লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ মে ১৯৬৮
গল্প/কবিতা: ১১৩টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৩৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৫৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - আমার আমি (অক্টোবর ২০১৬)

খুনি
আমার আমি

সংখ্যা

মোট ভোট ১৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৩৯

মিলন বনিক

comment ৬  favorite ১  import_contacts ৭৮৩
এই শহরে এমন কেউ নেই যে কানকাটা পটলার নাম শুনেনি। পটলার নাম শুনলেই চোখ কপালে উঠে যায়। বুকে থুথু ছিটিয়ে অন্তত: একবার হলেও সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করে। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পটলার সংসার।

চাপাতির কোপে সেই কবে কান কাটা গিয়েছিল, সেই থেকে নাম হয়েছে কানকাটা পটলা। সেই পটলাই এখন শহরবাসির মূর্তিমান আতঙ্ক। এক কথায় এখন কিলার পটলা। ঠা-া মাথার ভয়ংকর খুনি। সিরিজ কিলার। একেবারে সিদ্ধহস্ত। টার্গেট মিস হয় না। পটলা কারও সাথে যখন চুক্তিবদ্ধ হয় নির্দ্ধিধায় গর্বের সাথে বলে, আমার তার্গেট যেদিন মিস হবে, ছেদিন আমি নিজেই নিজেরে শেষ কইরা দিমু হালায়। হ, নিজের মাথায় নিজে গুলি করুম। পটলার যেমন কথা তেমন কাজ।

পটলার কিলার গ্রুপ আছে। আছে সাগরেদ। পুরো গ্রুপ কাজ করে তার ইশারায়। বড় ভাইদের ম্যানেজ করতে হয় না। বরং বড় ভাইয়েরাই পটলাকে ম্যানেজ করে রাখে। তাতে ভাইয়াদেরও লাভ। পটলাকে দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়। পটলার ওসব জানার দরকার হয় না। সে প্রফেশনাল মানুষ। তার দরকার টাকা আর রক্ত। মানুষের রক্ত।

প্রতিদিন ফোটা ফোটা জমাটবাঁধা রক্ত না দেখলে পটলার ঘুম হয় না। রক্তের নেশাটা মানুষখেকো হিং¯্র জানোয়ারের চাইতেও বেশি করে পেয়ে বসেছে। যেদিন মানুষের রক্ত দিয়ে ¯œান হয় না, সেদিন সারা শরীর হাঁসফাঁস করে। যন্ত্রণা করে। খুব ঠা-া মাথায় কী করবে কিছুই ভেবে পায় না। অবশেষে নিজের হাতেই নিজেই ছুরি চালায়। মানুষের রক্ত বলে কথা।

সেই পটলা আজ অনেক বড় একটা দান পেয়েছে। অপারেশনটা সাকসেস করতে পারলে অনেক টাকা। চারিদিকে পুলিশ খুঁজলেও পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়া পটলার জন্য কোন ব্যপারই না। সবদিক থেকে পাকাপোক্ত বলেই আজকের এই কানকাটা পটলা। বড় ভাইদের কাছে তাই তার বিশেষ কদরও আছে।


অপারেশনের দিন। পটলার শরীরটাও ভালো নেই। সকালে উঠেই মনটা আনচান করে ওঠলো। প্রতিদিনের মতো রক্তের গন্ধ ভালো লাগছিল না। বরং চেয়েছে একটু মুক্ত বাতাস। একটু ভালোবাসা। একটু নরম ছোঁয়া। পটলা নিজেই আজকের এই পটলাকে চিনতে পারছে না। চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কেমন যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

অথচ আজকেই মেঘা গ্রুপের মিশনটা শেষ করতে হবে। পটলা কথা দিয়েছে। চুক্তির ফিপটি পার্সেন্ট অগ্রীমও নিয়েছে। বাকিটা মিশনের পর। তার মানে আজ রাতে। পটলা কথার বরখেলাপ করে না। তার বাহিনীর দুর্ধর্ষ প্রশিক্ষিত পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেভাবে হোক ওস্তাদের মান-সম্মান রাখতেই হবে। প্রয়োজনে মরতেও প্রস্তুত। চুক্তিমতো সেভেনটি পার্সেন্ট এই পাঁচজনের। ওরাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রাণপণ চেষ্টা থাকবে যাতে কাজটা নিঁখুতভাবে শেষ করা যায়। তেমন রিক্সও নেই। প্রথমে অপহরণ তারপর খুন। কোনো ঝামেলা হলে ষ্পটেই লাশ ফেলে দিতে হবে। যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।

টার্গেট করা ছেলেটি বন্ধুদের সাথেই আড্ডা দিচ্ছিল স্কুলের পাশে খেলার মাঠে। লোকজনও অনেক। কেউ হাঁটছে, কেউ খেলছে। উপায়ন্তর না দেখে ওখানেই ডাইরেক্ট এ্যাকশনে যেতে হয়েছে। তাতে টার্গেট করা ছেলেটির সাথে অন্য একজন বন্ধুরও রক্ত ঝরলো। মারা গেলো দু’জনেই। মিশন সাকসেস। পটলাও খুব খুশি। তার গর্ব হচ্ছে, সাগরেদরাও তার মতো হয়েছে।

এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়েছে। রাত বাড়ছে। পটলাকে খুব অস্থির লাগছে। কারণ তার ছেলেটা বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে এখনও ঘরে ফিরে নি।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement