অবহেলায় পড়ে থাকা জীর্ণশীর্ণ যে বাড়িটায় আমি থাকি সেটায়
কোন অর্ন্তদ্বার নেই। একটা মরচেধরা-কড়া আটকানো জানালা আছে,
ওটার শার্সিতে, ভাঙ্গা কাঁচের ফোকরগলে প্রতিসকালে মেঝেতে এসে পড়ে
একচিলতে বিমর্ষ আলো। ইচ্ছে হলেই আরব্যোপন্যাসের সেই চিচিং-ফাঁক
দিয়ে দেখা যায় ফ্যাকাসে নাশপাতির মত ঝুলতে থাকা আকাশটা।

দিমিত্রি গ্যাছে বিদেশ ভ্রমণে, নিস্তব্ধ এই আমায়- চেতনাসঞ্চারে আজ আর
মন নেই কোন গগনচারিণীর। আনন্দ বলতে এখানে শুধুই করোটির ভেতর
জমে থাকা অবসাদগ্রস্থ ভালবাসার অঙ্কিত কঙ্কাল।
আর মরফিয়াসময়- নেশাগ্রস্থ চোখে তাকালে ধোঁয়াটে দেয়ালে দ্যাখা মেলে-
কালো মাকড়সার জাল বিছানো কিছু তামাদি স্মৃতি।

ইট-রঙ খসে পড়া এই বাসস্থানে আমার একমাত্র সঙ্গি,
বহুদিন সযত্নে আগলে রাখা মৃত ভালোবাসার এক কফিন।
পুরাতন পলেস্তর ওঠা কাঠের উপর জমে আছে ইঞ্ছিখানেক ধূলির স্তুপ,
প্রতিটি কোণায়-কোণায় ঠুকে দেয়া হয়েছে অন্তত হাজারখানিক পেরেক।
অব্যবহার্য পঁচা বাক্সটার দুর্গন্ধে ঘুণপোকারাও বেশ বিরক্ত- বিতৃষ্ণায়
ধারেকাছেও আনা-গোনা নেই দু’একটার।

মেকি আধুনিকতার যুগে ডাকপিয়নেরা এখন সব বেনিয়াদের দখলে।
বেনোজলে ভেসে গেছে সব বর্ণমালা, জানি আসবেনা আর কোন রুপালি খামের চিঠি।
ক্যালেন্ডারের অন্তিম পাতায় সজোরে ঠুকেছে- হাতুড়ি তার শেষ গজালটাও।
তাই কালের বিস্মৃতিতে সময়গুলো এখন শুধুই ইতিহাস ।