আজ ৩৬৫ দিন-
আমার মন কাঁদে ক্লান্তিহীন।।
আজ তোর অন্তর্ধান দিবসে তোকে নতুন করে আর কি মনে করব;
তুইতো আমার কাছে পুরনো হয়ে যাসনি-
মন থেকে মুছে যায়নি তোর তীরোধানের বিষাক্ত তীরের জ্বালা।

সারাদিনের শ্রম শেষে, ঘরে ফিরে যখন তোর প্রস্থান স্থানের দিকে তাকাই;
কষ্টের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে এই হৃদয়ে।
তোর জীবনটা দীর্ঘ হলে আজ তোর হাত দুটো ধরতে পারতাম,
তোর নরম গালে ছুঁইয়ে দিতে পারতাম বাবার কর্কশ গালের পরশ;
তোর হাসিমাখা মুখটা বাঁধিয়ে রাখতাম! তোকে গোসল করি্যে দিতাম,
খেলতাম তোর সাথে, জড়িয়ে রাখতাম বুকের সাথে সারাটা সময়।

এই দেখনা, ক'দিন আগেই ঈদ গেল;
তোর জন্যে লাল টুকটুকে জামা কিনে দিতাম,
একটা না, অ-নে-ক গুলো,
আমি যেমন আমার বাবার হাত ধরে ঈদগাহে যেতাম,
তুইওতো সেরকম করতে পারতি,
কিছুই যে হলনারে!

আজ ৩৬৫ দিন আমার চোখে শান্তির ঘুম নেই,
আজ ৩৬৫ দিন আমি তোর চেহারাটা মনের গভীরে লালন করেছি সযত্নে,
এমন মায়ায় কেন যে জড়ালি তুই আমাকে,
আর মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে কেনইবা প্রথম আসমানে খেলা করছিস।

আজ ৩৬৫ দিন-
আমি হাসতে ভুলে গিয়েছি, আমি হয়েছি বড় এক অভিনেতা,
তোর মা কে তোর কথা মনে করতেই দিইনা আমি!
বলি, মানুষতো নশ্বর ( কিন্তু তুইতো আমার কাছে অবিনশ্বর)।
তুই বাবা একটিবার আমার কাছে আয়, আমাকে বাবা বলে ডাক,
আমার বোবা কান্নাকে সরব করে দিয়ে যা জাদুমনি।

আজ ৩৬৫ দিন-
বুকের মাঝে হাহাকারের কালো গহ্বরটা বৃদ্ধি পাচ্ছে,
ইচ্ছা হয় তোর আসনে অন্য কাউকে বসাতে,
কিন্তু ভয় হয়-
কে চায় বারবার বানের জলে নিজেকে ভাসাতে?