একটি অভিজাত শাড়ী পড়ানো প্রতিষ্ঠান

শাড়ী সংখ্যা

আহমাদ ইউসুফ
  • ১৩
  • ২৩
‘‘ও শোনেন একটা কথা বলি।
আচ্ছা বল।
জানেন, আমাদের বাসায় একটা বোবা কাজের মেয়ে আছে।
ও তাই নাকি? আগে তো জানতাম না।
ও আজ কি করছে জানেন? কি করছে?
ওর নাকি খুব শাড়ি পড়ার শখ উঠছে।
ও তাই নাকি? মজার ব্যাপার তো।
কিন্তু সমস্যা হলো ও শাড়ি পড়তে পারেনা। শেষে আমাকেই পড়িয়ে দিতে হল।
ও আচ্ছা। তুমি নিশ্চয়ই ভালো শাড়ি পড়াতে পার বলে তমাল।
ধুর! ভালো না ছাই। তবে কি, হোস্টেলের মেয়েদেরও প্রায়ই আমাকে শাড়ি পড়াতে হয়।
ও আচ্ছা ! তার মানে তোমার শাড়ি পড়ানোর হাত যথেষ্ট ভালো। আচ্ছা তুমি একটা কাজ কর।
কি কাজ? জয়িতার প্রশ্ন। তুমি একটা শাড়ি পড়ানো প্রতিষ্ঠান দিতে পার। আমি না হয় তোমাকে সার্বিক সহযোগীতা করলাম। তোমার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটা সাইনবোর্ড থাকবে এরকমঃ

‘‘যে হয় নারী সেই পড়ে শাড়ি’’
নারীত্বের পরিপুর্ন বিকাশ শাড়ি পড়া নারী
‘‘শাড়ি পড়ুন, নিজের সৌন্দর্যকে বিকশিত করম্নন’’

‘‘এখানে যত্ন সহকারে অভিজ্ঞ কারিগর দ্বারা শাড়ি পড়ানো হয়।
যেকোন অনুষ্ঠান, গায়ে হলুদ এবং বিয়ের কনের শাড়ি পড়ানো হয়।
আগ্রহী ব্যক্তিদের শাড়ি পড়ানোর উপর দুই সপ্তাহের শর্টকোর্স করানো হয়।’’
একটি অভিজাত শাড়ি পড়ানো প্রতিষ্ঠান।
প্রোঃ মিস জয়িতা আহমেদ
ফোনঃ ০১৭৪৮----

এই! এই চুপ। আর শুনব না। আপনি শুধু আমারে ইনসাল্ট করেন। ভালো হবে না কিন্তু।
আরে না না ! ইনসাল্ট করব কেন। আশ্চর্য্য! আমি তোমাকে ইনসাল্ট করতে পারি? এটা কোনো কথা বললা। আচ্ছা এক কাজ কর। তোমার একটা শাড়ি পড়া ছবি নিয়ে এস।
কেন আমার ছবি দিয়ে কি করবেন? জয়িতার প্রশ্ন।
কেন ধুয়ে ধুয়ে পানি খাব। বালিশের নিচে রেখে ঘুমাব আর সকাল সন্ধ্যা তোমাকে দেখব।
ইস শখ কতো! ভেংচি কাটে জয়িতা।
কেন এতে শখের কি হল? তোমার একটা ছবি আমি পেতে পারিনা।
না পারেন না। আপনি না আমার বন্ধু? ছি! বন্ধুকে নিয়ে এমন বাজে চিমত্মা করেনা।
আশ্চর্য বাজে চিমত্মা কোথায় দেখলে। বন্ধুর একটা ছবি তো বন্ধু পেতেই পারে। তাই না?
জ্বি না। বয়ফ্রেন্ড হলে অবশ্য ভিন্ন কথা বলে জয়িতা।
তুমি এটা কি বললা? বয়ফ্রেন্ড না বইলা তুমি আমারে এমন অবহেলা করতে পারলা। আচ্ছা আমাদের বন্ধুত্ব থেকে তো কখনো প্রেম হতেও পারে। বর্তমানে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হওয়া তো নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।
হ আপনারে কইছে। আগে হোক তারপর কইয়েন বলে জয়িতা।
এই জানেন আমার না খুব শাড়ি পড়তে মন চাইছে।
তাই নাকি? বাহ ভালো তো। শুভ লÿন দেখছি। শাড়ি পড়তে মন চাইছে তো পড়। আমাকে বলছ কেন? আর আমি কি করতে পারি? ঝাঝালো কন্ঠে বলল তমাল। আর হ্যা, শোন লাইফের এইসব স্পেশাল ইফেক্টগুলো শুধু স্পেশাল মানুষদের জন্যই রাখা উচিত। বিশেষ বিশেষ ইমোশন শুধু বিশেষ মানুষের সাথেই শেয়ার করা উচিত। বুঝেছ?
হু বঝছি। আপনারে আর বুঝাইতে হইব না।
গুড এইতো লাইনে এসেছ বলে তমাল।
আচ্ছা আপনে এক কাজ করেন আমাকে একটা শাড়ি কিনে কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেন।
আশ্চর্য ! আমারে তো পাগলে পাইছে? তোমারে শাড়ি কিনে দেব কোন দুঃখে।
আহা সেকি কথা। আমি বন্ধু হিসাবে কি একটা শাড়ি পেতে পারি না বলে জয়িতা।
না পেতে পার না। কেন আমি না আপনার বন্ধু। বন্ধুকে একটা শাড়ি কিনে দিলে কি হয়?
দেয়া যায়। কিন্তু এখন আমার বিয়ের মৌসুম। এখন বউয়ের জন্য কেনাকাটার সময়। আমি তো পাগল। না! বন্ধুকে পাচ হাজার টাকা দামের শাড়ি কিনে দেই। না না বাপু ওসব হবেনা।
এটা কেমন কথা হইল বস। আমি একটা শাড়ি চাইলাম আর আপনে আমারে দুকথা শুনাইয়া দিলেন। আপনে তো দেখি ভারী কিপ্টুস।
কিপ্টুস বল আর যাই বল তুমি কিন্তু শাড়ি পাচ্ছ না। আশ্চর্য আমার মতো একটা বন্ধু আপনার কাছে একটা শাড়ি চাইল আর আপনি তা দিতে সরাসরি অস্বীকার করলেন। ভারী আজব মানুষ তো বাবা। বন্ধুর জন্য দুহাজার টাকা খরচ করে একটা শাড়ি পর্যমত্ম কিনে দিতে পারেন না। আপনি কেমন মানুষ বুঝিনা।
পাম পট্টি দিলেও কোন লাভ নাই। আমার হিসাব অন্যরকম। আমার মতে বন্ধুকে তো এক কাপ চা আর ফুসকা খাওয়ালেই হয়। কে আবার এত টাকা খরচ করে গিফট দিতে যায়।
ওহ! তাই। বাহ! ভালোই বলেছেন বলে জয়িতা। বন্ধুত্বকে আপনি এতো ছোট করে দেখেন তা জানা ছিল না।
তবে হ্যা তোমার বিয়ের সময় অবশ্য একটা শাড়ি আমি গিফট হিসাবে দেব ভাবছি।
ও তাহলে তো হয়েই গেল, ওই শাড়িটাই তাহলে এখন দেন।
জ্বি না ম্যাডাম। সে সুযোগ নেই। আগে বিয়ে ঠিক হোক তখন দেখা যাবে। আর একটা মজার ব্যাপার কি জানো আমার সব মেয়ে বন্ধুকেই একটা করে শাড়ি গিফট দেব ভাবছি।
হইছে লাগত না আপনার শাড়ি। আমি আপনার মতো কিপ্টুসের শাড়ি পড়ি না। আপনার শাড়ি আপনার বউরেই দিয়েন। যাক বাবা বাচা গেল মেকি স্বস্থির নিঃশ্বাস ছাড়ে তমাল।



শোন এখন আর এতো ফোন টোন কর না তো।
কেন কেন? ফোন আবার কি দোষ করল?
না মানে এখন তো বিয়ে করার মৌসুম তাই বলছিলাম আর কি!
কেন ফোন করলে কি হয়? আমার ইচ্ছা আমি ফোন করমু। আপনারে কথা কইতে কে কইছে? ফোন ধইরেন না।
না তা কি আর হয়? তুমি ফোন দিবা আর আমি ফোন না ধইরা পারি? এইটা তুমি কোনো কথা বললা? না বোমা ফাটাইলা।
হ! যা কইছি কইছি। আমার সাথে আপনার কথা কইতেই হইব।
বারে! বললেই হল। শোন,আমার আর এতো বন্ধুর দরকার নাই। আমি ভাবছি কিছু বন্ধু ছাটাই করব। পেপার পত্রিকায় পড় নাই। ফেসবুক, ইয়াহু, গুগল, মাইক্রোসফট এর মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রায়ই তাদের কর্মী ছাটাই করে।
হ আপনেও তো দেখছি বহুজাতিক হইয়া উঠছেন? ভালোই পারেন।
বহুজাতিক হইছিই তো। আমি লেখক মানুষ না! শোন লেখকরা হচ্ছেন সার্বজনীন। তারা কোন নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকতে চান না। কোন নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নন। তারা হল বহুজাতিক।
ওমা আপনে আবার লেখক হইলেন কবে? জয়িতার শেস্নষের ভঙ্গি।
এ আর নতুন কি? আমি তো একজন স্বঘোষিত অখ্যাত লেখক। আসেত্ম আসেত্ম প্রখ্যাত হব। তারপর সময়ের বিবর্তনে বিখ্যাতও হয়ে যেতে পারি।
আগে হন তারপর কইয়েন। ইস সামান্য ম্যাগাজিনে একটা লেখা ছাপা হইছে আর উনি লেখক হইয়া উঠছেন।
শোন আমার মতো ছাপোষা লেখকরাই একদিন হুমায়ূন, আনিসুল হক, জাফর ইকবাল হয়ে উঠবেন। এতে আর সন্দেহ কি?
সন্দেহ আছে বলেই তো বলছি। আশ্বর্য্য সবাই মনে হয় মায়ের পেট থেকেই বিখ্যাত হয়ে জম্নেছেন? শোন এতো ডিসগ্রেজ কইরো না। দেখবা এই অখ্যাত রাইটারই একদিন দেশজোড়া লেখক হইয়া উঠব। বলে হো হো করে হাসতে থাকে তমাল।
হ কইছে আপনারে। আগে হন তারপর কইয়েন।
শোন তখন কিন্তু নাতী-নাতনীদের সাথে গল্প করতে পারবা। ‘‘এই জানিস তোরা, অমুক রাইটার একসময় আমার বন্ধু ছিল। পাগল একটা কোথাকার। একবার বলে কি জানিস, ‘‘তোমাকে আমার পছন্দ। তোমাকে বিয়ে করতে চাই’’।। আশ্চর্য্য এটা কি হয় তোরাই বল? বন্ধুকে কি বিয়ে করা যায়? তখন তোমার নাতি নাতনিরা কি বলবে জান?
কি বলবে? সাগ্রহে জানতে চায় জয়িতা।

বলবে ওহ দাদী তুমি আসলেই ভুল করেছ। উনার মতো এমন বিখ্যাত লেখকের প্রসত্মাব এভাবে ফিরিয়ে দেয়া উচিত হয়নি। উনি আমাদের দাদা হলে কতইনা ভালো হতো!
তুমিও বলবে, হ্যারে ভুলই করছি। আর আমি কি জানতাম উনি এমন বিখ্যাত হবেন। জানলে তো আর এমন ভুল করতাম না।’’ হা হা । তমালের অট্টহাসি।
ইস! আমার বয়েই গেছে উনার জন্য আফসোস করতে।
তখন অবশ্য আফসোস করে কোন লাভ নাই। আমি তো তখন বিখ্যাতদের কাতারে চলে যাব। তখন আমার চারপাশে থাকবে তন্বী কিশোরী মেয়েদের ভীর। দেখনা তরম্ননী মেয়েরা কিভাবে সেলিব্রেটিদের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য আকুপাকু করে।
আপনে ওই আশাতেই থাইকেন। মুখ ভেংচি কাটে জয়িতা।
আহা চটছ কেন? এটাই তো বাসত্মবতা। তখন দেখা যাবে তোমার মতো একজন প্রৌড়া রমনীর জন্য আমার কোনই আগ্রহ থাকবে না। বলে তমাল।
একটা মারব কিন্তু আপনারে। বেশি পন্ডিত হইছেন। শোনেন লেখকরা কিন্তু লুজ ক্যারেক্টার হয়। আপনে আবার ওইরকম হইয়েন না।
হলে দোষ কি? আরে বিখ্যাত মানুষদের এমন একটু আধটু খারাপ হওয়া দোষের কিছু না।
এটা কি কইলেন বস? সৎ চরিত্র সৎ আচারন সবসময়ই কাম্য। বিখ্যাত হন আর অখ্যাত হন তাতে কি, সৎ চরিত্রের মর্যাদা সর্বত্র বলে জয়িতা।
হয়েছে হয়েছে আর বলতে হবে না। আমি খারাপ হলে তাতে তোমার কি? তোমার সাথে আমার সাতেও নাই পাচেও নাই। তোমার কথা শুনতে যাব কোন দুঃখে।
ওমা এই ছেলে কয় কি বন্ধু হিসাবে চাইছি একটা শাড়ি। তাতো দিবেই না উল্টো এত কথা শুনাইয়া দিল। কোন কুÿনে যে আপনার সাথে বন্ধুত্ব পাতাইছিলাম তা আলস্নাহ মাবুদ জানেন। কুÿন না বল সুÿন। আমার মতো বন্ধু তুমি সারা জীবনেও কোথাও পাবে না বলে হো হো করে হাসতে থাকে তমাল। এভাবেই চলতে থাকে এক অমিমাংসিত সম্পর্কের রসায়ন। যার শেষ কোথায় তা কেউ জানে না।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
প্রিয়ম মন মাতানো একটা গল্প সুনায়লেন ভাই , ধন্যবাদ আপনাকে |
মিলন বনিক ওহ চমত্কার...পুরোটাই আনন্দ পেলাম....খুব ভালো লাগলো...শুভ কামনা...
ম তাজিমুল ইসলাম অনেক অনেক শুভ কামনা ।
আহমেদ সাবের বেশ মজার কথোপকথন। পড়ে খুব মজা পেলাম। চমৎকার হিউমার।
আহমাদ ইউসুফ ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য/ আপনার জন্য শুভো কামনা রইলো/
নৈশতরী ভালো লিখেছেন তবে যত্নশীল হলে লেখাটি আরো ভালো হতে পারত... সুভকামনা ভাই আপনাকে এগিয়ে যান !!
আহমাদ ইউসুফ ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য/ ক্রমশ ভালো করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আমি/ প্রয়োজন সবার সহযোগিতা/ ভালো থাকবেন/
অষ্টবসু শোনেন লেখকরা কিন্তু লুজ ক্যারেক্টার হয়। আপনে আবার ওইরকম হইয়েন না। হলে দোষ কি? আরে বিখ্যাত মানুষদের এমন একটু আধটু খারাপ হওয়া দোষের কিছু না। ...হুম। ভাল জমিয়েছিলেন কিন্তু,আমার গল্পে আসুন মজা পাবেন......
বশির আহমেদ দুজনের সংলাপ গুলো বেশ চমক প্রদ । বেশ মজা পেলাম মিয়া ভাই ।
মোহসিনা বেগম খুব সুন্দর গল্প ! শুভ কামনা ভাই ।
আহমাদ ইউসুফ ধন্যবাদ/ আপনার জন্য ও শুভো কামনা রইলো..............
জালাল উদ্দিন মুহম্মদ গল্পটি্র পরতে পরতে মজা পেলাম । খুব সুন্দর উপস্থাপন। এ কলম অনেক দূর যাবে।

২২ জানুয়ারী - ২০১১ গল্প/কবিতা: ২ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "বাংলা - আমার চেতনা”
কবিতার বিষয় "প্রেম”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ জানুয়ারী,২০২২