নক্ষত্র তোমার খোঁজে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে অবিরাম চষে বেরিয়ে হাহাকার,
তোমাকে ঘিরে ফেনিয়ে ওঠা মিথ নগরের কক্ষপথে পায়চারি,
ভাঙা কাঁচের মত আকাশটা টুকরো টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আবর্জনা,
শুধু তোমারই খোঁজে তবু নক্ষত্র, এই অক্লান্ত অমূল্য রতন-বিলাস।
তোমার কাছে অজস্র কষ্ট জমা রাখার আছে,
তোমাকে না পাওয়ার মত কষ্ট, পেয়ে হারানোর মত যন্ত্রণা,
হারিয়ে পুনর্জন্মের মত আর্তনাদ, জন্মের পর অদেখা ডুবের প্রলাপ,
প্রলাপের মত কষ্ট আছে।
তুমি খুব অগোচরে, হয়ত জঠরে তোমার নক্ষত্র, ওকে বাঁচিয়ে রেখো।
তোমার হৃদয়, যেখানে একদিন একচ্ছত্র রাজত্ব আমার, এখনও থেকে থাকে যদি,
ওকে ঠাঁই দিও,
আমি যেদিন খুঁজে পাব তোমায় প্রিয় নক্ষত্র, কোন কোন আব্রুহীন রাতে,
আর নির্লজ্জের মত দেখতে চেয়ে ফেলি গর্ভ-ভল্টে গচ্ছিত কষ্টগুলো,
স্তনের মতন গোপন অধিকারে আমাকে ছুঁতে দিও,
মিলনের মতন পরম উষ্ণতায় মাখতে দিও।
তারপর যেদিন শেষ নিশ্বাস চুকিয়ে দিয়ে, উচ্ছিষ্ট জীবনের দামে
আজরাইলের হাওয়াই শকটের টিকিট কেটে পাড়ি দিব মিথ নগরের কক্ষপথে,
সূত্র মতে সেদিন তোমার মত আমিও নক্ষত্র হব।
নক্ষত্রজোড়ার মিলনের সন্তান কষ্টগুলো সেদিন জন্ম নিবে,
কষ্ট চিৎকার করে মাতবে উল্লাসে,
মিছিলে মিছিলে সৌরলোকে বিগ-ব্যাং কিংবা নতুন গ্যালাক্সির বোধন হবে।