লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৩০টি

সমন্বিত স্কোর

৫.১৪

বিচারক স্কোরঃ ২.৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৩৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঅন্ধকার (জুন ২০১৩)

রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে
অন্ধকার

সংখ্যা

মোট ভোট ৩৯ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.১৪

সোহেল মাহরুফ

comment ১২  favorite ১  import_contacts ১,৫৫৬
কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ক্লান্ত দু’টি চোখ। হাতের আঙ্গুলগুলো আর কিবোর্ডের ওপর চলতে চায় না। হাসান হঠাৎ লেখা বন্ধ করে সমুখের দেয়ালের দিকে তাকায়। যেন রঙ্গিন দেয়ালের নিরেট বুকে ফেলে আসা জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে ফেরে। নিজের অজান্তেই বেরিয়ে আসে দীর্ঘ নিঃশ্বাস। অনেক কিছুই হওয়ার কথা ছিল তার। ক্লাসের মেধাবী ছাত্র থেকে মহাকাশ বিজ্ঞানী কিংবা তরুণ মেধাবী নাট্যকর্মী থেকে বিশ্বের সমকালীন শিল্প সংস্কৃতির অঙ্গন কাঁপানো নাট্যকার কিংবা নাট্যনির্মাতা কিংবা আরও অনেক কিছু। আরও অনেক কিছুই হতে পারতো তার জীবনে। অনেক কিছুই তার এই নিস্তরঙ্গ, বিবর্ণ, বিরস জীবনকে রঙ্গিন, আনন্দময়- অর্থবহ করে তুলতে পারতো। কিন্তু হয়নি। কেন হয়নি? হয়ত সে চায়নি। নইলে কলেজের পাট চুকিয়েই তো সে এ্যারোইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ার জন্য স্কলারশিপ জোগাড় করে ফেলেছিল স্টেট্স এর একটি নামকরা ইউনিভার্সিটিতে। কিন্তু যাওয়া হয়নি। সে যায়নি। নাটকের ওপর হাইয়ার স্টাডির জন্য স্কলারশিপ জুটেছিল জার্মানীতে। সে যায়নি। নিউইয়র্ক-আমাস্টারডাম এর বড় বড় মঞ্চে কাজ করার অফার সে অনায়াসে ফিরিয়ে দিয়েছে। সে চায়নি। কেন চায়নি? এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে অনেকদিন পর একটা মুখের ছবি তার চোখের সামনে ভেসে উঠে। হ্যাঁ, জেনির মুখ। এই একটা মুখচ্ছবি যার প্রতি তার শর্তহীন মুগ্ধতা তার জীবনকে এমন নিস্পন্দ করে দিয়েছে। হ্যাঁ নিস্পন্দই তো বটে। এখন কি করে সে।এই মাঝে মাঝে নাটক বিষয়ে টুকিটাকি লেখালেখি, নাটকের প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা, কর্মশালার ক্লাস নেওয়া, মাঝে মাঝে নবীন নাট্যকর্মীদের সাথে আড্ডা দেওয়া আর দেশি-বিদেশি কোনো নামীদামী নাটকের লোক আসলে তাদের সাথে দেখা সাক্ষাত করা-এইতো। এর বাইরে আর কিছু করা হয় না। অথচ একদিন কত কিছুই না করতো। স্বপ্নের পেছনে কি উদ্যমেই না ছুটে বেরিয়েছে সে। অথচ কোনো এক সর্বনাশা ফাগুনে ঐ মুখের প্রতি তার অপলক দৃষ্টি তাকে চিরতরে স্তব্দ করে দিয়েছে। এরপর অনেক কিছুই অনেকভাবে চেষ্টা করেছে। কিন্তু কিছুই তার সেভাবে আর করা হয়ে উঠেনি। সে সত্যিই জেনিকে ভালোবাসত। অদ্ভুত সে ভালোবাসা। যে ভালোবাসার কথা মুখে কোনোদিন সে জেনিকে বলতে পারেনি। বলতে চেষ্টাও করেনি। ভাবতো ভালোবাসা যদি সত্যিই স্বর্গীয় হয় তবে জেনি একদিন ঠিকই বুঝতে পারবে এবং তার কাছে চলে আসবে। এবং সেজন্য সে অপেক্ষাও করে। কিন্তু তার অপেক্ষাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জেনি অন্যের হয়ে যায়। তবু সে হাল ছাড়ে না। অবশেষে সে তার চোখের সীমানা থেকেও বহুদূরে চলে যায়। তবু সে অপেক্ষায় থাকে। সে মনকে প্রস্তুত করে। ভাবে, জেনি যদি শেষ বয়সেও তার কাছে আসে সে তাকে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করবে। এই অপেক্ষাতেই দিন গুণে গুণে সে এখন জীবন সায়াহ্নে। এর ভেতরে জেনি একবার কি দুইবার বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু সে দেখা করেনি। এখন জেনি অস্ট্রেলিয়ায় আছে। সে জানে এবং তার সব খবরই রাখে। তবু তার সাথে যোগাযোগের কোনোরকম চেষ্টা সে করে না। তার বিশ্বাস ভালোবাসা সত্য হলে জেনি নিজের থেকেই তার কাছে আসবে কিংবা যোগাযোগ করবে। যদিও এখন আর তেমন একটা ভরসা পায় না। দিনতো দেখতে দেখতে শেষ হতে চলল। তবে কি এ জগৎ এ জেনির সাথে তার দেখা হবার আর কোনো সম্ভাবনাই নেই? তবে কি পরকালে তার সাথে জেনির দেখা হবে? না কি সেখানেও তাকে এমন ধোকা খেতে হবে। ভাবতেই তার মন বিষাদে ভরে উঠে। ভাবে, তার জীবনটা কি তবে ব্যর্থই হলো? এক মানবীর তরে তার পুরো জীবনই কি তবে উৎসর্গকৃত? তাই কি কবি এটা বলেই জীবন নষ্ট করেছিলেন-


“এক জীবনে কতটা আর নষ্ট হবে,
এক মানবী কতটাই বা কষ্ট দেবে।”

তার আর কিছুই ভাবতে ইচ্ছে করে না। সে কম্পিউটারের টেবিল ছেড়ে উঠে গিয়ে ছোট্ট খোলা বারান্দায় দাঁড়ায়। মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকায়। দেখে আকাশ জুড়ে অনেক তারা। হঠাৎ দেখে তার ভেতর থেকে একটি তারা ঝরে পড়ছে। তার হঠাৎ মনে পড়ে ছোটবেলা শুনেছিলো- তারা ঝরতে দেখে কিছু চাইলে তা পাওয়া যায়। সে এভাবে অনেক অনেক রাত তারা ঝরতে দেখে জেনিকে চেয়েছে। কিন্তু পায়নি। তারপর ভুলেই গেছে। আজ হঠাৎ কিছু চাইতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু মনে হলো তার আর কিছু চাওয়ার নেই। তবু তার মনের অজান্তেই মন থেকে বেরিয়ে এলো-“জেনির সাথে এই জীবনে যেন আর একবার দেখা হয়।” তারপর তার ভাবনা হঠাৎ অন্যদিকে মোড় নেয়। ভাবে, রাতের এত তারারা দিনের আলোয় কোথায় পালায়? ভাবে, পালাবে কোথায়? আকাশেই থাকে। যেমন জেনি তার বুকে আছে অহর্ণিশ। শুধু মাঝে মাঝে অন্ধকারে উঁকি দেয়।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement