সাধারণত বাপন সকালে স্কুলে যাবার সময় বেশি খেতে পারে না। তাই হালকা না¯—া সেড়ে স্কুলে যায়। এরপর ফেরার পথে মা বার্গার, স্যান্ডুইচ প্রভূতি কিছু না কিছু কিনে দেন। সে গাড়িতে বসে খেতে খেতে বাসায় আসে। মাঝে মাঝে বাসায় ফিরেই না¯—া করে। সেদিন স্কুলের পাশের কেএফসি থেকে মা তাকে জিনজার বার্গার কিনে দেন। সে গাড়িতে বসে খাওয়ার জন্য যেই না বার্গার মুখের কাছে নেয় অমনি একটি দৃশ্য দেখে তার বমি আসে। সে মুখের কাছ থেকে বার্গারটি সরিয়ে ফেলে। বমি করার জন্য জানালার গ­াস নামিয়ে বাইরে মাথা বের করে দেয়। তার কখনও এমন হয়নি। এ অবস্থা দেখে ড্রাইভার গাড়ি পাশে করে রাখে। তার মা খুব অস্থির হয়ে উঠেন। কিন্তু তার বমি হয় না। সে হঠাৎ ড্রাইভারকে বলে গাড়ি পেছনে নিতে। তার মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন- ব্যাপার কি? বাপন তখন তার মাকে ব্যাপার খুলে বলে। বলে, পেছনে একটা ডাষ্টবিনের কাছে দেখেছে যে তার মত বয়সীই একটা মেয়ে ডাষ্টবিনের ময়লা থেকে খুঁটে খুঁটে কি যেন খাচ্ছে। সেটা দেখে তার বমি আসে। এইটুকু বলার পর সে একটু থামে। তারপর মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নরম সুরে বলে- আচ্ছা মা আমি তো সবসময়ই এসব খাই। আজকে আর এটা খেতে ইচ্ছে করছে না। এটা ওকে দিয়ে আসি চলো। এ কথা শুনে মা খুব বিরক্ত হন। ড্রাইভারকে নির্দেশ দেন গাড়ি ষ্টার্ট দিতে। বাপনের মন খুব খারাপ হয়ে যায়। সে বাসায় এসে ও কিছু খায় না। খাবারের কাছে গেলেই তার রা¯—ার দৃশ্য মনে পড়ে। আর তখনই তার বমি আসে। সে সারাদিনে আর কিছুই খায় না। রাতে বাবা অফিস থেকে ফেরার সাথে সাথে বাবার কাছে নালিশ চলে যায়। বাবা তার কাছে জানতে চাইলে সে সব খুলে বলে। তখন সে হঠাৎ তার বাবার কাছে জানতে চায়- আচ্ছা বাবা আমরা কি পারি না অš—তপ¶ে এদের একজনের মুখে হাসি ফোটাতে! প্রতিদিন না হোক অš—ত সপ্তাহে একদিন কিংবা মাসে একদিন!
-না বাবা সেটা অনেক ঝামেলার।
-কি ঝামেলা বাবা। সেটা কি অনেক খরচের ব্যাপার।
-না না তা না। ওটা অনেক হাঙ্গামা। আর ওদের দেখাশুনার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে।
-বাবা তাই বলে কি আমরা চাইলে ও একটা দু’টো পথশিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পারবো না। হঠাৎ ছেলের এমন কথা শুনে বাবা কিছুটা নরম হন। তারপর ছেলের সাথে ভাবতে বসেন কি করা যায়। তার সিদ্ধাš— নেন প্রতি শুক্রবার তার দশজন পথশিশুকে ভাল পোশাক কিনে দেবেন আর ভাল খাবার খাওয়াবেন। কিন্তু সমস্যা হলো তাদেরকে নিয়ে আসবে কে। পরে বাবা ড্রাইভার মজনু কাকা, দারোয়ান আনোয়ার, শরীফ খালা আর বাবার অফিসের ষ্টাফদেরকে বলেন। তারা এক এক শুক্রবার এক একজনে দশজন করে পথশিশুকে নিয়ে আসেন। সেদিন বাপনের মনে আর আনন্দ ধরে না। সে নিজে যায় বাবার সাথে বাজার করতে। তারপর বাবার সাথে সাথে নিজেও খাবার পরিবেশন করে। এরপর তাদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয় নুতন জামাকাপড়। প্রথম প্রথম তার মা এতে বিরক্ত বোধ করেন। এরপর তিনি নিজেও জড়িয়ে পড়েন এই আনন্দ কর্মে। বাপনের কাছে মনে হয় তার বাবা মা’র মত ভালো বাবা মা আর পৃথিবীতে নেই।