লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ নভেম্বর ১৯৬২
গল্প/কবিতা: ২২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১২

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

বেদনার নীল আকাশ
ভালবাসা

সংখ্যা

নুরুল্লাহ মাসুম

comment ১৮  favorite ৫  import_contacts ১,৬৮১

সন্ধ্যা রাত। স্ট্রীট ল্যাম্প জ্বলছে। ঢাকার রাস্তায় গাড়ী চলছে। ড্রাইভার ছাড়া গাড়ীতে আরোহী একজন, স্যুটেড-বুটেড। বড় কোম্পানির এক বড় কর্তা-ধ্রুব।

বহুতল ফ্ল্যাটের গেট খুলে দেবে গার্ড। দূরে দাড়িয়ে থাকা আরেকজন গার্ড। ধ্রুবকে স্যালুট দেবে এক গার্ড।
গাড়ী থামবে। ধ্রুব নামতে থাকবে, ড্রাইভার দরজা খুলে দেবে।

লিফটে ধ্রুব। সপ্তম তলায় নামবে। ঘরের দরজায় বেল বাজাবে। দরজা খুলে যাবে, খুলে দেবে হালিমা।

তিন বেডের ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুম পেরিয়ে ধ্রুব দরজা খুলে নিজের ঘরে ঢুকতে যাবে। হালিমা তার হাতে একটা বড় খাম তুলে দেবে। খাম হাতে নিয়ে ধ্রুব নিজের ঘরে প্রবেশ করতে করতে হালিমাকে প্রশ্ন করবে -
- অতসী কোথায় রে?
নেপথ্যে হালিমার কণ্ঠ
- বিকাল বেলা বাইরে গেছে ভাইজান।
- কোথায় গেছে কিছু বলে গেছে?
- কিছু কইয়া যায় নাই।
- কখন ফিরবে কিছু বলেছে?
- না ভাইজান।
ঘরে ঢুকে টেবিলে খামটা রাখে ধ্রুব। টাই খুলে সোফায় গা এলিয়ে দেয়। ক্লান্তি-অবসাদ দূর হলে খানিক বাদে উঠে টেবিল থেকে খামটা নিয়ে সোফায় ফিরে আসে। আরাম করে অলস ভাবে বসে খামটা খোলে সে।
হাতে নেয় মাধবীর পাঠানো ডিভোর্স লেটার। একটা হালকা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। স্বগত কণ্ঠে বলে
- জানতাম, এমনটাই হবে।

বাথ রুম থেকে বেরুচ্ছে ধ্রুব। পড়নে টি-শার্ট ও সাদা ট্রাউজার। সোফায় বসে টেলিভিশন অন করে।
অস্থির একটা ভাব পরিলক্ষিত হয়। বারবার চ্যানেল বদলায়।
নেপথ্যে হালিমার কণ্ঠ
- খাবার দিমু ভাইজান?
- না।
ক্ষাণিক বাদে হালিমার প্রবেশ। বলে
- খাইয়া লন ভাইজান। খালার আইতে দেরি হইবো মনে হয়।
- খাবার টেবিলে রেখে শুয়ে পড়গে যা।
হালিমা আর কোন কথা না বলে চলে যায়। ধ্রুব টেলিভিশনের চ্যানেল বদলাতে থাকে।

ক্লোজ আপে ধ্রুব। টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে। সহসা ওভার ল্যাপিং হয়ে দেখা যাবে পাহাড়-পর্বত-নদী। বাংলার বিশাল অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি। ধীরে ধীরে ধ্রুব'র চেহারা আবছা হয়ে যাবে। প্রকৃতির অস্তিত্ব বাড়বে।

পল্লীর ছোট এক খাল। ছোট্ট নৌকায় বৈঠা হাতে ধ্রুব। ধ্রুব'র কোল ঘেঁষে বসে মাধবী। প্রথম জীবনের মধু চন্দ্রিমা। মনভোলানো আবহ সংগীত র্দশ্যটিকে মধুময় করে তোলে। শব্দহীন কথা বার্তা। দুষ্টুমীর ভাব ফুটে উঠবে। নেপথ্যে কলিং বেলের শব্দে ধ্রুব'র কল্পনা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।

পূর্ববর্তী দৃশ্যের ধারাবাহিকতায় ধ্রুব'র চেহারা পর্দায় স্পষ্ট হবে। চম্কে উঠবে ধ্রুব। নিজেকে সামলে নিয়ে একটু জোড়ে বলবে
- হালিমা। জেগে আছিস? দেখতো অতসী এলো বোধ হয়।
- যাই ভাইজান।
হাটার শব্দ এবং কিছু সময় ব্যবধানে দরজা খোলার শব্দ শোন যাবে। ধ্রুব সোজা হয়ে সোফায় বসবে।

অষ্টম দৃশ্যের ধারাবাহিকতা। ধ্রুব সোফায় বসে। অতসী ঘরে প্রবেশ করবে। পোশাকে পরিষ্কার বোঝা যাবে সে সংস্কৃমনা উদার স্বভাবের মেয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। বাবাকে খুব ভালবাসে। অনুভব করে অন্তর দিয়ে।
বাবার কাছে এসে জানতে চায়
- বাবা, শরীর খারাপ করেছে?
- নারে।
- তবে?
- তোর অপেক্ষা করছি, এক সাথে খাব।
- সরি বাবা। দেড়ি হয়ে গেল। জাস্ট এ মিনিট, আমি এক্ষুণি আসছি।
কথাগুলো বলে দ্রুত নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায় সে।
মেয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধ্রুব।
১০
খাবার টেবিল। আভিজাত্যের ছাপ রয়েছে ডাইনিং রুমের সজ্জায়। ছোট খাবার টেবিল, চেয়ার তিনটে। বাবা মেয়ে খেতে বসেছে। হালিমা খাবার তুলে দিচ্ছে।
- মা'র চিঠি পেয়েছে বাবা?
- হু। মাথা দুলিয়ে খেতে খেতে বলে ধ্রুব।
এরপর নিরবতা। অতসী কোন কথা না বলে চুপচাপ খেয়ে নেয়। বাবার আগেই খাওয়া শেষ করে। বেসিনে হাত ধুয়ে হাত মুছতে মুছতে বলে
- গুড নাইট বাবা।
আদরের স্বরে ধ্রুবও বলে
- গুড নাইট, হ্যাভ অ্যা নাইস ড্রিম।
১১
ধ্রুব বেড রুমে। গাউন চাপিয়ে বিছানার পাশে ইজি চেয়ারে বসার আগে মাধবীর পাঠানো চিঠিটা হাতে নেয়। চেয়ারে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়ে। এ সময়ে আবছা আবছা মাধবীর চেহারা পর্দায় দেখা যাবে।
পড়া শেষ হলে চেয়ার থেকে উঠে বিছায় গা এলিয়ে দেবে। হাতের চিঠিখানা বিছানার ওপরে আলতো করে পড়বে। চোখ বুজতে বুজতে বালিশে মাথা রাখবে। ধীরে ধীরে লং শটে চলে যাবে সে।
পরবর্তী দৃশ্য ফ্ল্যাশ ব্যাকে।
১২
ধ্রুব'র নিজস্ব অফিস। বড় আকারের টেবিলে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে সে। দরজা খোলার শব্দে মুখ তুলে তাকায় ধ্রুব।
দরজা খুলে মাধবীর প্রবেশ। সামনের চেয়ারে বসতে বসতে হাত ব্যাগ থেকে একটা খাম বেড় করবে। খামটা ধ্রুব'র হাতে দিয়ে বলে
- আমার একটা স্বপ্ন পূরণ করবে নিশ্চয়ই!
ধ্রুব খামটা খুলে দেখবে। পড়া শেষ করে বলে
- কংগ্রাচুলেশন! (মাধবীর মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠবে)। তবে খরচটা বড্ড বেশী।
- তা হোক, আমার এটা চাই-ই চাই।
ধ্রুব একটু ভেবে বলে
- ভেবে দেখি, কি করা যায়।
- ভাবার কোন অবকাশ নেই। আমায় যেতেই হবে। যে করেই হোক একটা ব্যবস্থা তোমাকে করতেই হবে।
চিন্তাযুক্ত হাসিমাখা মুখে ধ্রুব বলে
- ওকে মাই ডিয়ার। তোমার জন্য প্রয়োজনে বনবাসী হব। তুমি যাচ্ছ।
মাধবী আহ্লাদিত হয়ে বলে
- গুড! তোমাকে ধন্যবাদ দেব না। বাড়ী ফিরে এসো, তোমার পাওনা মিটিয়ে দেব।
ওদের দু'জনই ধীরে ধীরে লং শটে চলে যাবে এবং ফ্ল্যাশ ব্যাক এর সমাপ্তি ঘটবে-ওভার ল্যাপিং হবে পূর্ববর্তী দৃশ্য।
১৩
ধ্রুব বিছানায় পাশ ফিরে শোবে। বিছানা থেকে উঠে চিঠিটা টেবিলে রাখতে রাখতে স্বগতোক্তি করবে
- সত্যিই তুমি শেষ পাওনাটা মিটিয়ে দিলে মাধবী।
ঘুমিয়ে যাবে ধ্রুব ।
১৪
খাবার টেবিলে ধ্রুব । অতসীর অপেক্ষায়। হালিমা খাবার নিয়ে আসে। তার কাছে ধ্রুব জানতে চায়
- অতসী উঠেছে?
- জী। উঠছেন। আহনি আইতাছেন।

বলে রান্না ঘরের দিকে যায় হালিমা।
পরক্ষণেই অতসী আসবে। টেবিলে বসবে। বাবা মেয়ের একত্রে সকালের খাওয়াটা বহুদিনের অভ্যাস।
খেতে খেতেই অতসীর মোবাইল বেজে ওঠে।
অতসী বিরক্ত হয়ে মোবাইল ধরে। ওদিকের কণ্ঠ শুলে গলার স্বর শান্ত হয়। বলে
- বলো, গিরি।......................তাই? ................ ওকে। ......... আমি আসছি।...............হ্যা হ্যা এক্ষণি রওয়ানা দিচ্ছি।
ফোনটা রেখে জলদি খাবার শেষ করে।
- এত তাড়া কেন মা?
- গিরি ডেকেছে বাবা। চারু কলায় একটা অনুষ্ঠান আছে।
টেবিল ছেড়ে উঠতে উঠতে বলে
- আমি চলি বাবা।
- খাবারটা শেষ করে যা।
- সরি বাবা। লেট হয়ে যাবে।
বলেই সে নিজের ঘরের দিকে যায়। ধ্রুব একাই খেতে থাকে। অল্প সময় বাদে অতসী ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলবে
- বাই-ই, বাবা।
মেয়ের চলে যাবার দিকে তাকিয়ে অন্যমনষ্ক হয়ে যায় ধ্রুব।
অতসীর চলে যাবার দৃশ্যের ওপর ওভার ল্যাপিং হয়ে পর্দায় ভেসে উঠবে ছয় বছর আগের একটি দৃশ্য।
১৫
ধ্রুব খাবার টেবিলে। পরিপাটি পোশাকে মাধবী এসে পাশে বসবে। একটু আদরের কণ্ঠে, ভালবাসার আবেগ জড়িয়ে মাধবী বলে
- রাগ করেছ?
- নাহ!
- খাচ্ছ না যে?
- তোমাকে ছাড়া খেয়েছি কখনো?
- কাল থেকে তো একাই খেতে হবে।
- হুম! প্রথম প্রথম কয়েকটা দিন কষ্ট হবে। এক সময় সহ্য হয়ে যাবে। তা ছাড়া মাত্র তো ছয়টি বছর। তারপর তুমি আমি আবারো এই টেবিলে বসবো.....
- তা তো বটেই। তোমায় ছেড়ে থাকতে আমারও কষ্ট হবে। তবে ডিগ্রীটা আমার দরকার।
- অবশ্যই।
একরাশ নিরবতা।
মুখে ক্লেশ নিয়ে বলছে মাধবী
- তুমি কি আমার ওপর অভিমান রাখবে?
- কেন, বলোতো?
- তোমার কতগুলো টাকা গেলো। ব্যবসা গেল...চাকরী করে কত টাকা আর পাবে ভাবছি।
- ওটা তোমায় ভাবতে হবে না। আমি আর অতসী তো? কোন না কোনভাবে দিনগুলো কেটে যাবে।
এমন সময় অতসীর প্রবেশ। পড়নে স্কুলের পোশাক।
- মা, তুমি সত্যি প্যারিস যাচ্ছ?
- সন্দেহ আছে তোমার?
- তুমি আমাদের ছেড়ে থাকতে পারবে?
- কষ্ট হবে। তবে, থাকতে যে আমাকে হবেই।
এ সময়ে ক্লোজ আপে ধ্রুব'র চিন্তিত চেহারা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাবে। ওভার ল্যাপিং হবে নতুন দৃশ্য।
১৬
অফিসে টেলিফোন ধরে ধ্রুব কথা বলছে। আবহ সংগীত থাকবে। কথা থাকবে না। ধ্রুবকে বিচলিত দেখা যাবে। আবহ সংগীত ধীরে ধীরে কমে আসবে। টেলিফোন রেখে দেবে সে।
ক্লোজ আপে ধ্রুব স্বগতোক্তি করবে
- কি সব আজে বাজে কথা বলছে ওরা! শিল্পী হিসেবে তার দু'চারটা বন্ধু থাকতেই পারে। তাই বলে...
ফেড হয়ে পরবর্তী দৃশ্যে চলে যাবে।
১৭
ধ্রুব'র চোখ জানালা থেকে বাইরের আকাশে। কালো মেঘের ভেলা আকাশে আনাগোন করছে.. খুবই হালকা। ক্যামেরা আকাশ থেকে ক্রমে গাছ-পালার দিকে নেমে আসবে। এক নজরে প্রকৃতি দেখিয়ে লং শটে আসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ।
১৮
বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ছেলে-মেয়েরা হাটছে। লং শট ক্রমে মিড শটে পরিণত হবে। গিরি আর অতসী পাশা-পাশি হাটছে। প্রথমে পেছন থেকে ওদের দেখা যাবে। পরে সামনে থেকে। গিরি বলছে
- তোর মন ভাল নেই বলে মনে হয়?
- কৈ, নাতো! আমি ঠিক আছি।
- অমন চুপসে আছিস কেন তাহলে?
- ভাবছি।
- কি ভাবছিস?
- বাবার কথা।
গিরি জানে, অতসীর বাবা একা। অতসীর মা কাছে নেই। গিরি এও জানে শিল্পীদের মতিগতি কেমন হয়। মৃদু হেসে সে বলে
- তোর বাবার কি হলো হঠাৎ করে?
- মা'র দেয়া আঘাতটা কেমনে সামলাবেন তাই ভাবছি। বড্ড চাপা স্বভাবের মানুষ। কোন দুঃখই কাউকে শেয়ার করেন না।
- সেই-ই তো ভাল। কেউ কিছু জানলো না।
- তুই বুঝবি না। চুপ কর।
গিরি শান্ত কণ্ঠে অতসীকে বোঝাবার চেষ্টা করে
- শোন, কাঠ নিজে জ্বলে। অন্যকে উত্তাপ দেয়। তোর বাবাও অমনি। ভাবিস না।
- তুই বুঝবি নারে গিরি (প্রায় আর্তনাদ করে ওঠে সে)।
- কাঠ পুড়ে গেলেও বিনষ্ট হয় না, হয় কয়লা; আবারো জ্বলে। হয় ছাই। তাও কাজে লাগে।
- কি বলতে চাইছিস তুই?
এসময়ে ওরা একটা গাছের নিচে বসে।
- তোর বাবা, দেখবি মোটেও ভেঙ্গে পড়বেন না। তাঁদের মত মানুষ সমাজে খুব বেশী একটা জন্মায় না। দেখিস সব সামলে নিয়ে তিনি ঘুরে দাড়াবেন।
- তুই কি বলতে চাস, বাবা আবার বিয়ে করবেন?
- নাহ। তাতো বলিনি।
- তবে?
- তোর মা'র জন্য সব কিছু বিক্রি করে দিয়েও তিনি তোকে ভালভাবেই ভরণ-পোষণ করছেন, তাই না?
- হ্যা।
- তবে ভয় কেন? দ্বগ্ধ কয়লার মত তিনি নতুনত্ব এনে দেবেন তোর জীবনে। এক্কেবারে কিচ্ছু ভাবিস না।
আবহাওয়া সংগীতের কারণে ওদের আর কোন কথা শোন যাবে না। ক্রমে ওরা দু'জন লং শটে চলে যাবে।
১৯
ঘরের জানালা দিয়ে দিগন্তে পানে তাকিয়ে ধ্রুব। ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা নগরীর দৃশ্য মিড শট থেকে লং শটে চলে যাবে। ওভার ল্যাপিং হয়ে ঘন বনানী ধীরে ধীরে পর্দায় ভেসে উঠবে।
২০
বনের মধ্যে একাকী হাটছে ধ্রুব। সাদা ধোঁয়ার হালকা আনাগোনা রয়েছে। আনমনে হাঁটবে সে। দু'একটা গাছের পাতা ছিঁড়বে।
ধ্রুব'র স্বগতোক্তি
- মাধবীকে নিয়ে অনেকের অনেক কথা আমি কোন দিন কানে তুলি নি। সেটা কি আমার দুর্বলতা ছিল? নাকি উদারতা? মাধবী খুঁজে পেয়েছে স্বীয় পথ। আমি আত্মজা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি সাধ্যমত। কিন্তু .......... কেন এমন হলো? ......... (করুন মিউজিক বাজবে)।
ধ্রুব আবারো আনমনে ভাববে
- মাতৃহারা কন্যা সম্প্রদানেও যখন বাধা আসে, সেখানে মায়ের চলে যাওয়াটা কন্যার কি কল্যাণ বয়ে আনবে? সমাজকে কি দিয়ে বোঝাব? আমাদের সমাজ কি আমার মত উদার? নাকি আমার মত বোকা?
আকাশের দিকে তাকিয়ে
- আমি কি উদার না বোকা? (কথাগুলোর প্রতিধ্বনি হবে)।
- কি হবে অতসীর? (প্রতিধ্বনি হবে)।
- কাকে শোনাবো আমার এ না বলা কথা?
- কাকে দেখাবো এই বেদানার এ নীল আকাশ? (প্রতিধ্বনি হবে)
নীল আকাশে ভাসমান কালো মেঘের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দৃশ্যপট থেকে বিদায় নেয় ধ্রুব।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement