গল্পটি বিষয়ের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১১ নভেম্বর ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ১১টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - শিশু (সেপ্টেম্বর ২০১৯)

সুখের দেখা
শিশু

সংখ্যা

আশা

comment ৪  favorite ১  import_contacts ১১৩
এত বার ডাকছে কেন লোকটা? মাথা টাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি? ডাক শুনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এবার আমাকে উঠতে হলো। বইটাকে বালিশের তলায় চালান করে জানালা দিয়ে নিচে তাকালাম। এখানে কয়েকটা দিন বেড়াতে এসেছি অথচ এই বুড়ো কেয়ারটেকার নিজাম চাচার জন্য নিজের মত একটু থাকার ও উপায় নেই। সময়ে অসময়ে এমন ভাবে তিতলী বলে চেঁচাবে ঠিক যেন বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। বাবার বয়সী একজন মানুষ, তাই চরম বিরক্তিকে টুপ করে গিলে ফেলে সবসময় হাসি মুখে তার ডাকে সাড়া দিতে হয়।
নিজাম চাচার দুহাত ভর্তী ফুলে। এত সাত সকালে ফুল আনার রহস্য বুঝতে না পেরে আমি দরজা খুলে বাগানে নেমে এলাম। এ বাড়ির বাগানও প্রায়দিনই ফুলে ফুলে ভরা থাকে। আজও ব্যতিক্রম নয়। তবু বাইরে থেকে ফুল আনা কেন? আজ কি কোন বিশেষ দিন?
কিছুক্ষন আগে হওয়া বৃষ্টি এখনো বাতাস বেয়ে টুপটাপ ঝরছে। বাইরে বের হতেই ঠান্ডা বাতাসে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। চাচা আমাকে দেখে এগিয়ে এসে ফুলগুলো আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে জবাবাদিহির সুরে বললেন কেউ একজন জোর করে ফুলগুলো তাকে গছিয়ে দিয়েছে। তিনি আনতে চাননি। কিন্তু ছেলেটি নিজেকে আমার বন্ধু বলে পরিচয় দিয়েছে। তাই চাচা আর না করতে পারেননি।
আমি চাচাকে কিছু বললাম না। হাত বাড়িয়ে ফুলগুলো নিয়ে সোজা আমার রুমে চলে এলাম। কে দিয়েছে সেটা জানতেও ইচ্ছে করছে না। প্রায়ই বিকেলের দিকে আমি এ বাড়ির ছাদে গিয়ে দাড়াই। হয়তো তখন কোন প্রেমিক যুবক আমাকে দেখে থাকবে। আমাকে ভাললাগার নিদর্শন হিসেবে চাচার হাত দিয়ে ফুল পাঠিয়েছে। ব্যাপারটা মনে হতেই আমি হেসে ফেললাম। ছেলেগুলোর এই বোকা বোকা আচরণ একটা সময় ভাল লাগলেও এখন আমার হাসি পায়। অনার্স ফাইনাল দিয়ে খালা-খালুর কাছে বেড়াতে এসেছি। ঢাকায় ফিরে মাষ্টার্স করার পাশাপাশি বাচ্চাদের একটা স্কুলে শিক্ষকতা করার ইচ্ছে আছে। ছেলেদের এই বোকামিতে গা ভাসিয়ে দেয়ার সময় নেই হাতে। আর তাছাড়া সেই ক্লাস সিক্স সেভেন থেকে ভালবাসি ভালবাসি বলে লেখা লাজুক চিরকুট পেতে পেতে আমি ক্লান্ত। আমি জানি পৃথিবীতে ভালবাসা বলে কিছু নেই। যা আছে সেটা খেয়াল খুশি।

ফুল গুলো একটা কাঁচের গ্লাসে গুজে রাখতে রাখতে হঠাৎ করেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
আচ্ছা কেন তাকে আমি ভুলতে পারছিনা? এতগুলো দিন পার হয়ে গেলো অথচ এখনো কেন আমার নিঃসংগ মনটা তাকে জাপ্টে ধরে আছে? আমার সময়ের হিসাবটা এখনো কেন এভাবে ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে?
মন খারাপের কারনকে ঝেটিয়ে দূর করার জন্য সব কিছু থেকে নিজেকে দূরে ছুড়ে ফেলেছি। দিন রাতের সংগী আমার ফেইসবুক একাউন্ট আমি হাওয়ায় মিলিয়ে দিয়েছি। মোবাইলের সিম পরিবর্তন করেছি। মোটকথা কি না করেছি আমি নিজের ভালোর জন্য? তবু প্রতিমুহূর্তে কষ্ট পাচ্ছি। ভীষণ কষ্ট। নিশ্বাসের মত আমার দুঃখগুলো আমাকে ছেড়ে যাচ্ছে না। করুন সানাইয়ের মত অনবরত বেজেই চলছে।
আমি একে একে আমার সব বন্ধুদের ত্যাগ করেছি। আমার কারো সাথে মিশতে ভাল লাগেনা। কোথাও যেতে ভাল লাগেনা। তবু নিজের জন্য নিজের সাথে খানিকটা যুদ্ধ করেই আমি এখানে এসেছি।
আমাকে ভাল থাকতে হবে। যেকোন মূল্যেই হোক। আমি আমার মনের ছাপ জীবনের উপর পড়তে দেব না। আর সে কারনেই মনের রক্তাক্ত ক্ষতকে দাঁতে দাঁত চেপে আটকে ধরে পড়াশুনা করে গেছি। লিনিয়ার প্রোগ্রামিং এর মত জটিল সব গানিতিক বিষয়ে মন বসাতে না পেরে চোখ কান বুঝে মুখস্থ করে ফেলেছি। তবু হাল ছেড়ে দেইনি। জানি রেজাল্ট ও ভালো হবে।
আমার এ প্রবাহিত জীবনটাতো শুধু আমার একার নয়। আমার বাবামায়ের ভাগ আছে এতে। নিজস্ব ভুলের মাশুল তাদেরকে আমি দিতে দেবনা।

বালিশের তলা থেকে জীবনানন্দের কবিতার বইখানা বের করে কেবল হাতে নিয়ে বসেছি,এরমধ্যেই শোনা গেলো আমার রুমের বন্ধ দরজায় ধুপধাপ আওয়াজ। আমি চোখ বন্ধ করেই বলে দিতে পারি কে এসেছে। আমার খালাখালুর একমাত্র সন্তান চার বছরের পিউ।
এই ক'দিনেই বাচ্চাটা আমার ভারী ন্যাওটা হয়েছে। যেখানেই যাব ছায়াসংগী হবে মেয়েটা। আর নিজাম চাচা তো আছেনই। আমাকে চোখে চোখে রাখার কাজটাই এখন তার কাছে মূখ্য হয়ে উঠেছে। জানিনা মা বা খালা তাকে কি বলেছেন আমার সম্পর্কে।
আমি আমার গোপন দুঃখগুলো মাকে পর্যন্ত বুঝতে দেইনি। কতদিন কতরাত যে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে কেঁদে কাটিয়েছি সে খোঁজটুকুও কাউকে রাখতে দেইনি। না আপনজনকে, না দূরের মানুষকে। একই খাটে পাশাপাশি ঘুমিয়েও আমার ছোট বোন আমার অগোছালো সময়ের সংগী হতে পারেনি। এমনকি বাবা মায়ের কাছ থেকে জীবনের এই অংশটার হিসেবের খাতা আমি খুব সযত্নে গোপন রেখেছি। তবু মা যে কিছু একটা আঁচ করেছে সেটুকু বুঝতে পারি।

দরজায় ছোট্ট হাতের কড়া নাড়ার শব্দ এখনো হচ্ছে। যতক্ষণ না খুলবো ততক্ষণ হতে থাকবে। আমি ইচ্ছে করে প্রায়দিনই দেরী করে দরজা খুলি। কারন যতবার এই ছোট্ট হাতের ধুপধাপ শব্দ শুনি ততবার আমার মনে হয় আস্ত একটা নরম সুখ দরজার ওপাশে দাড়িয়ে আছে। দরজা খুললেই সারা ঘরে হামলে পড়বে।


দরজা খুলে দুহাত বাড়িয়ে পিউকে কোলে নিতে নিতে বাবার কথা মনে হলো। আমার স্কুলশিক্ষক বাবা সবসময় বলেন শিশুদের মত নিষ্পাপ পৃথিবীতে আর কিছু নেই।
এই নিষ্পাপ বাচ্চাটা কি আমার মনের বন্ধ অংশটুকু খুলে দিতে পারবে?

এ বাড়ির ড্রইংরুমে বুকশেলফ ভর্তি বই। ইদানীং এখানে এসে খুব কবিতা পড়ছি। বিশেষ করে জীবনানন্দের। মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনানন্দ দাশ যদি বেঁচে থাকতেন! যদি তাঁর কাছে আমার মনটাকে উপুড় করে ঢেলে দিতে পারতাম! একজন কবি নিশ্চয়ই আমাকে বুঝতেন। আমার না বলা কথাগুলো অন্তস্থল থেকে অনুভব করতে পারতেন।

বৃষ্টি থেমে গিয়ে ঝকঝকে রোদ উঠেছে। মাথার উপর নীল আকাশ।
আমি আর পিউ বাড়ির পেছনদিকের বাগানে একটা জারুল গাছের গোড়ায় বসে আছি। মেয়েটা আমার সাথে টুকটুক করে কথা বলে যাচ্ছে। আমি একটা কাঠি দিয়ে মাটির উপর আঁকিবুকি কাটতে কাটতে পিউর কথা মনযোগ দিয়ে শুনছি। নিজাম চাচাও আশেপাশে আছেন।
আমি খেয়াল করেছি যতক্ষণ পিউ আমার কাছে থাকে ততক্ষণ আমার কষ্টেরা দূরে কোথাও গিয়ে ঘাপটি মেরে পড়ে থাকে। একা হলেই আবার এক এক করে সব ফিরে আসে।
সময়ে নাকি সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রেও হয়তো খারাপ দিনগুলো একসময় ফিকে হতে শুরু করবে। কিন্তু সেটা কবে?

জারুল গাছের ডালে বসা একটা হলুদ প্রজাপতি দেখে পিউ কিছু একটা বলছিলো। আমি আচমকা ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, 'জানো পিউ,আমি একজনকে খুব ভালবাসি। খুউব।'
পিউ আমার দিকে তাকিয়ে অভিমানি সুরে বললো, 'আর আমাকে? ভালবাসনা?'
'বাসি তো। তোমাকেও ভালবাসি।'
'কম নাকি বেশি?'
'অনেক বেশি।'
'আমিও তোমাকে অনেক ভালবাসি। আকাশ পর্যন্ত।' পিউ দু’হাতের আঙুল তুলে আকাশ দেখালো।
'কিন্তু আমি যাকে ভালবাসি সে আমাকে ভালবাসে না।' বলতে গিয়ে কেন যেন আমার চোখে পানি এসে গেলো। পিউ আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে একদম বড়দের মত বললো,
'সে কি তোমার বন্ধু?'
'হু।'
'তোমার বন্ধু কেন তোমাকে ভালবাসে না? তুমি ওর কি নষ্ট করেছো?'
পিউর প্রশ্ন শুনে আমি হেসে ফেললাম। পরক্ষণেই মনে হলো তাইতো! আমি তো তার কিছু নষ্ট করিনি,তবু সে আমাকে ছেড়ে গেলো কেন? এমনকি সে চলে যাওয়ার পরেও তার নামটা পর্যন্ত কোথাও উচ্চারণ করিনি।

এই ছোট্ট মেয়েটার স্বচ্ছ প্রশ্নের মুখে আমার মনে হলো আমার ভেতরটা যেন কুকড়ে গেলো। আমি আরো খানিকটা আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতেই ম্রিয়মাণ স্বরে বললাম, 'আমি ওর কিচ্ছু নষ্ট করিনি,তবু ও আমাকে ভালবাসেনা।'
'তুমি ওকে বকা দিয়ে দাওনি?'
'না।'
'চলো বাবাকে নিয়ে তোমার বন্ধুকে বকা দিয়ে আসি।'
আমি আবারো হেসে ফেললাম। পিউকে আরেকটু কাছে টেনে নিয়ে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললাম, 'আমার বন্ধু অনেক দূরে থাকে,অনেক অনেক দূরে। ওর কাছে আমি আর কোনদিনও যেতে পারবোনা। ও এখন অন্য কারো বন্ধু।'
'ঐ দুষ্ট বন্ধুটা যদি তোমার কাছে আসে তুমি কিন্তু কক্ষনো আর ওর সাথে মিশবেনা।' পিউ আংগুল তুলে শাসালো।


এ পর্যন্ত লিখে ডায়েরির পাতা বন্ধ করলাম। আজ আর লিখতে ভাল লাগছেনা। জানালার বাইরে এখন অনেক রাত। ঝকঝকে করে মাজা পিতলের বাটির মত চাঁদ উঠেছে রাতের আকাশে। ইচ্ছে করছে পিউকে নিয়ে ছাদে চলে যাই। কিন্তু ছোট্ট মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে।
আমি উঠে গিয়ে জানালার পাশে দাড়ালাম। চারদিক নরম আলোতে ভেসে যাচ্ছে। পিউ জেগে থাকলে পৃথিবীর এই অপরূপ রূপ দেখলে অবাক হয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতো।
কত অদ্ভুত প্রশ্ন যে মেয়েটার মাথায় ঘুরে বেড়ায়।
এইতো সেদিন দুজনে বাগানে হাটছিলাম। হঠাৎ পিউ আমার দিকে ঘুরে প্রশ্ন করলো, 'আচ্ছা তিতলী আমি এত ছোট কেন?'
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম, 'কোথায় ছোট? তুমি তো সবার বড়।'
'না। তুমি বড়। কেন আমি ছোট বলো?' ও নিজেকে আমার সংগে মেপে দেখালো।
পিউর কথা শুনে হাসি গোপন করে উপয়ান্তর না দেখে বললাম, 'আমিও একদিন তোমার মত ছোট ছিলাম। একটু একটু করে একদিন এতটা বড় হয়ে গেছি। তুমিও অনেক বড় হয়ে যাবে।'
'কিন্তু তুমি যখন ছোট ছিলে তখনতো আমি তোমাকে দেখতে পাইনি। আমি তখন কোথায় ছিলাম?'
এভাবেই পিউ প্রশ্ন করে। একেবারে বড়দের মত। প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমি রীতিমতো কথার ঝুড়ি হাতড়াই। পিউর প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা এখন আমার কাছে মজার একটা খেলার মত। ছোট্ট বাচ্চাগুলো যে এভাবে প্রতিটা ঘরে ঘরে নরম সুখ বিলি করে আমার জানা ছিলোনা।
এসব ভাবতে ভাবতেই আচমকা আমার মনে হলো আজ কত দিন পরে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকে না ভেবে অন্য কারো কথা ভাবছি!
এমনকি এই অভিমানী জোৎস্না রাত দেখেও তো আমার কষ্ট হচ্ছেনা? তাহলে কি এই নিষ্পাপ মেয়েটা আমার মনের বন্ধ অংশে একটু একটু করে ফাটল ধরাচ্ছে?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • নাজমুল হুসাইন
    নাজমুল হুসাইন তোমার বন্ধু কেন তোমাকে ভালবাসে না? তুমি ওর কি নষ্ট করেছো?'
    পিউর প্রশ্ন শুনে আমি হেসে ফেললাম। পরক্ষণেই মনে হলো তাইতো! আমি তো তার কিছু নষ্ট করিনি,তবু সে আমাকে ছেড়ে গেলো কেন? এমনকি সে চলে যাওয়ার পরেও তার নামটা পর্যন্ত কোথাও উচ্চারণ করিনি।সুন্দর গল্প,সহজ সরল...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২ সেপ্টেম্বর
  • আহাদ আদনান
    আহাদ আদনান চমৎকার, বরাবরের মতো খুব সুন্দর।
    প্রত্যুত্তর . ২ সেপ্টেম্বর
  • কাজী প্রিয়াংকা সিলমী
    কাজী প্রিয়াংকা সিলমী অনবদ্য রচনা। অসাধারণ ভাল লেগেছে।
    প্রত্যুত্তর . ২ সেপ্টেম্বর
    • আশা এ সংখ্যায় লেখার ইচ্ছে ছিলোনা। একদম শেষ মুহূর্তে মনে হল অন্তত হালকা ধরনের কিছু একটা তো লিখি! অনেক ধন্যবাদ।
      প্রত্যুত্তর . ৩ সেপ্টেম্বর
  • বিশ্বরঞ্জন দত্তগুপ্ত
    বিশ্বরঞ্জন দত্তগুপ্ত সাধারন বর্ণনার মধ্যে দিয়ে সুন্দর একটি গল্প পড়লাম । ভাল থাকবেন । শুভকামনা রইল ।
    প্রত্যুত্তর . ৬ সেপ্টেম্বর

advertisement