এক ছায়াপথ বিস্তৃত নক্ষত্র বাগান ছিল এই হৃদয় প্রাচীরে। রূপকথার সোনালি
প্রজাপতিগুলো ডানামেলে উড়ে বেড়াত সেই নক্ষত্র মেলায়, গাইত সান্ধ্য প্রেমসংগীত।

বড্ড ইচ্ছে ছিল বিস্তৃত নীল সীমানা ছুঁয়ে বাঁধবো ছোট্ট এক চিলেকোঠা
অবাধ্য দিনের ফিনিক হারানো সব উত্তাপ নিভে গেলে,
পৌরাণিক কোন ফিনিক্স হয়ে ভেসে যাব কসমিক শূন্যতায়।

অমর্ত্য কুয়াশার গা ছুঁয়ে নেমে আসা মেনকা- দিয়েছিলো শূন্যতার প্রতিশ্রুতি!
কথা রাখেনি সে! ছিড়ে ফেলেছিল হৃদয়ের গহীনে লুকিয়ে রাখা রুপালী খামের রৌদ্রচিঠিটা,
উড়ে গিয়ে রক্তিম জলের গভীরে আরো গভীরে ঢুকে পড়ে ছেড়া খামের সেই চার বর্ণ।

মহাকাশ পথ পাড়ি দিয়ে আমার গাড় অন্ধকার বেয়ে নেমে আসে মরফিয়াসের মিষ্টি ঘ্রান,
এদিকে নিয়ত মনের ডানা গ্রাস করে চলেছে ইনসমনিয়ার অতল প্রহরীরা।

আমার উদ্ভ্রান্ত শহরের পাতালপুরী আজ তীব্র এসিড বৃষ্টিতে ভিজে অসাড়
পাঁজরে নিথর পড়ে থাকে কিছু কংক্রিটের ব্লক আর পাথরেরা।
মিছিমিছি তবুও পাবার আশায় ভেজা শ্যাওলার পাথরে হড়কে পুরানো সেই রক্তক্ষরণ।

সুরালয় ঠিকানায় ওড়াবো ভেবে স্বপ্নসুতোর দূরত্ব মেপে কিনেছিলাম সাদা একটা ঘুড়ি।
হয়নি! পাথরের ঘুম ভাঙ্গিয়েছি, অভিশাপে-
লাল রক্তের ছোপ লেগে ঘুড়িটা আজ খোলস বন্দি শামুকে।
এখন নক্ষত্রের করুণ সেরেনেডে আকাশ ছুঁয়ে বর্ষা নামলে, সারারাত ডুবি সবুজ মখমলের চাদরে।
বৃষ্টির জল অবশেষে সমুদ্রে গিয়ে পরে- তার স্বাদ নোনা কেন সেই খবর কেউ রাখেনা।

আর আমি নিয়ত বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দেই
অভিকর্ষটানে তোমার কক্ষপথে- দিগন্ত জুড়ে,
সময়ের কাস্তেতে কাটি শুন্যতার ফসল আর বুনে চলি আশার বীজ।