বাংলায় মোর জন্ম, বাংলায় মোর সুখ ।
বাংলায় কাটাবো জীবন, বাংলায় হয় যেন মৃত্যু ।
এই তসবীর চলবে কতদিন, ভাগ্য করে নি মোরে মার্জনা ।
জীবিকার তরে বাংলা ছাড়তে হবে, পরিচালক করেন পরিচালনা ।
সাত সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে গেছি এ কোন্ দেশে।
নীরস মানুষে বিরাজ, নেই কদমের গন্ধ বাতাসে।
ভুলব কি করে বাংলার মাঠ, ভিন্ন ডিজাইনের পথঘাট ।
খেলা শেষে নিম দীঘির স্নান, নিমগাছে কেটেছে মোর অর্ধজীবন ।
বটতলাতে বসে কহেলির সুমধুর কণ্ঠে
কখন যেন উঁকি দিয়েছে নিদ্রা মোর নয়নে,
কহেলির ঝগড়া আর কোলাহলে,
ঘুম ভেঙে হতবাক সূর্য্যি গেছে ঢেলে ।
কোথা হতে উদুম পেঁচা এক কহিল,
তুই কেন এত অন্যমনস্ক বল্ ।
বলিলাম তারে বুঝবিনা তুই ,
সহেছে তোরে এ দেশের মাটি জল ।
ভুলি নাই, ভুলতে পারি নি মোর বাংলার ভুবন,
বন্ধ নয়নে শ্বাস লইতে রহি বাংলার তাজা পবন ।
একই রবি শশীর কিরণ পড়ে ধরিত্রীর চারি কোণে ,
ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে আসে শুধু বাংলার মানুষের মনে ।
গল্প গুজব যত রাস্তাঘাটে ,
ঝগড়া মারামারি যত ফুটবল মাঠে ।
চায়ের দোকানে যত জুটে রাজনৈতিক নেতা ।
এক নজরে কাগজ পড়ে, লেখা নিয়ে তর্ক করে ।
চিন্তাহীন নেতার গৃহে রান্নার তরে গৃহিণীর যত চিন্তা ।
হৃদয়ে বাজনা বাজায় চপ, বেগুনীর গন্ধে ,
চাঁদা তুলে তারা চপ, মুড়ি, চা খাই স্বচ্ছন্দে ।
কখন হাসি, কখন কান্না, কখনও ক্যাচাল,
এইভাবেই কেটে যাই বাংলার দিনকাল ।
পাবে কি কোথাও বাংলার ভোরের সকাল ,
সাদা সাদাই ভরে যায় বেলগাছের তল ।
হয়ত তুমি প্রতিপত্তিশালী, হয়ত তোমার বহু হাত,
অসমর্থ খরিদ করিতে বাংলার বাতাস ।
রামধনুর মত ভিন্ন রঙে, ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন সাজে।
বসন্তের প্রেমে মাতাল মন, গ্রীষ্মের গরমে অসহায় জীবন ।
কখন নিয়ে আসে বাণ, কখন করে মাল্যদান ।
কখন দেখায় কত সবজির মুখ,
আহা ! খানায় খোদা দিয়েছে কত সুখ ।
যতই করতে রহ মালার জপন্,
কোথাও তুমি পাবে নাকো এমন পবন ।
কোথায় পাবে তুমি বাংলার রসমালাই,
স্বাদ নেই সর্ষে ইলিশে যে রকম আছে বাংলাদেশে ।
যাইব কবে ফিরে মোর বাংলার ভূমিরে,
পাইব আবার ফিরে হীরে মোর ছোট্ট কুঠিরে ।
কীটপতঙ্গ যেমন করে বিপদ ডাকে কলসপত্রে ঢুকে ,
প্রবাসে থেকে প্রবাসীদের মন হয় একেবারে ফিকে ।
সুন্দর মহলে নাই সুখ, যতই করুক বিরিয়ানি বাজিমাত ।
মহাসুখ বিরাজমান বাঙালির পান্তাভাত ।
সুন্দর মন , সুন্দর প্রাণ, সুন্দর মোর বাংলা ।
বাংলা চিরকাল ঐতিহ্যে অটুট রহে যেন,
এ আমাদের কামনা ।।