মনে পড়ে গেল হঠাৎ- সেই দৃশ্য দেখে আজ
গাড়ীর জানালায় আনমনো- দু’নয়ন
রাস্তার ময়লা পচা আস্তাকুঁড়ার পাশে
অতি রুগ্ন, ক্ষীণ এক শকুন ছানা
ক্ষুধার্ত বড়ই, ঠোঁট নড়িতেও অক্ষম
পাশেই মা শকুনটি সযত্নে খাদ্য তুলে দিল
টেনে নিল সুরক্ষিত ডানা তুলে, যেমনটি করেছিল মা চিরকাল
বোঝা গেল – অভিন্ন চরিত্র মানব আর
প্রাণী মাতৃত্ব-
ঈশ্বর তাঁর লীলাছকে এঁকেছেন সমান বৃন্তে
রাজু এসে বলল একদিন
মা, মাগো সবার বাবা আছে- আমার!?
স্কুল বার্ষিক সম্মেলনে সকলে থাকরে উপস্থিত- আমি কাকে!
মা বলল কেনরে খোকা আমি তো আছি-
তোর বাবা, মা, বন্ধু, ভাই, বোন সবই-
রাজুর ছলছল আঁখিতে কৃত্রিম অসহায় হাসি
জীবনের সর্বক্ষণে সুখে-দুঃখে মায়ের পরক্ষই
একমাস সম্বল- মা বিনে যেন হৃদযন্ত্র অচল
পরীক্ষার ফি এত গুল টাকা; মা কি ভাবে দেবেগো?
জিজ্ঞাসা পুত্রে পুত্রের
মা হেসে বলে আছে- আমার এ দু’টো বালা,
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ-গলায় জয়ের মালা
রাজু আজ মায়ের কাছে সেই ছোট খোকন সোনা
আদরের পুতুল।
অনুভূতি বলে দেয়- এরই নাম মা,
পরম মমতাময়ী, সর্বসহা, মহাবন্ধু
বটবৃক্ষ সম, যে আমরণ রাখে ছায়াতলে
আপন শিশুটিকে।