নীরবতা যেভাবে শব্দকে ভেঙে দেয়,
কাগজে আটকে রাখে
শতাব্দীর বর্ষীয়সী ধ্বনি,
পাহাড়ের বুনো ঝর্ণাকে তুলে ধরে
বইয়ের প্রচ্ছদে
সেভাবেই
আমার সকল ঘৃণা ও বিদ্বেষ
আমি বারুদ সহ মুড়ে রেখেছি
কাগুজে ভ্যালেন্টাইনে।
এখন শুধু বিস্ফোরণের অপেক্ষা. . .

আমাদের প্রাণচাঞ্চল্য যেভাবে
নীরবতাকে স্তব্ধ করে দেয়
সেই নিস্তব্ধ নীরবতার মতো
বিশুষ্ক ভ্যালেন্টাইন
আমাদের নির্বাধ প্রেমকে ক্রমে
ফরমালিটির ফাঁদে ফেলে।

নির্জন অন্ধকার ছাড়া
নৈঃশব্দ্য যেমন ভাবগাম্ভীর্যহীন,
অসহ্য, বিরক্তিকর
সেরকমই
শীতকালীন বিবর্ণ পাতার মতো
আভিজাত্যহীন প্রেম
ভ্যালেন্টাইনে জেগে ওঠে।

হঠাৎই বেকারত্ব কিংবা অবকাশের মতো
যখন অসংখ্য করণীয় ঠিক থাকে
অথচ দিনশেষে
অর্জনের ডালি থাকে শূন্য,
ভ্যালেন্টাইন অমনই
নিষ্কর্মা প্রেমের উপলক্ষ্য
কিংবা
মাঝরাতে শৌচাগার গমনের মতো
অকিঞ্চিৎকর কার্য সমাধার।

দিগন্তের ওপারে দিগন্তের মতো
জীবনে একের পর এক ভ্যালেন্টাইন আসে।
প্রেম আরো অনার্দ্র হয়,
কুষ্ঠরোগীর মতো গলে যায়।
তারপরও প্রতিটি ভ্যালেন্টাইনই
নতুন করে নিয়ে আসে
স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের কাতরতা।