কামিনী ফুলের জানালাটা কি মাগো এখনো বন্ধ থাকে!
বাঁশবন থেকে চুয়ে চুয়ে আসা জল ভেজায় দরোজাটাকে!
আধা কাঁচাপাকা চুল অপেক্ষার দিনে একা উড়ে গোপনে,
লতানো গাছটা আলতো ধরে এখনো কি মা তুমি দাঁড়িয়ে,
সন্তর্পণে মুছে যাও উঠোনের কোণে অগোছালো শ্যাওলা,
আসে যদি ফিরে হূট করে বড় হয়ে যাওয়া তোমার ছেলেরা!
খসে পড়ে শত কাঠালের পাতা, বন্যার জলে ভাসে স্মৃতিরা!
ঘুমের দাওয়াই ব্যর্থ হলে, খুব নিষ্প্রাণ এই রাতের শহরে,
তোমাকে খুব মনে পড়ে মা! আজকাল খুব বেশি মনে পড়ে!

এখনো সান্ধ্য শীতের বিকেলে ফুলকি উড়ায় পাতার আগুন,
পাখি গুলো সব গুটিসুটি হয়ে বসা, গল্পের ঘুড়ি ভাসে টানটান!
গল্পের বাষ্পে মেশে তোমার আঁচলে মাখানো আজন্ম সুঘ্রাণ!
এখনো কি তোমার ডাকে রাজকুমারেরা নামে আকালের দেশে?
অভাবের শূন্যে গল্পের ফুল, বাসার বাগানেই নামে দিনশেষে!
বিকালের থমকানো ভীড়ে প্রতিদিন ঘামে ভিজে জীবনের শ্বাস,
খুব মনে পড়ে ছোট্টোবেলার তোমার গল্পে দেখা স্বপ্নের আশ্বাস!
না পাওয়া নেশার মতো অপ্রাপ্তির স্তূপ ক্রমশ এখানে হচ্ছে জমা,
বিষাদের আলোয় আঁকা রাস্তায় আর গল্পে হয়তো হবেনা থামা!

জানি বসে থাকো ভাংগা দুয়ারে নিয়ে গল্পের সযত্নে বোনা ডালি,
সদর দরোজায় পারিনা পৌছাতে আজ আর পেতে তার কস্তুরী!