লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ মে ১৯৬৮
গল্প/কবিতা: ১১৩টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৯৫

বিচারক স্কোরঃ ২.৭৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftস্বাধীনতা (মার্চ ২০১৩)

দিনলিপি
স্বাধীনতা

সংখ্যা

মোট ভোট ৩৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৯৫

মিলন বনিক

comment ১১  favorite ২  import_contacts ১,৬৬২
আকরাম সাহেব অস্থির ভাবে পায়চারী করছেন।
হাতির দাঁতের ইজি চেয়ারটা দুলছে। ভৌতিক কোন জড়বস্তুর মত। একটু আগে চেয়ার ছেড়ে ব্যালকনির দিকে হাঁটছে। ওখানেও বেতের আর একটা ইজি চেয়ার পাতানো। লম্বা ব্যালকনি। মন খারাপ হলে এখানে এসে কিছুক্ষণ পায়চারী করে। এস এসের সুদৃশ্য গ্রিল। কোন জরুরী সিদ্ধান্ত নিতে গেলে গ্রিলে হাত রেখে কিছুক্ষণ তাল দেয়। নিজস্ব একটা সুর তৈরি হয়। মনপূতঃ না হলে লুঙ্গির খোঁচাটা বাঁ হাতে তুলে ডান হাতের দু’ভরি ওজনের স্বর্ণের আংটিটা গ্রিলে ঘষে দ্রুত পায়চারী করে। টুং টুং টুং টাং একটা শব্দ হয়। তাতেও যেন আজ কাজ হচ্ছে না। বাইরে বাগানের মালীর উপর চোখ পরে। এক গাল ধোঁয়া উড়তে দেখে মালীর মুখ থেকে। শান্ত অথচ গম্ভীর কণ্ঠে বলল - ফকির চাঁন, সূর্যমুখী ফুল গাছগুলোর উপরে পানি ঢাল। গুনে গুনে দশ বালতি।

সবে সকালের রোদ চিক চিক করছে। ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ তুলে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে। বিকাল হলেই আবার নুইয়ে পরবে। খ্যাঁক করে কাশি উঠে মালীর। সম্ভবত ধোঁয়া আটকে গেছে বুকে। কষ্ট হচ্ছে। মরেও যেতে পারে। কিছু না বলে ঝর্নাটা ফুলের উপরে তুলে ধরল। খাঁচায় বন্দী কোন বাঘের মত ছটপট করছে আকরাম সাহেব। হাত দু’টো পেছনে। আঙ্গুলগুলো একটার সাথে একটা প্যাঁচ লাগিয়ে কেবল বুড়ো আঙ্গুল দু’টো ওলট পালট করে ঘুরাচ্ছে। আর মুখে বিড় বিড় করে কি সব বলছে।

আকরাম সাহেব যতক্ষণ বাসায় থাকেন বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং পরিপাটি হয়ে থাকেন। পরনে মিহি সুতোর সাদা ধবধবে মৌলানা লুঙ্গি। গরদের সাদা পাঞ্জাবী। মাথায় ভেলভেটের নকশা করা টুপি। চোখে সুরমা লাগানো। শরীরে বনেদী আতরের গন্ধ। এবার হাত দু’টো সামনে এনে মোনাজাতের ভঙ্গিতে বলল-ইয়া আল্লাহ----ইয়া মাবুদ----ইয়া রাহমানুর রাহিম---তুমি এই অধম বান্দাকে রহম করো।

দু’পাশে দুই ইউনিট করে পাঁচ হাজার দুইশ স্কয়ার ফিটের সাত তলা বাড়ী। দুই তলা তিন তলা মিলে ডুপ্লেক্স ইউনিট দুটোতে তিনি নিজে থাকেন সপরিবারে। নীচের তলায় নিরাপত্তা কর্মী, ড্রাইভার, কেয়ার টেকার, মালী আর পার্কিং। বিশাল নিরাপত্তা দেয়াল। দেয়ালের উপর থেকে চারপাশে লোহার নেট দিয়ে ঘেরা। কাক পক্ষীও ঢুকতে সাহস করবে না।

সাধারণত এই ঘরে কেউ আসে না। এই ঘরটা আকরাম সাহেবের গবেষণা সেল। ছোট একটা মিউজিয়ামও বলা যায়। তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনের প্রাপ্তি অ-প্রাপ্তি, সম্মান, মর্যাদা সবিই আছে। আবার কষ্টগাঁথাও আছে। যশ খ্যাতি, প্রতিপত্তির পাশা পাশি প্রথম জীবনে খেতে না পাওয়ার স্মৃতিটাও খুবই সম্মানের সহিত ধরে রেখেছেন। একটা মাটির থালা। কোন একদিন পরিষ্কার করার সময় হাত থেকে পরে ভেঙ্গে গিয়েছিল। ভাগ্যিস পুরু কার্পেট ছিল। একবারে গুড়ো হয়ে যায়নি। দু’টুকরা হয়ে গিয়েছিল। আবার সুপার গ্লু দিয়ে জোড়া লাগাতে লাগাতে তার মনে পরছিল আট বছর বয়সের কথা।

বাবা শমসের নিয়াজী ছিলেন ফকির মিসকিন টাইপের মানুষ। সংসারের প্রতি তেমন টান ছিল না। মায়ের রূপ ছিল চোখে পরার মত। সারাক্ষণ ছেলেকে আগলে রাখত। মা ছেলের দিনের পর দিন পেট ভরে খেতে না পাওয়ার কষ্ট। মাকে নিয়ে প্রথম এই থালা হাতে চেয়ারম্যান বাড়ীর দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল। চেয়ারম্যান তার মায়ের দিকে তাকিয়ে কিছুই বলল না। কেবল থালাটা হাতে নিয়ে উপরে ছুড়ে দিয়ে বলল- দেখি ধরতে পারস কিনা। তর বুদ্ধি শুদ্ধি কেমন পরীক্ষা কইরা লই। আকরাম আর দেরী করেনি। থালাটা ঘুরে পরতেই পেছন থেকে মায়ের শাড়ীর আঁচলটা টেনে ধরে থালাটা আটকাল। তারপর থেকে আর খাওয়ার কষ্ট হয়নি। শুধু রাতে যখন মায়ের পাশে ঘুমাত, মাঝে মধ্যে জেগে উঠে দেখত মা পাশে নেই। একদিন খুঁজতে গিয়ে খেয়াল করল পাশের একটা ঘর থেকে কার যেন গোঙ্গানির শব্দ আসছে। অন্ধকার ঘর। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকল। একসময় তার মা বেরিয়ে আসল। পেছনে চেয়ারম্যান। মা বিছানায় যাবার আগেই আট বছরের আকরাম আবার গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। বাবা এলে চেয়ারম্যান বাড়ীতে ক’দিন থাকেন। এখন এটাই বাড়ী। আবার চলেও যান।এতে মা বাবার কারও প্রতি কোন দুঃখ, কষ্ট, অভাব অভিযোগ কিছুই ছিল না।

পাগল কিসিমের মানুষ। এদের জীবনের মায়া নেই। যখন যেখানে খুশী চলে যায়। দিন রাত বিপদ আপদ এতসব ভাবার সময় হয়না। ভূত প্রেত, সাপ খোপের ভয় এদের তাড়া করেনা। এরা অন্য কিসিমের লোক। খাওয়া দাওয়ারও তেমন ঝুট ঝামেলা নাই। পেলে খায়, না পেলেও দুঃখ নেই। মাথা নিচু করে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে পরে। ঘুমের ব্যাঘাত হয়না। আর দশজন সাধারণ মানুষের মত বায়ু চড়া হলে ঘুমের ওষুধ খেতে হয় না। বাসি পঁচা খাবার এদের পেটের কোন ক্ষতি করে না। ডাক্তারের কাছেও যেতে হয় না। বারো মাস সর্দি কাশি অসুখ বিসুখও নাই। মরতে মরতেও কেমন বেঁচে উঠে। ওদের জন্য হাসপাতালও নাই, এ্যমবুলেন্সও নাই। কি তাজ্জব। আসলে ওদের মরণের ভয়ও নাই। ওদের জীবন দর্শন হল, মরলেই বা কি, বাঁচলেই বা কি। যে ক’দিন শ্বাস আছে তো আছি, না থাকলে নাই। তাতে কারও কিছু যায় আসে না। ওদের উপর সৃষ্টিকর্তার একটা বিশেষ নেক নজর থাকে। এরা খুব সহজে ইন্দ্রিয়কে জয় করতে পারে। এরা নির্মোহ। পঞ্চইন্দ্রিয় এদের তাড়া করেনা। এরা অহিংস। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ জন্মায় না। এই ধরনের নির্মোহ মানুষরাই বোধ হয় আধ্যাত্ম সাধনার কোন একটা স্তরে গিয়ে পৌঁছায়।

তখন সবে মাত্র দেশ ভাগ হয়েছে। বৃটিশ শাষণের অবসান হয়েছে। ভারত আলাদা হয়ে গেল। পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্থান মিলে হয়েছে আলাদা রাষ্ট্র। সেই থেকে আজ অব্দি এই থালাটার উপর ধুলোর আস্তরও পরতে দেন নি। পরম যতেœ মমতায় আগলে রেখেছ্।ে নিজের হাতে এ-সবকিছুর দেখাশুনা করেন। পরিচর্যা করেন। আর নিজেকে ধাপে ধাপে আরও উপরে তোলার সিড়ি তৈরী করেন এই ঘরে বসেই।

ব্যালখনি থেকে একবার বাইরের দরজায় উকি দিয়ে দেখল কেউ আছে কি না। না কেউ নেই। ব্যালখনিতে রাখা ইজিচেয়ারটায় বসতে গিয়েও বসল না। ঘরের ভিতর সেগুন কাঠের দামী সব আলমিরা। মোটা কাঁচের গ্লাস। জিনিষপত্র সব গুছানো। অনেক গুলো বই। ক্রেষ্ট, সম্মাননা, ছবি সম্বলিত মানপত্র। বেশীর ভাগই সম্মাননা স্মারক গন্থ। অধিকাংশ বই-এর মলাটে আরমান সাহেবের ছবি। ফটোজেনিক ফেইস বলা যায়। বেটে খাটো কালো রং-এর গোলগাল চ্যাপ্টা চেহারা। ছবিতে মুখের আদলটা খুব সুন্দর দেখায়। সামনা সামনি দেখলে ততটা সুন্দর মনে হয় না। দামী দামী সব শো-পিছ। দেশ বিদেশে যখন যেখানে যায় কিছু না কিছু সখের জিনিষ কিনে আনে। তার মধ্যে বিভিন্ন ডিজাইনের সুদৃশ্য ফটো ফ্রেম সংগ্রহ করা তার সখগুলোর একটা। আর একটা সখ হচ্ছে নগ্ন, অর্ধনগ্ন নারীর ষ্ট্রাচু, তৈলচিত্র সংগ্রহ করা। অনেক গুলো দুর্লভ সংগ্রহ আছে। যার কোনটার গায়ে একটা সুতাও নেই। কোনটা ব্রোঞ্জ, কোনটা মেখি গোল্ড, কোনটা ফাইবার আবার কোনটা রেডিয়াম। সেই ফ্রেমে নিজের জীবনের ছবিগুলো বন্দী করে রাখেন। তার মধ্যে পৃথিবীর মহৎ ব্যাক্তিদের সান্নিধ্য লাভের ছবি, উপাধি, সম্মাননা গ্রহনের ছবির সংখ্যা বেশী। দেশের এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মাননা, ক্রেষ্ট ও ছবির সংখ্যাও কম নয়।

না কোন ভাবেই অস্থিরতা কাটছে না। সুনির্দ্দিষ্ট কোন কারনও খুঁজে পাচ্ছে না। ক’দিন ধরে ঘড়ির কাটাটা কেবল মনে হচ্ছে উল্টো দিকে ঘুরছে। একটা ভয় তাড়া করে ফিরছে। রহিমার মাকে একটা বালতি নিয়ে দরজার সামনে দিয়ে যেতে দেখল। হাত উচিয়ে থামতে বলল। রহিমার মা কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকে। ভেতরেও যেতে বলছে না। আবার কিছু বলছেও না।
- ভাই সাব কিছু কইবেন। হাতে বালতি লইয়া কতক্ষন দাড়াইয়া থাকুম।
- না ঠিক আছে। কি যেন বলব ভাবছিলাম ভুলে গেছি। তোমার হাতে কি।
- ময়লা পানি। ঘর মুইছা দিলাম।
- ছোট বিবি উঠছে।
- ওমা হেইয়া কি কন সাব। বেলা এগারটায় উটবো।
- বড় বিবি।
- অহনও ঘুমের আইলসা কাটে নায়। তয় বেড টি দিতে কইলো। অহন যাইয়া দিতাছি।
- আচ্ছা যাও। আমারে এক কাপ লিকার দিয়ে যেও।

গত রাতে ভালো ঘুম হয় নাই। শাহবাগ চত্বরটা কাছেই। গেট থেকে হাতের ডান দিকে দু’শো গজ সামনে গেলেই শাহবাগ। হাজার হাজার লোক জড়ো হয়েছে। শিশু কিশোর, যুবক বৃদ্ধ, ছাত্র ছাত্রী সবাই কেমন উঠে পরে লেগেছে। সবার চোখে মুখেই ঘৃণার ছাপ ষ্পষ্ট। সারা রাত ধরে চিৎকার, শ্লোগান যতই কানে আসছে ততই মনটা এক অজানা আতংকে বিষিয়ে উঠছে। রহিমার মা চা নিয়ে আসে। চায়ে চুমুক দিয়ে জিজ্ঞাসা করল-
- শাহবাগ চত্বরে এত হৈ চৈ হচ্ছে। তোমরা শুনতে পাচ্ছো ?
- হ সাব। সমস্ত রাজাকারগুলারে ধইরা ধইরা ফাঁসি দিতাছে। আর হগলে আনন্দে লাফালাফি করতাছে।
- এই পর্যন্ত কয়টার ফাঁসি হয়েছে জানো ?
- হেইয়া তো গুইন্যা দেখি নাই।
- তুমি কয়টা রাজাকার দেখেছো ?
- একটাও দেহি নাই। তয় পোষ্টারে ছবি দেখছি।
- রাজাকার দেখতে কেমন ?
- আমি ক্যামনে কমু। তয় মনে হয় আপনাগো মতন-ই হইবো।
- কয়টা রাজাকার আছে জানো।
- জানি না। তয় রাজাকার হইলো শয়তানের দোসর। দিনে দিনে পয়দা হয়। শয়তান যত তাড়াতাড়ি খতম করে ফেলা যায়, ততই ভালা।
আকরাম সাহেব চুপসে গেলেন। কোন কথা বললেন না। কিছুক্ষন চুপ থেকে খুবই শান্ত গলায় বললেন-
- তুমি চেন কে রাজাকার আর কে মুক্তিযোদ্ধা।
- হ, চিনুম না ক্যান। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা মানুষ হত্যা করেছে, মা বোনদের ইজ্জত লুটছে, লুটপাট করছে হেরাই তো রাজাকার। হগলরে শাহবাগ চত্বরে মাইনষের সামনে ফাঁসি দেওন দরকার।
- চুপ কর। তুমি কি বোঝ। এগুলা হইলো রাজনীতির ভেল্কিবাজি। খালি ফাঁসি কইলেই কি ফাঁসি দেওয়া যায়।
- যাইবো না ক্যান। এত খুন কইরাও যদি ফাঁসি না হয় তয় কিসে ফাঁসি হইবো।

চায়ের কাপটা রেখে জোড়ে একটা থাপ্পর দিলেন ইজি চেয়ারের হাতলে। বললেন-এক্ষুনি বের হয়ে যাও এ ঘর থেকে। তোমার সাহস তো কম নয়। মুখে মুখে কথা বল।
- হ বুঝছি। আপনের রক্তেও দোষ আছে। তয় ভাই সাব, আইজ আমিও শাহবাগে যামু। রহিমার বাপেরে যারা মারছে হেগোরে আমিও ফাঁসি দিমু।

আকরাম সাহেবের মাথা ঝিন ঝিন করছে। প্রচন্ড রেগে গেছে। চেয়ার ছেড়ে উঠে আবার পায়চারী শুরু করেছে। রহিমার মা ভাবল কথা গুলান বোধ হয় সাহেবের মনমত হইলো না। অন্য সময় দু’এক কথা বললে সাহেব থ্যাংক্যু দেয়। বেশী খুশী হলে দু’চারশ টাকা বকশীষও দিয়া দেয়।
মূলতঃ রহিমার মাকে এ জন্যই ডাকা। একটু পজিটিভ সাপোর্ট। অনেক দিনের পুরানো কাজের মেয়ে। কাজের মেয়ে ঠিক নয়। এ ঘরের একজনই বলা যায়। রহিমাকে কোলে করে এ বাড়ীতে এসেছিল। রহিমার বিয়ে হয়েছে। নাতি পুতি কোলে নিয়েছে। বেকুব রহিমার মা বুজতে পারেনি। সে নীচে চলে গেল।

না আজকের দিনের হিসাবটা কিছুতেই মিলছে না। ভোটের হিসাবটা একবার মিলাতে চেষ্টা করল। তাও মিলছে না। গত ইলেকশানে অনেক টাকা খরচ করেছে। অল্প ভোটের জন্য জিততে পারে নাই। এবারের ইলেকশানে গতবারের ক্ষতিটাও পুষিয়ে নেওয়ার মত একটা অবস্থান তৈরী করে নিয়েছে। এ শাহবাগ আন্দোলনের ভবিষ্যতটা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। গভীর ভাবনা।

আকরাম সাহেব ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলেন।
খুব টেনশন হচ্ছে। অবশ্য টেনশন আর রাজনৈতিক কাজকর্মের সাফল্য ব্যর্থতাগুলো একান্ত নিজস্ব। এতে পরিবারের অন্য কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই। বড় বউ আর ছোট বউয়ের এব্যাপারে কোন আগ্রহ নেয়। আগের সংসারের এক ছেলে। দেশের বাইরে থাকে। বাবার রাজনীতিতে কেউ আসেনি। দ্বীতিয় সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলেটা দেশের বাইরে লেখাপড়া করছে। মেয়েটা ইউনিভার্সিতে পড়ে। তাদেরও কোন মাথা ব্যাথা আছে বলে মনে হয় না। বড় রাগ হয় বউদের উপর। একটু কথা বলেও তো উৎসাহ দেওয়া যায় কিংবা ভূল হলে শুধরে দেওয়া যায়। সমস্ত দায় যেন একা নিজের। পরিবারের সান্নিধ্য এখন আর খুব একটা গায়ে মাখে না। একদল সুবিধাবাদী চামছা সারাক্ষন তিলকে তাল করার জন্য পেছনে লেগে থাকে। আকরাম সাহেব এগুলো ভালোই বুঝেন। তিনি কলকাঠি নিয়ে খেলেন না, খেলাতে পছন্দ করেন। একেবারে একলা চলো নীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পরেছে।
বুক সেলফ-এর কোনায় যতœ করে গুছিয়ে রাখা ডায়েরীগুলো বের করলেন।
কয়েক লাইনে বিশেষ বিশেষ দিনে লেখা। মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে নিজের সাহস আর বুদ্ধি দিয়ে অনেকটা পথ উঠে এসেছে। আগামী দু’এক বছরের মধ্যে আকরাম উদ্দীন নিয়াজীর এলাকার চেয়ারম্যান হওয়াটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। শুধু সাবধানে অপেক্ষা করতে হবে কিছু সময়।

১৯৭১ সালের ডায়েরীটা নিলেন। প্রথম কয়েক পৃষ্টা উল্টানোর পর চোখ আটকে গেল। তারিখ ৫ জুলাই। প্রথম টার্গেট শিক্ষক বিধূ ভূষণ দত্ত। দ্বীতিয় টার্গেট চেয়ারম্যানকে খুশী করা। প্লান মতোই সব হয়েছে। শুধু অদিতির জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল। ব্যাস্ এটুকুই লেখা।

ইস এখন ভাবতেও কষ্ট লাগে। ডায়েরী রেখে দৌড়ে উঠে আর একটা ড্রয়ার খুললেন। বের করে আনলেন একটা সোনার বালা। চোখের সামনে ধরে বললেন এই সেই স্মৃতি।

মেয়েটার ক’দিন আগে বিয়ে হয়েছে। শিক্ষক মানুষ। দেশের পরিস্থিতি খারাপ। শ্বশুর নিজে এসে ছেলের বউকে বাবার কাছে রেখে গিয়েছে। স্বামী গিয়েছিল যুদ্ধে। ভেবেছিল এখানে থাকলে ভালো থাকবে। তাছাড়া মাষ্টার বিধু বাবুকে সবাই সম্মান করে। বিয়ের আগেও আকরামের ক’ুনজর পড়েছিল। জোড় করেও কোন সুবিধা করতে পারেনি। ছাত্র হিসাবে আকরাম উদ্দীনকে বড় ¯েœহ করতেন বিধু বাবু। সেই থেকে চক্ষু লজ্জাও ছিল। সে সব নিয়ে আর খুব একটা ভাবেনি। এখন দ্বীতিয় টার্গেটে পৌঁছাতে গেলে চোখ বন্ধ করতেই হবে। চেয়ারম্যানের বদ নজর বলে কথা।

মাষ্টার বিধু বাবু আর তার স্ত্রীকে গুলি করে অদিতি-কে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। একটু ছাড়া পেয়ে মেয়েটা পুকুরে ঝাপ দিল। হাতের বালাটা থেকে গেল আকরাম উদ্দীনের হাতে। তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। সোজা পাঁজা কোলে করে ভেজা কাপড়ে চেয়ারম্যানের ডেরায় তুলে দিল। রাতের বেলা চেয়ারম্যান যখন ডেরায় ঢুকত তারপর আকরাম উদ্দিনের মায়ের মত গোঙানীর শব্দ শুনতে পেত। কয়েকদিন ছিল ওখানে। তারপর নজর পরে এক পাকিস্থানী ক্যাপ্টেনের। পাঠিয়ে দিতে হলো ক্যাম্পে। চেয়ারম্যানও বেশীদিন ধরে রাখতে পারেনি। দেশ স্বাধীন হলেও অদিতির আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভালোই হয়েছে। এখন পর্যন্ত বেঁচে থাকলে কি যে হতো। এই ভেবেই আকরাম উদ্দীন অস্থির। বড়ই চিন্তিত। ভোট তো দূরে থাক। ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো।

তারিখ ১৭ আগষ্ট। তালিকা তৈরী। তাও চেয়ারম্যানকে খুশী করার জন্য। তার উপর পাক বাহিনীর প্রচন্ড চাপ। সেই সাথে গ্রামের সুন্দরী যুবতীদেরও একটা তালিকা পর্যায়ক্রমে দিতে হবে। এ যেন অনেক বড় দায়িত্ব। সংক্ষেপে পঞ্চাশ ষাট জনের একটা তালিকা। লেখা আছে এই ভাবে। মো হা ছা, আ শু শি, বি আর আর, শি, এরকম আরো অনেক। কয়েকজন মহিলার নামও আছে। তার মধ্যে মো হা বা ছা, রা দা শি, ইত্যাদি। এভ্রিবিয়েশন করলে সম্ভবত এরকম হতে পারে। মো হা ছা (মোহাম্মদ হারুন, ছাত্র), আ শু শি (আব্দুল শুক্কুর, শিক্ষক), বি আর আর, শি (বিভুতি রঞ্জন রায়, শিক্ষক), মো হা বা ছা (মোছাম্মৎ হাসিনা বানু, ছাত্রী), রা দা শি (রাধিকা দাশ, শিক্ষিকা)। বাকী নামগুলো ঠিক মনে করতে পারছে না। তবে এটুকু মনে আছে গ্রামে মাথা তুলে দাড়াবার মত কেউ বাদ পড়েনি।
সেদিন আট দশজনকে পাওয়া যায়নি। বাকী সবাইকে দড়ি বেঁধে দাড় করানো হলো কুমারখালি নদীর পাড়ে। এক দো তিন গুনল পাক বাহিনীর ক্যাপ্টেন। তারপর একসাথে গর্জে উঠল অনেকগুলো রাইফেল। কিছুক্ষনের মধ্যে সব চুপ হয়ে গেলো। চেয়ারম্যান জোরে একটা লাফ দিয়ে বলে উঠল পাকিস্থান জিন্দাবাদ। আকরামউদ্দীন পেছনে দাড়িয়ে শুধু মুচকী হাসল।

আর ডায়েরীর পাতা উল্টাতে ইচ্ছা করছে না। শুধু এটুকু মনে আছে শেষের দিকে পাশ্ববর্তী গ্রামের দু’জন হিন্দু মেয়েকে ধরে এনে তার জিম্মায় রেখেছিল। কারও চোখ পরতে দেয়নি। দেশ স্বাধীন হবার ক’দিন আগে গর্ভাবস্থায় একজন আত্মহত্যা করেছে। আর একজনকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে আকরাম উদ্দিনের বড় বিবি হিসাবে। গর্ভের ব্রæনটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আত্মহত্যার মত ঝুঁকি নিতে সাহস করেনি। হয়তো ভেবেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে এই নেখড়েটার মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য এই একটা ছেলেই যথেষ্ট।

দেশ স্বাধীন হয়েছে। কত আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি স্বধীনতার স্বাদ পেয়েছে। রাজাকার, আলবদর আর আল-শামস বাহিনীর হোতারা কিছুদিন গর্তে থাকলেও কেউ কেউ খোলস পাল্টাতে শুরু করেছে। এর মধ্যে বড় বিবি-কে নির্যাতিতা সাজিয়ে তাকে বিয়ে করে মহানুভবতার পরিচয় দিল আকরাম উদ্দিন। সমাজে আকরাম উদ্দিনের ভাল মানুষির সুবাতাস বইতে শুরু করল। তার কিছুদিন পর মুক্তিযোদ্ধাদের রোষানলে পরে চেয়ারম্যানকে জীবন দিতে হয়েছে। তার মৃত্যর পেছনে আকরাম উদ্দিনের দাবার চাল একটুও এদিক ওদিক হয়নি। শুধু ডায়েরীর একবারে পেছনের পৃষ্টায় লাল কালিতে লেখা ছিল টার্গেট চে হা উ মো (চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন মোল্লা)। কোন তারিখ দেওয়া ছিল না।

তারপর পরিস্থিতি পাল্টাল। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ। বঙ্গবন্ধুর সাধারন ক্ষমার ঘোষনা শুনে অনেকে বেরিয়ে আসল গর্ত থেকে। আনন্দ মিছিল করল। ততদিনে আকরাম উদ্দিন চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন বুনছে। স্বপ্ন সফল হলো। এবার এম পি হতে পারলে আর ঠেকায় কে। মন্ত্রী হতে আর কতক্ষন।

এত সুন্দর স্বপ্নের মধ্যে দুঃস্বপ্নের বীজ বুনে দিচ্ছে প্রজন্ম চত্বরের ঐ বজ্জাত পোলাপাইনগুলা। স্বাধীনতার পক্ষ লইয়া পিপড়ার মত এত লোক আসে কি করতে বুঝি না। কাইল বেইন্নার পোলা ৭১-এর চেতনায় উজ্জিবীত হচ্ছে। ৭১ কি জিনিষ হে তো অনেকেই দেখে নাই। হালার পুতেরা ৭১-এর চেতনা শান দেওয়ার আর জায়গা পেল না। আমার বাড়ীর সামনে। বাইরে কোথাও বের হবো, সেই সাহসও হচ্ছে না।

রসিকতা বা হেলাফেলা যতই করুক তাদের নির্ভিক দৃপ্ত কন্ঠ আর অমিত তেজ দেখে সত্যিই ভয় হচ্ছে। খুব টেনশান হচ্ছে ক’দিন ধরে। টেনশান থাকলে ক্ষুধা মন্দা হয়। প্রেশার বেড়ে যায়। ডায়েরীগুলো নিয়ে পরেছি আরেক বিপাকে। পুড়িয়ে ফেলবো নাকি? যদি কারও হাতে পরে তবে তো সব ফাঁস হয়ে যাবে। মান সম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে। শাহবাগ মোড়ে পেলে তো আমার কেশও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেভাবে হোক ডায়েরীগুলো নষ্ট করে ফেলতে হবে। কোনভাবেই ঘরে রাখা যাবে না।

আকরাম উদ্দিন ডায়েরীগুলো বগল দাবা করে দ্রুত ছাদের দিকে উঠে যাচ্ছে। বেলা কত হয়েছে খেয়াল নেয়। এত সময় হয়ে গেলো কেউ একবার খাবার জন্যও বলল না। লিফট নেই। হেটে উঠতে হবে। পাঁচ তলায় উঠে রীতিমত হাফাচ্ছে। একবার মালিকে বলবে নাকি ম্যাচটা দিয়ে যেতে। না ওই ব্যাটাকে বললে বলবে - দ্যান হুজুর, আমারে দ্যান, আমি নষ্ট কইরা ফেলি। তারপর যদি কারও হাতে গিয়ে পরে। ভরসা করতে পারছে না। প্রমাণ রাখা যাবে না। নিজেকেই পোড়াতে হবে।

প্রচন্ড রকম ঘামছে। তবে কি প্রেশার বেড়ে গেল। দ্রুত সাত তলায় উঠে দেখল ছাদের দরজায় তালা লাগানো। আবার নীচে নেমে আসল। বড় বিবি ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে মাথা আচড়াচ্ছে। আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখে জিজ্ঞাসা করল-শাহবাগ থেকে তাড়া খাইয়া ঘরে ঢুকছ মনে হইতাছে। রাজাকার কইয়া গালি দিছে তোমারে। এমন হাফাইতাছ ক্যান। আইজ আমিও শাহবাগে যামু। এই তোমারে কইয়া গেলাম।
- শাহবাগ কেন, পারলে জাহান্নামে যাও। আগে আমারে ছাদের চাবিটা দাও।
- আবার নতুন কোন জাহান্নামে যামু। এই জাহান্নামেইতো এতটা বছর কাটাইলাম। চাবি রহিমার মার কাছে আছে।
চাবি নিয়ে আবার উপরে উঠে যায় আকরাম উদ্দিন। ছাদের দরজা আটকে দেয়। শাহবাগ মোড়ে চোখ পরে। মোড় তো নয় যেন গণ সমুদ্র। পিপড়ার মত খালি মানুষের মাথা। দুই বছরের শিশু, সেও বলছে- রাজাকারের ফাঁসি চাই। সবার মাথায় কাপড় বাঁধা। সবাই যেন শপথ করে নেমেছে। ফাঁসি চাই, দিতে হবে। অনেক্ষন দাড়িয়ে দেখল আকরাম উদ্দিন। এই জন সমুদ্রের মধ্যে যেন রহিমার মা আর বড় বিবিকেও দেখতে পেল। তারাও যেন সোচ্চার। হাত উঁচিয়ে দৃপ্ত কন্ঠে বলছে - রাজাকারের ফাঁসি চাই, দিতে হবে দিতে হবে। মনে হলো সবাই যেন এদিকে তেড়ে আসছে। সবাই রণমুর্তি। ডায়েরীতে আর আগুন দেওয়ার কথা ভুলে গেলেন। ধোঁয়া উঠবে। সবাই এগিয়ে আসবে। এই সুরম্য আকরাম ভিলা মূহুর্তেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে। না, এক্ষুনি পালাত হবে। আকরাম উদ্দিন সিড়ি দিয়ে দ্রুত নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে।

আজ বন্ধের দিন। সাত তলার ভাড়াটিয়া রাজীব সাহেব। তার স্ত্রী, চার বছরের মেয়ে তিহা ও ছয় বছরের সাজিদ-কে নিয়ে শাহবাগ থেকে বাসায় ফিরছে। সবার মাথায় ফিতা বাঁধা। তাতে লেখা রাজাকারের ফাঁসি চাই। রাজীব সাহেবের মাথায় জাতীয় পতাকা। আকরাম উদ্দিনকে দৌড়াতে দেখে তিহা আর সাজিদ বলে উঠল, আ-তে, আ----উ----, তুই রাজাকার---তুই রাজাকার। রাজাকারের ফাঁসি চাই, দিতে হবে দিতে হবে----। আকরাম উদ্দিন দ্রুত পাশ কাটিয়ে নেমে গেল। তার রাগ হলো না। বের হয়ে মিশে গেল জনসমুদ্রে।

স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চেয়ে মাসুম বাচ্চাগুলো যেন স্বাধীনতার স্বাদ পেল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • রাশেদুল ফরহাদ
    রাশেদুল ফরহাদ ভালো লাগলো ইতিহাসের অতীত- বর্তমানের মিশেলে সুন্দর উপস্থাপনা।
    প্রত্যুত্তর . ২ মার্চ, ২০১৩
  • মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন
    মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন চমতকার লিখেছেন। সবকিছু এক সূত্রে গেথেছেন। তবে ...পাগল কিসিমের মানুষ... অংশটা ঠিক খাপ খেয়েছে বলে মনে হল না। আমি হয়তো ঠিক বুঝিনি। শুভেচ্ছা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ২ মার্চ, ২০১৩
    • মিলন বনিক ওয়াহিদ ভাই...অসীম কৃতজ্ঞতার সাথে বলছি বিষয়টা ঠিক ধরেছেন...আমি সংযোজন করেছি ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে...আকরাম উদ্দীনের বাবার নির্মোহ জীবনের একটা ছক মাত্র...আপনার জন্যও শুভেচ্ছা....
      প্রত্যুত্তর . ৪ মার্চ, ২০১৩
  • নাইম ইসলাম
    নাইম ইসলাম এত খুন কইরাও যদি ফাঁসি না হয় তয় কিসে ফাঁসি হইবো? ত্রিনয়ন'দা এই প্রশ্নের প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে! অনেক ভালো লাগলো...
    প্রত্যুত্তর . ৪ মার্চ, ২০১৩
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # গল্প অনেক সুন্দর ও সমসাময়িক । চলমান ঘটনা প্রবাহের ইঙ্গিতবাহী এই গল্পের আবেদন একটু আলাদা । স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তরুন প্রজন্মকেই তুলে ধরতে হবে ।= শেরে বাংলা , সরওয়ারদী , ভাসানী---, এদেরকে বাদ দিলে স্বাধীনতার ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে না । তদ্রুপ---, আলবদর, আল...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৪ মার্চ, ২০১৩
    • মিলন বনিক জুয়েল ভাই...আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ..সময়ের প্রয়োজনে হয়তো আপনার মত করে সঠিক ইতিহাসটাও বেরিয়ে আসবে...কেবল সময়ের অপেক্ষা...ভালো থাকবেন...আর এই হঠাৎ করে তুই সম্বোধনটা কেমন খাপছাড়া মনে হচ্ছে...বুঝতে পারলাম না....
      প্রত্যুত্তর . ৬ মার্চ, ২০১৩
    • এফ, আই , জুয়েল # মনে মনে ভাবতাম ২/১ জন বাদে আমিই বুঝি এখানে সবচেয়ে বেশী সিনিয়র---কিন্তু আমার চেয়ে আরো থাকতে পারে---এটা ভাবনায় আসে নি । খুব হতাশা আর বিপর্যস্ত অবস্থায় সময় পার করছি । অনেক কিছু আর সেভাবে ভাবতে পারি না । মনের খেয়ালে-আবেগে এরকম ভুলগুলো সুন্দরভাবে উকি মারে । ভুলটা প্রকাশ করার জন্য----, অনেক অনেক ধন্যবাদ ।
      প্রত্যুত্তর . ৬ মার্চ, ২০১৩
  • অদিতি ভট্টাচার্য্য
    অদিতি ভট্টাচার্য্য কয়েকটা বানান ভুল আছে, টাইপিং ভুল হবে। গল্পটা সুন্দর।
    প্রত্যুত্তর . ৬ মার্চ, ২০১৩
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ একটা সুন্দর আবহ তৈলী করে মুক্তিযুদ্ধ আর শাহবাগের গণ জাগরণকে তুলে এনেছেণ
    প্রত্যুত্তর . ৭ মার্চ, ২০১৩
  • মোঃ আক্তারুজ্জামান
    মোঃ আক্তারুজ্জামান সুন্দর লিখেছেন। অতীত ইতিহাসের সাথে সাম্প্রতিক ঘটনা সংযোগের গল্প। খুব ভাল লাগল।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ মার্চ, ২০১৩
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ মুক্তিযুদ্ধ এবং গণজাগরণ নিয়ে সুন্দর গল্প. অনেক শুভেচ্ছা.
    প্রত্যুত্তর . ২১ মার্চ, ২০১৩
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় গুরুগম্ভীর গল্প-- আক্রামকে শুরুতে প্রতিষ্ঠিত সুনামধন্য মানুষ বলে মনে হচ্ছিল। ক্রমে ক্রমে তার মুখোশ খুলে গেল। গল্প ধারার কোথাও সামান্য ব্যঘাত ঘটলেও এটাকে সুন্দর ধারাবহ একটি গল্প বলতে হবে।
    প্রত্যুত্তর . ২১ মার্চ, ২০১৩
  • সুমন
    সুমন বাস্তব কখনোই গল্প শেষের সৌন্দর্য স্পর্শ করে না। এত মসৃণও হয় না। তবে নতুন উদ্দিপনায়, মুক্তির চেতনার বাস্তবতায় নতুন নির্মল সুন্দর গল্পের জন্ম হতে পারে। তেমনই একটা সুন্দর গল্পের প্রত্যাশা আপনার মতো আমারও আছে। গল্প ভাল হয়েছে।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ মার্চ, ২০১৩
    • মিলন বনিক আপনার সুন্দর মন্তব্য আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে....অনেক ধন্যবাদ সুমন ভাই এবং আপনার মনোযোগী পাঠের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা...
      প্রত্যুত্তর . ২৩ মার্চ, ২০১৩

advertisement