তোমরা আবার এসেছো? আবার!
দরজা খোলা আছে, ভেতরে যাও
দেখো কিছু অবশিষ্ট আছে কিনা!
নিয়ে যাও, জ্বালাতন করোনা
আর কতবার আসবে তোমরা!
আর কি ই বা বাকি আছে নেবার?

কষ্ঠিপাথরের শিব, ঠাকুরমার স্মৃতির স্বর্ণালংকার,
দাদুর বৃন্দাবনী হুঁকো থেকে চিলমচী পর্যন্ত
কি নাওনি তোমরা?
কাঁসা-পিতলের থালাবাটি থেকে শীল-পাঁটা সব
কি নাওনি তোমরা?!
নাবালিকা বোনের মুখের শব্দমালা
মায়ের সম্ভ্রম প্রকাশ্যে বহুবার
বাবার জীবন, মায়ের মঙ্গলসূত্র
এমনকি শবদেহ হতে ছিনিয়ে নিয়েছ
ঘড়ি,আংটি,চশমা
সব লুটে নিয়েছো আমার আশৈশব স্মৃতির
আমার শেকড় আর ভবিষ্যত সব নিয়েছো
যুদ্ধাহত ক্লান্ত অবসন্ন দেহে
বহুদিন পর যখন শেকড়ের কাছে আসি
দেখি, পোড়া ভিটে ছাড়া কিছুই নেই
তোমরা সব নিয়েছো

আজ, এতগুলো বছরপর,সেই একই লেবাসে
সেই একই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে
আবার এসেছো?

নাও,সব নাও!
নয়মাস নিয়েছো
মুজিব নিয়েছো
মুজিবের প্রিয়জন প্রায় সবাইকে নিয়েছো
ছোট্ট রাসেলকে পর্যন্ত রেখে যাওনি
নিয়েছো চাঁর নেতা সহ অগনিত প্রাণ
অতঃপর নিয়েছো আমার চল্লিশ বছর

যা!সব নিয়ে যা!
আর কি আছে আমার?
আর কি আছে আমাদের?
সব নিয়ে যা! রাক্ষসের বাচ্চা!