তারপর সময় গত হলো বলে আমরাও উড়ে চললুম আসমুদ্রহিমাচল; তারপর পাতালগর্ভের ভজনালয়ে কল্পিতশ্লোক আউড়ে আউড়ে আমরা শিখে নেয়েছি গ্রহণকালের শিষ্টাচার; কালে কালে দেহাতি হলো আমাদের অশ্রাব্য রন্ধনপ্রণালী - কেননা ল্যাম্পপোস্টের চোয়ালে সেঁটে দেয়া হয়েছিল আমাদের জাগতিক ক্ষুধার মানবিক শৈলী; তারপর- তারপর আমরাও অসঙ্কোচে দাঁড়িয়ে যাই চৌরাস্তার মোড় থেকে নাইটক্লাব, পানা পুকুর থেকে সুইমিং পুল, অথবা ধোঁয়া ওঠা ভাতের সুগদ্ধি থেকে বেহুলার সঙ্গীতসভায়;
আমরা জেনেছি নির্ঘুম পরিভাষার গিলাফ মোড়ানো অপরাহ্ন - সান্মাষিক বয়োফ্রেমের নিগূরতা দেখে দেখে তোমারও হয়েছিল সুনিশ্চিত নৈতিকস্খলন; অথচ আমার অনাস্থায় কেউ কেউ ভেবে নেয় নক্ষত্রের প্রসবচিৎকার, মৃগনাভিঃ বিষয়ক অভিসন্দর্ভ, আর প্রেয়সীর উপমায় নিস্পৃহ চাঁদের বাস্পীভূত সাহিত্যবাথান; বাহ্যত তাঁদের সন্তাপনামায় লেখা আছে ভূঁইফোর মাঠ, শিল্পিত নখরের ব্যবহার্য প্রকরণ থেকে ভরপেট সভ্যতার জায়নবাদি হাসি; তুমিও অভাব্যতায় গুনে চলো সময় - কেননা সময়সংক্রান্ত রোমন্থনধারায় আমাদের হাত ছিল না, অথবা প্রাচীন চর্যাপদের অনাগ্রহেই সেঁটে নিয়েছিলুম আমাদের অদ্যকার বুভুক্ষ পরিচ্ছদ; আমাদের অখন্ড সকাল প্রতিদিন জীবন্ত লাশের নিস্পন্দ মিছিল - আমাদের দুপুর কলোনীর ডাস্টবিন ঘাঁটা উচ্ছিস্টভোজী টোকাইয়ের ঘৃণিত হাত - আমাদের সন্ধ্যা লোমহীন কুকুরের সাথে গলাগলি হরহামেশা, আর অনাগত শতাব্দীর কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক গির্জার দেয়ালে না হয় লেখা হবে প্রতিটি রাতের অবিশ্বাস্য সব ধারাবর্ণনার নান্দনকি ইতিহাসচরিত; এইসব শঙ্কাতেই যদিও আদৃষ্ট হয়েছিল আমাদের লোকায়ত পঠনপাঠন তথাপি তাঁহারাই হরিনাম; নির্জনপ্রকোষ্ঠে রূঢ় উপদ্রব!
সদাবিপন্ন গ্রন্থিমূলে আমাদের চড়াই-উৎড়াই; আমরা ঢাঁকা পড়ে আছি মোহাচ্ছন্নের মতো - আমরা আটকে গেছি পাতালগর্ভের কল্পিতশ্লোকে - মঙ্গাতাড়িত আমাদের প্রাচীন দেহ আসমুদ্রহিমাচল উড়েও অদ্যাবধি ক্লান্তখেচর ...
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
বিষণ্ন সুমন
কি ছেলে বলেছিলাম না, তোমার লিখায় আমার কমেন্ট করার দিন শেষ, এবার হলো তো । এখন থেকে প্রতি এক মাস পরপর এমনি একটা কমেন্ট দেব : অভিনন্দন অফুরন্ত ।
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।