এক শনিবারে

গর্ব সংখ্যা

risha naznin
  • ২৯
  • 0
  • ২১
দিনটি ছিল শনিবার । ফাংশন হলের ৩য় সারির একটি চেয়ারে বসে ঘরির দিকে তাকিয়ে ছিল সময় । অনুষ্ঠান শেষ হবার অপেক্ষায় ছিল সে । আজ সময়ের বাবাকে এক জন সার্থক শিক্ষক হিসেবে সম্মানিত করা হবে। ওদের স্কুলে এর আগে এরকম সম্মান কাউকে দেয়া হয় নি ।সময়ের বাবার বয়স এখন পঞ্চাশ এর ঘরে । তিনি এক জন সার্থক শিক্ষক । তাকে তার সব ছাত্র ছাত্রীরা ভালবাসে । তাদের কাছে তিনি এক জন সার্থক শিক্ষক । তিনি এক জন সৎ মানুষ অনেক কষ্টেও তিনি সততাকে ছাড়েননি । তার বাবাকে এত বড় সম্মান দেয়া হবে এই ব্যপার এ তার কোন আগ্রহ নেই । সময়ের বাবা একজন স্কুল টিচার । ছেলে মেয়েদের খুব বেশি কিছু দিতে পারেননি তিনি । সময়ের বাবা যে বেতন পান তা দিয়ে তার পরিবার খুব সাচ্ছন্দে দিন কাটাতে পারে না । তিনি প্রাইভেট পড়ান কিন্তু খুবই কম টাকায় যেন তার দরিদ্র ছাত্ররাও পড়ার সুযোগ পায় । সময়ের কাছে এগুলো নিতান্তই অযুক্তিক মনে হয় ।সময়ের অনেক বন্ধু আছে যাদের বাবা টিচার এবং তারা হাজার টাকা আয় করে ফেলছেন প্রাইভেট পড়িয়ে । তার সব বন্ধুরা কত ভালো আছে । তার কি এক জন স্কুল টিচার এর ঘরেই জন্ম নিতে হত ??? তার বাবা যদি মহাত্তা গান্ধী না সাজতে চাইতেন তাহলে সে আজ অনেক ভালো থাকতে পারত । কত ভালো ভালো অফার পেয়েছে বাবা জীবনে কিন্তু কোনটাই গ্রহন করেন নি । সময় বর্তমানে ইন্টার ১ম ইয়ার এ পড়ে । ওর চিন্তা জীবনে আর যাই করুক সে টিচার হবে না । দারিদ্রতা থাকতে দিবে না সে তার জীবনে ।
মাইকে একজন মহিলার গলা শুনতে পেয়ে ষ্টেজ এর দিকে তাকাল সময় । মাইকে সময়ের বাবার নাম ঘোষণা করা হল । চারপাশে করতালি বেজে উঠল । সময়ের বাবা স্টেজে উঠলেন । তার হাতে একটা ক্রেস তুলে দেয়া হল । আবার চার পাশে করতালি বেজে উঠল । মাইকে আবার সেই মহিলার কণ্ঠ ভেসে আসলো । মহিলাটি সময়ের বাবাকে কিছু বলার অনুরোধ জানালেন ।সময়ের বাবা মাইকের সামনে এসে দাড়ালেন । একটু কেশে গলা ঠিক করে নিলেন এরপর বলতে শুরু করলেন “ধন্যবাদ । ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে । আমার সকল ছাত্রদের । আজকে এত বড় সম্মান আপনারা আমাকে দিলেন এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ । আমি আমার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই তোমরা পড় জ্ঞান অর্জন কর । জ্ঞান তোমাদের অনেক উপরে নিয়ে যাবে ।কিন্তু তোমরা যাই কর কখনো সততাকে ছাড়বে না । বিবেকের কাছে ঋণী হবা না ।তাহলে জীবনের শেষ পর্যায় এসে তোমাকে অনেক আফসোস করতে হবে ।মনে রেখ মনের শান্তিই বড় শান্তি সব সময় তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না । জীবনে আমার অনেক উত্থান পতন ঘটেছে কিন্তু আমি সততার হাত ছাড়িনি । সততার হাত ধরে চলা সহজ না । আমি চলতে গিয়ে অনেকবার হোঁচট খেয়েছি আবার উঠে দাঁড়িয়েছি আবার হোঁচট খেয়ছি কিন্তু সততার হাত ছারিনি । এর জন্য আমি আমার স্ত্রীকেও ধন্যবাদ দিতে চাই । সততার সাথে চলতে সেও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে । আমি জানতাম একদিন আমি আমার কষ্টের ফল পাব । সেই দিন টি বোধহয় আজ । আজ আপনারা আমাকে যে সম্মান দিলেন আজ নিজেকে সার্থক মনে হচ্ছে । ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে । ”
সময়ের বাবা তার বক্তব্য শেষ করলেন । সময় এতক্ষণ তার বাবার কথাগুলো শুনছিল । এরকম কথা সে এর আগেও শুনেছে কিন্তু সেগুলো তার কাছে সবই অহেতুক মনে হয়েছে কিন্তু আজ তার বাবার কথাগুলো পরম সত্য মনে হচ্ছে । কিছুক্ষন আগ পর্যন্ত তার বাবার যে সব কাজের জন্য সে তার বাবার উপর অভিমান করেছিল সেই সব কাজগুলোর জন্যই এখন তার বাবাকে নিয়ে গর্বিত বোধ হচ্ছে । সময় দাড়িয়ে হাত তালি দিল । সবাই সাথে দাড়িয়ে হাত তালি দিল ।সাময়ের বাবা ষ্টেজ থেকে নেমে এলে সে তার বাবাকে জরিয়ে ধরল । সময়ের বাবা একটু হতভম্ব হলেন তারপর ছেলেকে জরিয়ে ধরলেন। সময় বুঝতে পারল বাহ্যিক দরিদ্রতা দূর করার চেয়ে মনের দরিদ্রতা দূর করা বেশি জরুরী ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
risha naznin ধন্যবাদ । এর পর থেকে বানান গুলো খেয়াল করার চেষ্টা করব ।
সালেহ মাহমুদ খুব সুন্দর একটা গল্প। আরো বর্ণ নাত্মক হলে ভালো হতো। বানানগুলো খেয়াল করবেন। “ সার্থক = স্বার্থক; সাচ্ছন্দে = স্বচ্ছন্দে; অযুক্তিক = অযৌক্তিক; ক্রেস = ক্রেস্ট; দাড়ালেন = দাঁড়ালেন; ছারিনি = ছাড়িনি; কিছুক্ষন = কিছুক্ষণ; দাড়িয়ে = দাঁড়িয়ে; জরিয়ে = জড়িয়ে; দরিদ্রতা = দারিদ্র্য” ধন্যবাদ।
মনির মুকুল শেষ লাইনটা বেশ অর্থবহ। গল্পটাতে সুন্দর একটি দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় মেলে। লেখনীর মাধ্যমে এধরনের একটি ইতিবাচক মেসেজ তুলে ধরার জন্য লেখককে সাধুবাদ।
risha naznin ধন্যবাদ সবাইকে । সূর্য ভাই আমরা যদি সবাই উপলব্ধি করতে পারি তবেই না কিছু একটা করতে পারব । দোয়া করবেন যেন এটা উপলব্ধি পর্যন্ত না থাকে এর সামনেও যেন যায় ।
মনির খলজি মানুষ বানার কারিগর একজন সার্থক শিক্ষক নিয়ে লিখা বেশ সুন্দর একটা লিখা ..প্রশংসনীয় ...শুভকামনা রইল !
Azaha Sultan গল্প ছোট......তবে বুনন খুব সুন্দর.....অনেক ভাল বলব.......
সূর্য সময় বুঝতে পারল বাহ্যিক দরিদ্রতা দূর করার চেয়ে মনের দরিদ্রতা দূর করা বেশি জরুরী >> অনেক কঠিন সত্য কথা তবে এখন সম্বর্ধনা দেয়াটাও একটা খেলা হয়ে গেছে। একজন সৎ রিক্সাওয়ালা মুক্তিযোদ্ধাকে আমাদের "চলাচল খেলাঘর আসর"এর পক্ষ থেকে সম্মান জানিয়েছি। তার কিছুদিন পরে ডাকঢোল পিটিয়ে বেশ ক'জন ভূয়া, নামধারী মুক্তিযোদ্ধার সম্বর্ধনা দেয়াও দেখেছি। আসলে সম্মান বোধটা থাকে নিজের মনে অন্য মানুষের অন্তরে। এটা একান্তই উপলব্ধীর বিষয়। ***** গল্প ছোট, পরিচিত হলেও অনেক ভাল লেগেছে।
খন্দকার নাহিদ হোসেন গল্পে সরলতাটুকু ভাল লাগলো। আমি হয়তো রিশার বয়সে এরকম কিছু ভেবে এমন উপদেশের গল্প কখনো লিখতে পারতাম না। তবে কবিতা হলে হয়তো একটু চেষ্টা করতাম! যাইহোক, গল্পের উপদেশ সুন্দর। লেখাও বেশ। শুধু চাই গল্পকার প্রচুর গল্প পড়বে যাতে করে সে নিজেকে আরো তৈরি করতে পারে। সামনের জন্য শুভকামনা রইলো।
মোঃ আক্তারুজ্জামান আপনার বাবার সত্য ভাষণটি আমারও মনের কথা| অনেক অনেক শুভাশীষ রইলো|
risha naznin ধন্যবাদ আপনাদের ।

২৪ জুন - ২০১১ গল্প/কবিতা: ১ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "ভয়”
কবিতার বিষয় "আঁধার”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ আগষ্ট,২০২১