সেদিন প্রথম সামনা সামনি হই লাইব্রেরিতে। মনে মনে একটু বিব্রত হচ্ছিলাম। কোন কথাই বেরুল না আমার অতি রক্ষণশীল মুখখানি থেকে। ঠোঁট দু’টো কেবল নড়ছিল। কিন্তু ভাষা খুঁজে পেলাম না। অনেকক্ষণ কাছে ছিল সে। তারপর হঠাৎ বিচ্ছেদ। এভাবে কেটে গেল অনেক দিন।

মাঝে মাঝে দেখতাম, সে অন্যমনস্কের মতো কোথাও তাকিয়ে আছে। প্রকৃতির সাথে হয়তো মিশতে চাইছে। কিন্তু সে হয়তো জানে না, এ হলো বাস্তব জগত- যে শুধু নিজের স্বার্থটাই বোঝে, কাউকেই ছাড় দেয় না। নিরুদ্দেশের পানে তাকিয়ে কি মুক্তি পাওয়া সম্ভব? তাকে মনে মনে অনেক ডেকেছি, ভালোবাসার হাতছানি দিয়ে মন ভুলাতে চেষ্টা করেছি।

কিন্তু সব-ই বৃথা। শেষে নিরুপায় জেলের মতোই শূন্য হাতে নৌকা তীরে ভিড়ায়েছি। তবুও আশা ছাড়ি নি। মুখ তুলে কিছু বলি নি সত্য, তবু যেন বলার কিছ্ইু বাকি নেই। হৃদয়ের রাস্তায় আমি তার পথচেয়ে দাঁড়িয়ে থাকি আজও। ধরা তবু সে দেয় না। যদিও বলতে গেলে, সে আমার হাতের নাগালের মধ্যেই। জানি, ধরা তার একদিন দিতেই হবে। সেদিন হয়তো আমাকে খুঁজে পাবে না। অন্যের কাছে সে নিশ্চয়ই ধরা দিবে। আমার মতো মুখচোরার জন্য তার হয়তো কোন অনুরাগ বা অভিমান তার মনে কোনদিন জন্মাবে না। কিন্তু তার স্মৃতি যে আমার হৃদয়ে গোপন অভিসার হয়ে দেখা দিবে- আমি কি পারব সে স্মৃতি মুছে দিতে? সে উত্তর জানা নেই।

এখন ভাল লাগছে। চাঁদ দূরে থাকে বলেই তার প্রতি এত টান। আমার ভাল লাগার কারণও সেটি। তাকে আর আগের মতো মনে মনে ভালবাসার হাতছানি দিয়ে ডাকি না। শিশির-ভেজা সবুজ ঘাসের উপর রাণীর মতো বসা কোন অপ্সরীর কল্পনাও এখন আর করি না তাকে নিয়ে। শুধু দূর থেকে এক পলক, এক ঝলক; ব্যস এটুকুই। একজন মুখচোরার কাছে এর চেয়ে বেশি বন্ধুত্বের চিরকূট আর কী হতে পারে?