লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জুলাই ২০১৯
গল্প/কবিতা: ২৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসি তোমায় (ফেব্রুয়ারী ২০১৪)

বিদীর্ণ ভালবাসা
ভালবাসি তোমায়

সংখ্যা

মোট ভোট

আফরোজা অদিতি

comment ৮  favorite ০  import_contacts ১,২০০
তুমি আমার দুঃখ আবার দুঃখ ভুলানিয়া। তোমার জন্য পথ চেয়ে থাকি তোমার জন্য হাঁটি। তুমি আমার ছিলে কিন্তু এখন আর আমার নেই। কী জানি কেন এ জীবন আর ভালো লাগে না। হয়তো বা থাকতাম না এ পৃথিবীতে যদি তুমি না থাকতে। হয়তো বা না থাকলে ওরা চলে যেতাম অন্য ভুবনে। সব চেয়ে বেশি হলো লেখালেখির নেশা যদি না থাকতো তাহলে এ পৃথিবী থেকে চলে যেতাম আরও অনেক আগেই। চলে যাওয়ার যন্ত্রপাতি সব হাতের কাছেই তবুও যাই না কেবল তোমার জন্য আর আমার লেখালেখির জন্য। তোমাকে ভালোবাসি বলে লেখালেখি ভালোবাসি বলেই তোমার নাম দিয়েছি অক্ষর- আমার লেখার শব্দাবলী। তোমাকে ভালোবাসি বলেই লেখালেখি করি, জীবনের পথ হাঁটি। একলা ঘরে নিজের পায়ের শব্দ শুনি। আবার আমার ঘরের অন্য বাসিন্দা মানে অন্যভুবনে যারা থাকে তারা দরোজার ঘণ্টি বাজায়। ওদের ঘণ্টি বাজে একবার। আমি কখনো দরোজা খুলতে যাই কখনো যাই না। কখনো আবার একটা মেয়ের নূপুরের শব্দ শুনি। কখনো শুনি তোমার কণ্ঠস্বর। চমকে ওঠে ভাবি এইতো তুমি এসেছ কিন্তু না আসনি তুমি। সব ফাঁকা। আমার তুমি আসনি এসেছ অন্যভুবনের অন্যবসতির সে।
ওই বসতির মানুষ অদৃশ্য। আমরা যেমন ওরাও তেমনি হয়তো ! দেখিনি তো। জানি না ওদের। সে দেখতে আমার মতো কি না তারও কী আমার মতো হয় কি না ! সেও কী আমার মতো একাকী শূন্যতায় পার কওে কী তার প্রহরগুলো ! জানি না ! তারও সে, মানে তার ভালোবাসাও কী তার জীবন চিতার আগুনে পোড়ায় ?! তাকে দগ্ধ করে আবার সাগরে চুবায় কী না ! জানি না কিছুই। শুধুই মাঝে মাঝে নূপুরের শব্দ শুনি আর শুনি দরোজার ঘণ্টি আর তোমার কণ্ঠস্বরের মতো কণ্ঠস্বর। জানি না সেই নারী কী তার ভালোবাসাকে আমার মতো ভালোবাসে কী না !
২.
এ বাড়িটা যখন কিনেছিলাম আমরা তখন এ বাড়িতে আমি আসিনি। এসেছি সব সাজানো গোছানোর পরে। এ বাড়িতে আমার ঘর আমার বিছানা পছন্দ করেছিলে তুমি। তুমি যে স্থানে আমার খাট দিয়েছিলে সেখানে থাকলে তোমাকে একান্তে পেতাম না তাই আমি আমার ঘর রেখেছি কিন্তু বিছানা ঠিক সে জায়গাতে রাখিনি কারণ তোমাকে পাবো বলে। কিন্তু পাইনি তোমাকে ! খাট ঘোরাবার আগে তোমার সঙ্গে একটু তর্ক করেছিলাম যাকে সাধারণ ভাষায় বলে ঝগড়া। সেই ঝগড়াতে তুমি কাছে আসার বদলে চলে গেছ দূরে বহুদূরে আমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এখন আর তোমাকে কাছে পাই না ! একান্তে তো নয়ই !
৩.
তুমি মাঝে মাঝে এমন সব কথা বলো খুব কষ্ট পাই, কিন্তু তোমাকে বললে তুমি বলো, ‘ না এ কথা কখনও তোমাকে বলিনি। তোমাকে এ কথা বলতেই পারি না’। অথচ যখন যেভাবেই যে কথার ভিত্তিতেই তুমি বলে থাক সব কথা, তুমি বলো। যে কথা বলে সে ভুলে যায়। কিন্তু যাকে বলে সে ভুলতে পারে না। তার মনে থাকে। কারণ কথায় রক্তাক্ত হয় মন। হৃদয়ে নিভতে নিঃশব্দ রক্তক্ষরণ হয়। আর আমি এক অদ্ভুত মানুষ। কোন কথা মন থেকে যায় না। যত ভাবি অনেক ভালো কথা আমাকে বলেছ, অনেক ভালো দিন ভালো সময় আমাকে উপহার দিয়েছ তা আমি মনে রাখবো আর যত খারাপ কথা দিয়েছ সব মুছে দিব কিন্তু মুছে যায় না। মনে ভাবি সব ঝেড়ে মুছে আমি আবার নতুন মানুষ হবো। কিন্তু তাও হয় না। আমি দুঃখকষ্টে ক্লান্ত হয়ে যাই। ভেঙে যাই।

প্রকৃতিতে ফুল ফোটে, গজায় নতুন পাতা আবার ঝরেও যায় প্রকৃতি মনে রাখে না। আমি প্রকৃতির মতো হতে চাই কিন্তু কেন হতে পারি না বলতো ! কেন সব মনে থাকে ! কেন তোমার সব কথা আমাকে সাগরে ডুবায়। কেন চিকন রোদে আমাকে ভাসায় না ! কেন শূন্য টানেলে আমাকে পরিভ্রমণ করায় তোমার কথা ! বল, আমায় বল। তোমার কাছেই উত্তর চাই, তোমার কাছেই উত্তর খুঁজি কারণ তোমাকেই যে ভালোবাসি !

৪.
তুমি আমাকে ভুল বুঝেছো ! আমি কখনও তোমাকে মিথ্যে কথায় ‘ছড়ছেরা’ করে দেই না। যাকগে যা বলেছ তা আমি আর মনে রাখবো না। আমি তো তোমার ভালোবাসায় বেহেড মাতাল। কিসের দড়ি টানাটানি বলো ! তোমার আমার মনের মাঠে কী দড়ি টানাটানি অর্থাৎ টাগ অব ওয়ার চলে ! এই সব ভাগাভাগির দড়ি টানাটানি আমি কখনও পছন্দ করি না। তবুও এখন তাই করে ফেলি মাঝেমধ্যে। আমি এক নিরঙ্কুশ পাগল, ভালোবাসা কী দড়িতে বেঁধে আনা যায় বলো ! যায় না ! ভালোবাসা আপনা আপনি উড়ে আসে পাখির মতো প্রজাপতির মতো। পরিযায়ী পাখি না সে ! আসল ভালোবাসা কখনও পরিযায়ী পাখি হয় না। যে ভালোবাসা উড়ে আসে পাখির মতো বসে থাকে হাতের ওপর, কখনো মনের দাঁড়ে নয় কখনো হৃদয় খাঁচায় নয়, কখনো জীবন সেকলে নয় ; কখনো সে উড়ে যায় না সেই তো ভালোবাসা। আমার ভালোবাসা পরিযায়ী পাখি নয় আনন্দ প্রজাপতি। আনন্দের মাঠে প্রজাপতির পরিভ্রমণ। আমার প্রজাপতি উড়ে গেছে আনন্দহীন স্থানে সে থাকে না। আমার ভালোবাসা ছিল পরশ পাথর হাতের আঙুল গলে কখন পড়ে গেছে ধূলিতে আমি টের পাইনি। কারণ পরশ পাথর কখন আসে হাতে তা টের পাওয়া যায় না। টের না পাওয়াতে ধূলায় ঢেকে গেছে পরশ পাথর। আজ আর আমার পরশ পাথর নেই তাই আমার মন আর সোনা হয় না, হয় মাটি। আমার মাটিতে আর ভালোসার ফুল জন্মে না। জন্মে শুধুই আগাছা। আমি রোজ সকালে উঠে বলি, তুমি আমায় ভালবাসবে কি বাসবে না তার অপেক্ষায় না থেকে আমি সবসময় তোমায় ভালবাসবো । তুমি তোমার ইচ্ছা মতো ভালবাসবে। কিন্তু হয় না তা ! আমি ভালোবাসাবাসির হিসেব নিকেশে কখন কী ভাবে জড়িয়ে যাই নিজেই জানি না।
৫.
তোমার মনের ধুলোমাখা পথটা আমার জন্য উন্মুক্ত করে দাও। আগে যেমন ছিল ঠিক তেমনি। আমি তোমার ঘরের দরোজায় কখনো যেতে পারিনি, জানি পারবোও না কখনো। তবে সবসময় তোমার মনের দরোজায় যেতে পারতাম। কিন্তু এখন অনেক চেষ্টা করেও তোমার মনের দরোজায় পৌঁছাই কিন্তু মনের ভেতর ঢুকতে পারি না ! তোমার মনের দরোজায় আমি ভিক্ষুকের মতো বসে থাকি। আমি এখন তোমার ভালোবাসার ভিখেরই। অথচ ভিক্ষে করে ভালোবাসা পাওয়া যায়
না। যা পাওয়া যায় তা হলো শুধুই করুণা।
৬.
মন কান্দে চোখ কান্দে কান্দে আমার তনু
কান্দে হৃদয় কোথায় তুমি কোথায় জীবন
মুহূর্তে তুমি হারাও কেন আমার কৃষ্ণ শ্যামরায়
ভুলের পথে হাঁটে মন ভুলের পথে হাঁটে
ভুলের হাওয়ায় ভুল প্রণয়ে ভুলের রেণু বাটে
চোখের ভেতর জল নাই যে জ্বলছে শুধু অনল
প্রেমহীন এ জীবন আমার তোমায় শুধু চায়
কোথায় তুমি কোথায় আমার কৃষ্ণ শ্যামরায়
ভুলের প্রদীপ জ্বেলেছিল ভুলের পথে চলে
ভুল হাওয়ায় নিভলো দীপ ভুলের কথা বলে
ভুল বাতাসের আগুন দেখে ভুলের আলো আভায়
খুঁজে বেড়াই কোথায় তুমি আমার কৃষ্ণ শ্যামরায়

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement