ভালোবাসার পরিমাণ

ভালবাসি তোমায় সংখ্যা

মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস
  • ১২
ছেলেটি প্রায় প্রতিদিনই মেয়েটির কাছে জানতে চাইত, "তুমি আমাকে ঠিক কতটুকু ভালোবাসো?"
মেয়েটি সবসময় ছেলেটির এই প্রশ্নকে এড়িয়ে যেত, সে বলত "সময় হোক তারপর জানতে পারবে"।
এভাবেই তাদের প্রেমময় দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল। মেয়েটির সময় হয় না ছেলেটিকে সে কতটুকু ভালোবাসে তা জানাতে আর ছেলেটিও অপেক্ষায় থাকে মেয়েটি একদিন তাকে তার ভালোবাসার পরিমাণ জানাবে।

মেয়েটি ছেলেটির কথায় মনে মনে হাসে। ভাবে "ভালোবাসা কি কভু পরিমাপ করা যায়! যদি ভালোবাসা পরিমাপযোগ্য হয় তাহলে সে কতটুকু ভালোবাসে ছেলেটিকে?" মেয়েটি হিসাব কষতে বসে। কিন্তু মেয়েটি এই হিসাব মেলাতে পারেনা।

এমনি ভাবে একদিন মেয়েটির আচরণে ছেলেটি কষ্ট পায়। ছেলেটির জন্মদিন ছিল সেদিন। প্রতিটি মানুষ তার জন্মদিনে তার প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে কিছু না কিছু পেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি ছেলেটিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতেও যেন কার্পণ্যবোদ করে। তাই ছেলেটির মনে শন্দেহ হয় সত্যিই কি মেয়েটি তাকে ভালোবাসে নাকি শুধুই টাইম পাস! সে মেয়েটির কাছে জানতে চায় "তুমি কি সত্যিই আমায় ভালোবাসো?" জবাবে মেয়েটি বলে "আমি বস্তুগত ভালোবাসায় বিশ্বাসী নই, তবুও যদি চাও তাহলে সেই উপহার ভবিষ্যতের জন্য রক্ষিত থাকল।"

ছেলেটি চায় তাদের এই ভালোবাসার কথায় আকাশের গায়ে লিখে দিতে যেন পৃথিবীর সবাই তা দেখতে পারে। কিন্তু মেয়েটি সবসময় অন্তরালে থাকতে চায়, সে চায়না তাদের এই ভালোবাসা পৃথিবীর অন্য কেউ জানুক।

ছেলেটি মেয়েটিকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যেতে চাই, দুজন একান্তে সময় কাটাতে চায়। ছেলেটি চায় মেয়েটিকে সব উজাড় করে ভালোবাসতে, কিন্তু মেয়েটি যেন অদৃশ্য শেকলে বন্দি। সে কেবলই বলে "সবই হবে বিয়ের পর"।

মেয়েটির এমন আচরণে ছেলেটি কষ্ট পায়। ছেলেটি আবারো মেয়েটির কাছে জানতে চায় "তুমি সত্যি করে বলতো আমাকে কতটুকু ভালোবাসো?" প্রবাদ আছে বাঙ্গালী মেয়েদের বুক ফাটে তবুও মুখ ফোটেনা। আর এই মেয়েটি যেন সেই প্রবাদ থেকেই উঠে এসেছে। মেয়েটি এবারো এই প্রশ্ন এড়িয়ে যায়, বলে "সময় হলে জানতে পারবে"।

ছেলেটি ধৈর্য ধরে থাকে মেয়েটি নিশ্চয় তাকে একদিন জানাবে আর মেয়েটিও ভাবতে থাকে কিভাবে ভালোবাসার পরিমাণ বের করা যায়।

তাদের ভালোবাসার বুকে একদিন ঝড় নেমে আসে। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলেটি তার দৃষ্টিশক্তি হারায়। মেয়েটির পরিবার ছেলেটিকে ভুলে যাওয়ার জন্য মেয়েটিকে চাপ দেয়। তারা অন্ধ ছেলের সাথে তাদের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে মেয়েটির জীবন ধ্বংস করতে চায় না।

মেয়েটির পক্ষে ছেলেটিকে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না আর মেয়েটিকে হারালে ছেলেটির বেঁচে থাকাও অসম্ভব হয়ে উঠতো। মেয়েটি জানতে পারে ছেলেটি আই ট্রান্সপ্লানেট করলে সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে। মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয় ছেলেটিকে সে তার একটি চক্ষু উপহার দিবে। যে উপহার ছেলেটির জন্মদিনে দেওয়া হয়নি।

মেয়েটির এই সিদ্ধান্ত তার পরিবার মানতে নারাজ, নরম বস্তু আগুনে পুড়ালে যেমন তা শক্ত হয়ে উঠে তেমনি-ভাবে নরম মনের এই মেয়েটিও নিজের ভেতর বেদনার আগুনে পুড়ে যেন শক্ত হয়ে উঠেছে। তাই তার পরিবার তাকে থামাতে পারেনি।

মেয়েটির এই সিদ্ধান্ত মানতে চায়না ছেলেটিও। তখন মেয়েটি বলে "তুমি আমার কাছে জানতে চাইতে আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি, ভালোবাসা আসলে কখনো পরিমাপযোগ্য নয়। তবুও যদি আমার ভালোবাসার পরিমাণ তোমার জানতে ইচ্ছা হয় তবে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখো। আমার দৃষ্টিতে সব লেখা থাকবে।"
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
মোজাম্মেল কবির প্লট সুন্দর... কিছুটা বাড়ানো যেতো। বানানে একটু সতর্ক হতে হবে...
ভালো লাগেনি ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
সূর্য গল্পের ছেলে মেয়ে ভালবাসার পার্থক্যটা বেশ মোটা দাগের, ছেলেটার প্রেমে মনে হয়েছে প্রাপ্তী চাহিদাটা প্রবল এবং বহির্মূখী আর মেয়েটার প্রেম শ্বাশাত এবং অন্তারালের। বাস্তব ক্ষেত্রে এখানে প্রেম দানা বাধার আগেই ঝরে যায়। ভালো লিখেছো।
ভালো লাগেনি ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
মোঃ মহিউদ্দীন সান্‌তু বেশ সুন্দর গল্প,
ভালো লাগেনি ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
বর্ণা আহমেদ কিছু একটার কমতি মনে হচ্ছে দুটো নাম দুটো পরিচয়ের বড়ই প্রয়োজন গল্পটার পরিপূর্ণতা আনতে, অন্যথায় চম্তকার কাহীনি
ভালো লাগেনি ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
রাজিব হাসান গল্পটা সুন্দর . তবে আমার মনে হয় গল্প লেখনীতে ধারাবাহিকতাটা একটু এলোমেলো হয়ে গেছে . যেমন "মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয় ছেলেটিকে সে তার একটি চক্ষু উপহার দিবে। যে উপহার ছেলেটির জন্মদিনে দেওয়া হয়নি।" তাহলে কি মেয়েটি অপেক্ষায় ছিল কবে ছেলেটি তার চক্ষু হারাবে ???
ভালো লাগেনি ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস চক্ষুই উপহার দিবে এমন ভাবনা তার ছিলনা। সে হয়ত অন্যকিছু উপহার দিত। কিন্তু ছেলেটি দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর চোখের চেয়ে বড় কোন উপহার তার কাছে ছিল ন।
ভালো লাগেনি ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
ওয়াহিদ মামুন লাভলু মেয়েটির পক্ষে ছেলেটিকে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না আর মেয়েটিকে হারালে ছেলেটির বেঁচে থাকাও অসম্ভব হয়ে উঠতো। মেয়েটি জানতে পারে ছেলেটি আই ট্রান্সপ্লানেট করলে সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে। মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয় ছেলেটিকে সে তার একটি চক্ষু উপহার দিবে। যে উপহার ছেলেটির জন্মদিনে দেওয়া হয়নি। অসাধারণ ভালবাসা। খুব ভাল লিখেছেন। আমার শ্রদ্ধা জানবেন।
ভালো লাগেনি ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস ধন্যবাদ আপনাকে
ভালো লাগেনি ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

১৮ মে - ২০১১ গল্প/কবিতা: ২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "ভয়”
কবিতার বিষয় "আঁধার”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ আগষ্ট,২০২১