বড় হয়েছে
মাকে সে খুঁজে ফেরে। অথচ এই আমি
তার মাকে এনে দিতে পারিনি। এক মুহূর্তের জন্যেও না !
আচমকা কখনও বলে ওঠে, বাবা- ও বাবা !
আমার মা কোথায় ? মাকে তুমি এনে দাও না বাবা !
কোন ভাষা খুঁজে পাই না আমি। এমনকি দু\'ফোটা পানিও
চোখে আনতে পারি না ওর মুখের দিকে চেয়ে। বলি এই তো
আর কিছুদিন পরেই তোমার মা আসবে, মামণি !
ফ্যাল ফ্যাল করে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে
দৃষ্টি যেন আমার কষ্ট বোঝার চেষ্টা।

পুষ্পের কথা বলতেই তুমি একদিন খুব করে হেসেছিলে
তখনও আমাদের পুষ্পের জন্ম হয়নি বলে।
কী দুর্বার সে হাসি- কী নির্মল অভিপ্রায় সে হাসিতে
দোল খাচ্ছিল ; কী লাজুক সে চাহনি !
দেখে মনে মনে আমিও অনেক হেসেছিলাম।
আর সেই হাসি মাখা মুখ নিয়েই হঠাৎ তুমি
নিজেকে সরিয়ে নিলে। আসলে তুমি পারো-
আকাশ ছোঁয়ার মোহে তুমি বিভোর হলে।
আচ্ছা, পুষ্পকে তোমার মনে পড়ে না ?
আর কেনই বা মনে পড়বে তুমি যে এক পাষাণী দার।
স্বার্থপরের মত তুমি যদি লুকিয়ে থাকতে পারো
আমি কেন পারবো না নিজেকে গুটাতে।
এখন বলবো তুমি মনকে ছিনিয়ে নিয়েছ তোমার নিজকে প্রকাশ করতে
যখন তোমাকে শোভন-অশোভনের মাঝে দেখেছি
তখন ভেবেছি, আমিই না হয় ভুল করেছিলাম
নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে। এই তো এখন বেশ আছি।
ভাবাতে পারছি অন্যকে নিজের করে। আর যখন
নিজেকে নিয়ে ভাবি-এভাবেই হয়তো বা
একদিন আমিও হারিয়ে যাব অন্যের মাঝে
হৃদয়ের মণি-কুঠিরে ; আপন বনে- নির্জনে
যেখানে আর হারানোর ভয় থাকবে না
স্বার্থপরতা থাকবে না ; থাকবে না কোন ছলনা-
তাই ব্যর্থতাও গ্রাস করবে না কাউকে
মর্ম আমার ঝলসে দেবে না কেউ অনল প্রবাহে !
সেই তারই প্রতীক্ষায় রয়েছি এই আমি।
তখন মনে হয়- আমার যে পুষ্প আছে
ও একদিন বড় হবে। অনেক বড়।
তখন না হয় একবার ওকে দেখে যেও !
না'ই বা দেখা দিলে- ক্ষতি কী !
অন্তত তোমার পুষ্পকে দেখে যেও !
জানি ! তুমি ফিরবে না তোমার আমিত্ব থেকে
তবে তোমার নিজকে তুমি বজায় রেখো !
কিন্তু তাও যে তুমি পারবে না , এও আমি ঢের জানি।

আজ আমি পুষ্পের মা-বাবা দুটোই
ওকে ঘিরেই তো আমার সবকিছু প্রবহমান।
কতটুকু পথ পাড়ি দিয়েছি তা এখনও জানিনা
আরও কত ঋতু হয়তো পার করতে হবে এভাবে
তাও ঠিক জানিনা- জানতেও চাই না।
জানি- একদিন আমাদের পুষ্পও আমাকে ছেড়ে যাবে
তারপরও যে আমি ওর বাবা
আমারই রক্ত কণিকা মিশে আছে ওর দেহে
হৃদয়ের স্পন্দনে, প্রতি শিরা-উপশিরায়
আমার কণ্ঠ ধরে আসে-- আমি পারিনা তোমার মত হতে
আমি হারাতে চাই না আমার পুষ্পকে।
পুষ্পই তো আমার অনর্ঘ ঐশ্বর্য ! বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন
তাই এভাবেই আমি বাঁচতে চাই, একজন বাবা হয়ে
আমি কেবল পুষ্পের বাবা হয়েই থাকতে চাই।
আর তুমি -- অদম্যকাল ধরে ভাল থেকো !

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement