গল্পের নায়ক 'রাঙ্গা' সারাজীবন অতি সাধারন কিন্তু হাসিখুশি এবং পরোপকারী জীবনযাপন করেছেন। তিনি যখন জানতে পারলেন তিনি কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং মৃত্যু সন্নিকটে তিনি তখন তিনি এমন কাজ করলেন, যা তার আত্মমর্যাদারই পরিচায়ক। পার্থিব জীবনের লোভ-লালসা তাকে স্পর্শ করেনি, এমনকি এই পার্থিব জীবনের শেষ সময়গুলোতেও তিনি পরনির্ভর বা কারো কাছে ঋণী থাকতে চাননি। এই মানুষটির আত্মমর্যাদাবোধের গল্পটি 'গল্প-কবিতা'র 'পার্থিব' সংখ্যায় প্রকাশ হলে ভালো লাগবে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৫১

বিচারক স্কোরঃ ৩.৭১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - পার্থিব (আগস্ট ২০১৮)

নীরব প্রস্থান
পার্থিব

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৫১

আসাদুজ্জামান খান

comment ১১  favorite ০  import_contacts ৪৫২
(১)

টিটিং। টিটিং । তীক্ষ্ণ শব্দে ধরমর করে উঠলাম। মুঠোফোনে আলো জ্বলছে। একটু ধাতস্ত হতে বুঝলাম, বার্তা / ‘মেসেজ’ এসেছে। রাত তিনটা বাজে। বিরক্ত লাগে। এই গভীর রাতে সাধারনত ‘মেসেজ’ আসেনা। ‘স্প্যাম মেসেজ’ ব্লক করে দেয়া আছে। আর যাদের কাছে ফোন নাম্বার আছে, তারা কেউ সাধারনত এই সময়ে বিরক্ত করেনা। ‘ইনবক্স’ খুলে দেখি দেশ থেকে ‘মেসেজ’ এসেছে। আনিসের। আনিস আমার ছেলেবেলার বন্ধু। কিন্তু এই গভীর রাতে!

সংক্ষিপ্ত মেসেজঃ

“দোস্ত, অনেক রাত হয়েছে। ঘুমাচ্ছিস নিশ্চয়ই। তাই আর ফোনে বিরক্ত করলামনা। একটা খারাপ খবর আছে। রাঙ্গা ভাই মারা গেছেন। কিছুক্ষন আগে। ঘুম থেকে জেগে ফোন দিস।”
মেসেজটা আমি আবার পড়ি। আবার। বাথরুমে গিয়ে মুখে চোখে পানি দিয়ে ওযু করে আসি। তারপর আবার মেসেজ দেখি। হ্যা! ভুল দেখছিনা। এ সত্যি।

আনিসকে ফোন দেই। ধরেই ও কেঁদে ফেলল।
“কি হয়েছিল রে?”
“ক্যান্সার”
“সে কি? কিছুই জানতাম না!”
“আমরা কেউই জানতাম না। এমনকি ভাবী পর্যন্ত টের পাননি। একেবারে শেষ সময়ে এসে জানতে পারেন।”
“মানে কি? টের পাননি কিরে? ক্যান্সারের রোগীকে দেখলে চেনা যাবেনা?”
“সে অনেক কথা। রাঙ্গা ভাই মারা গেছেন ঢাকাতে। আমি আর সাজিদ যাচ্ছি সেখানে। ভাবী ওখানেই আছেন। কাল দিনের বেলায় তোকে জানানোর চেষ্টা করব। না পারলে পরশু। তুইতো আর এই মুহুর্তে দেশে আসতে পারবিনা, দোয়া করিস।”

নামাযে দাড়াই। রাঙ্গা ভাইয়ের জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে হাত তুলতে গিয়ে চোখের পানি বাধ মানলনা।

ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াই। ভোরের আলো ফুটতে এখনো বেশ দেরী। কিন্তু অন্ধকার নয় চারদিক। সবুজ জমিন শুভ্রতায় ঢেকে গেছে। গত ক’দিন ধরে টানা তুষারপাত হচ্ছে। সাদা রঙের হাওয়াই মিঠাইয়ের মত তুষারগুলো বাতাসে ভাসতে ভাসতে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে পড়তে মাটির উপরে সাদা কার্পেটের উচ্চতা বাড়িয়েই চলছে।
অনেকেই বলে, বৃষ্টি নাকি আকাশের কান্না। তুষার কি তাহলে? জমাট বাঁধা কান্না?

(২)

রাঙ্গা ভাই আমাদের রক্ত-সম্পর্কের কেউনা। কিন্তু আমাদের বন্ধু মহলে তিনি তার চেয়েও বড় কিছু। কখনো আমাদের শিক্ষক, কখনো খেলাধুলার সাথী, কখনো খেলাধুলার কোচ, কখনো বেড়াতে নিয়ে যাবার কেউ, কখনোবা দার্শনিক। আমাদের মধ্যে যাদের রক্ত-সম্পর্কের বড়ভাই ছিলনা, তাদের সবার কাছেই তিনি বড়ভাই। আবার যাদের বড়ভাই ছিল, তাদের জন্য আরেকজন বড়ভাই।

সেই শৈশব, কৈশোর থেকেই তার সহচর্য আমরা পেয়ে এসেছি। এমন কি আমাদের থেকে দু-চার কিংবা পাঁচ-ছ বছরের যারা বড় কিংবা ছোট, তারাও তার স্নেহধন্য। আমাদের প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন সার্বজনীন বড়ভাই। দেখতে বেশ ফর্সা ছিলেন, অনেকটা বিদেশী সাহেবদের মত। তাই তার আসল নাম হারিয়ে গেছে। বাপ-চাচারা তাকে ‘রাঙ্গা’ বলে ডাকতেন। আর আমাদের জন্য হয়ে গেলেন রাঙ্গা ভাই।

মনে পড়ে, ছেলেবেলায় একবার পুকুরে গোসল করতে গিয়ে শামুকে পা কেটে গিয়েছিল। রক্ত দেখে আমি অজ্ঞান। রাঙ্গা ভাই আমাকে কোলে করে এলাকার ডিসপেন্সারীতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর বাড়িতে দিয়ে গিয়েছিলেন কোলে করেই।

ক্লাস সেভেনে থাকতে একবার অংকে ফেল করেছিলাম। স্কুলে স্যারের আর বাড়িতে বাবার মার খেয়েছিলাম বেশ। রাঙ্গা ভাই এসে আমাকে অংক করানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বলেছিলেন “দ্যাখ, অংক টংক তো আমি তেমন বুঝিনা, তবে তোর সাথে কয়েকদিন বসে দেখি এই ব্যাপারটা বোঝা যায় কিনা।” বইএর উদাহরন দেখে আর বাজারের কেনা গাইড বই দেখে আমরা দুজনে সব অংক মেলাতে লাগলাম। ধীরেধীরে আমি অংকের মজা পেয়ে যাই। মাত্র মাসখানেকের মধ্যেই অংক না জানা রাঙ্গা ভাই অংক-ভীতু আমাকে অংক-প্রেমিক করে দিলেন!

এসএসসি পরীক্ষার পরে কলেজে পড়ার উদ্দেশ্যে আমি যখন ঢাকায় যাই, রাঙ্গা ভাই অনেকগুলো কাগজ আর কলম দিয়ে বলেছিলেন “আমার তো আর কিছু দেয়ার সামর্থ নেই, এগুলো তোর কলেজের লেকচার তোলার কাজে ব্যাবহার করিস।”

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যখনি বাড়িতে গিয়েছি, তার কাছে যাওয়ার আগে রাঙ্গা ভাই নিজেই এসে দেখা করেছেন। আগ্রহ নিয়ে আমার গল্প শুনেছেন। গ্রামের গল্প বলেছেন। সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন। আমার বিদেশে স্কলারশিপের সংবাদ পেয়ে তিনি এমনভাবে পাড়াময় দৌড়ে মানুষকে খবর দিয়ে বেড়িয়েছেন, যেন তার নিজের ছোটভাইএর সংবাদ দিচ্ছেন।

বিদেশে আসার পর প্রথম প্রথম নিয়মিত কথা হত, তারপর ধীরেধীরে কমতে থাকে। আমি ব্যাস্ত হয়ে পরি তারপরও, তিন-চার মাস অন্তর অন্তর কথা হত। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল গতবছর, যখন দেশে গিয়েছিলাম। সেই একই রকমের হাসিখুশী মানুষ। দেশ থেকে আসার পরে সম্ভবত ফোনে মাত্র একবার কথা হয়েছে। অনেকদিন খবর রাখা হয়নি। তারপর আজ এই খবর!
বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে নিজেকে। কেন নিয়মিত যোগাযোগ রাখিনি! আমরা বড়ই স্বার্থপর!

(৩)

একটা বেসরকারী স্কুলে শিক্ষকতা করতেন রাঙ্গা ভাই। ইংরেজী পড়াতেন। সাথে ছিল গোটা দুই টিউশনী আর বাজারে ছোট একটা বইএর দোকান। জায়গা-জমিও ছিল কিছু। খেয়ে পড়ে চলে যেত ভালোই। ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। আর সবাই আলাদা হয়ে গেলেও মা’র সাথেই রাঙ্গা ভাই থাকতেন। বাবা ছিলেন না। ভাবী আর তাদের বছর দশেকের মেয়েটা নিয়ে ভালোই চলছিল।

কন্সটিপেশনের সমস্যা ছিল গত কবছর ধরেই। আরো কিছু সমস্যা, কিন্তু পাত্তা দেননি কখনো। মাস ছয়েক আগে খুব বাড়াবাড়ি রকমের সমস্যা হচ্ছিল। খুব দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলেন, ওজনও কমছিল। তখন ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। জানতে পারলেন কোলোরেক্টাল ক্যান্সার! তা আর টিউমার অবস্থায় ছিলনা। মেটাস্টাসিস হয়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে শরীরের বিভিন্ন কোনে কোনে। খাওয়াদাওয়া পরিমিত ছিল, ধুমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস ছিলনা। তারপরো এই রোগ বাসা বেঁধেছে। ডাক্তারের মতে, সম্ভবত ‘ফ্যামিলিয়াল অ্যাডেনোম্যাটাস পলিপোসিস’ পেয়েছিলেন উত্তরাধিকার সূত্রে। তা থেকেই।


রাঙ্গা ভাই জানতেন চিকিৎসার খরচ হবে বিশাল। তার কথা চিন্তা করাও তার জন্য দুরহ। আর এই রোগতো ভালো হবেইনা, বরং তার চিকিৎসার খরচ যোগাতে গিয়ে তার মা কিংবা ভাবী হয়ত সব বেচে সর্বশান্ত হয়ে যেতেন। এই ভয় তাকে তাড়া করল। ক্যান্সারের কথা জানার পর কিছুদিন বিমর্ষ হয়ে বসে থাকতেন। কিছু জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর দিতেননা। তারপর একদিন খুব হাসিখুশী মুখে বাড়ি ফিরে জানালেন, চা’এর উপরে বিশাল এক সরকারী প্রজেক্টে কিছুদিনের জন্য কাজ পেয়েছেন। সিলেটে। বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে মাস দুয়েকের জন্য। স্কুল থেকে ছুটি নিলেন। প্রায় সবার নিষেধ অগ্রাহ্য করে সিলেট চলে গেলেন।

বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে কতগুলো কাজ করলেন রাঙ্গা ভাই। তার মা আর স্ত্রীর অজান্তে নিজের অ্যাকাউন্টএ জমানো টাকাগুলো ব্যাংকে তাদের অ্যাকাউন্টএ রাখলেন। বাজারের দোকানের কাগজপত্র ভাবীর নামে তৈরি করলেন। খুঁজেপেতে নিজের ঋন গুলো শোধ করলেন।
কেউ জানত না ভিতরে ভিতরে তিনি কি করছেন বা কেন করছেন। বরং তার এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের কারনে অনেকেই তাকে ‘গোঁয়ার’ বলে বকাঝকা করলেন। তার মা আর স্ত্রী পর্যন্ত রাগ করে দুইদিন কথা বন্ধ রাখলেন। মেয়েটা শুধু যাওয়ার আগে খুব বাপঘেঁষা হয়ে উঠেছিল।
সিলেটে ছোট একরুমের বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন রাঙ্গা ভাই। বাড়িতে সপ্তাহে একদিনের বেশি যোগাযোগ করতেন না। বলতেন যেখানে কাজ করেন সেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্ক নেই। আসলেই কি তাই? হয়ত ইচ্ছে করেই ফোন বন্ধ রাখতেন। দুমাসের কথা বলে গেছেন, কিন্তু দুমাস পরে জানালেন, প্রজেক্ট আরো ক’মাসের জন্য বেড়েছে। তাকে থাকতে হবে।
এর মধ্যে দুটো বই লিখেছেন। একটা ‘সহজ উপায়ে ইংরেজী শিক্ষা’ আর একটিতে ক’টি ইংরেজী ছোটগল্পের অনুবাদ সংকলন। প্রকাশকদের সাথে কথা এবং চুক্তি হয়েছে। এর সর্বস্বত্ত্ব যাবে তার স্ত্রীর নামে।

দিনরাত লেখার পেছনে অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কোথায় খাওয়াদাওয়া, কোথায় কি! শরীর একেবারে ভেঙ্গে হাড্ডিসার হয়ে গেছে। বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পরে তৃতীয় মাসে একদিন প্রতিবেশীরা ধরে সরকারী হাসপাতালে দিয়ে আসে। সেখানে মাসখানেক। ডাক্তার নার্সদের অনেক অনুরোধ কিংবা ধমকের পরেও রাঙ্গা ভাই তার বাড়ির ঠিকানা কাউকে জানাননি। একসময় তারা ঢাকাতে ক্যান্সার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
তার মৃত্যু সন্নিকটে। ডাক্তার বুঝতে পারলেন। তাকে জানালেন সে কথা। এই শেষ সময়ে অন্তত পরিবারের কারো পাশে থাকা উচিত। রাঙ্গা ভাই ভাবীকে খবর দিলেন।

কত অভিমান, কত ক্ষোভ, কত দুঃখ ভরাক্রান্ত মনে ভাবী তার পাশে এসে দাড়ালেন তা শুধু ওপরওয়ালাই জানেন। কেন তাকে কিছু না জানিয়ে মিথ্যা কথা বলে এভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া হয়েছিল! সে কি তার চিকিৎসার চেষ্টা করতনা! রাঙ্গা ভাইয়ের কত সুহৃদ আছেন দেশে বিদেশে। তারাও সাহায্য করত। তাছাড়া এখনকার এই ফেসবুকের যুগে অসুস্থ মানুষের জন্য সাহায্য চাইলে কত জানা-অজানা মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
রাঙ্গা ভাই হাসলেন। ভাবীর হাত ধরে বলেছিলেনঃ

“মৃত্যু মানুষের জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত পরিনতি। আজ হোক কাল হোক মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতেই হবে। সেই মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে মানুষের কাছে হাত পাতব! আমি জানতাম, তুমি আমার চিকিৎসার চেষ্টা করতে। তার জন্য সব কিছু বেচে দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যেতে। তারপরও আমাকে ধরে রাখতে পারতেনা। একসময় মনে মনে আমাকে অভিশাপ দিতে। বলতে, নিজে তো মরলই আমাদেরও জীবন্ত মেরে দিয়ে গেল। আমার মেয়ে আমার প্রতি অভিযোগ কিংবা ঘৃনা নিয়ে বড় হত। আমি তা চাইনি। তাই তোমাদের কিছু জানাইনি।”

ব্যাঙ্কের কাগজপত্র আর বইয়ের স্বত্ত্বের কাগজপত্র ভাবীর হাতে দিয়ে বললেন “এর বেশি আর কিছু দেয়ার সামর্থ আমার নেই। দুঃখ করোনা। একটাই জীবন। যতদিন বেঁচে ছিলাম আনন্দ নিয়ে বেঁচে ছিলাম। আল্লাহপাক সাক্ষী, কোনদিন কারো হক নষ্ট করিনি। হারাম উপার্জন করিনি। তুমিও সত্যের পথে থেকো। আমার মেয়েটাকে সঠিক পথে সত্য-মানুষ রূপে গড়ে তোলো। তোমাদের উপর কোন ঋনের ভার চাপিয়ে দিয়ে যেতে চাইনি। দেখো, ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘোরা ‘অবিশ্বাসী’ অবস্থার চেয়েও ভয়ানক। মৃত্যু তো আসতে পারে যেকোনো সময়ে। শেষ সময়ে তওবা নসীব হলে ‘‘অবিশ্বাসী’ অবস্থার থেকেও মুক্তি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ঋন পরিশোধের শেষ সুযোগটুকুও হয়ত আসবেনা। ঋনের চেয়ে ভয়ানক বোঝা বা ভার তাই এই জগতে আর নেই।”

(৪)

রাঙ্গা ভাইয়ের জীবনের শেষদিন গুলোর এসব কথা আমি কিছু শুনেছিলাম আনিসের কাছে, কিছু ভাবীর কাছ থেকে। তার মৃত্যুর মাস তিনেক পরে আমার দেশে যাওয়া হয়েছিল। শুনে খুব খারাপ লাগছিল, আবার অসম্ভব ভালোও লাগছিল। কি বিশাল আত্মমর্যাদাবান একজন মানুষ! তাকে আমি শ্রদ্ধা করতাম একজন গুরুজন এবং পরোপকারী মানুষ হিসেবে। কিন্তু আমি জানতাম না মানুষ হিসেবে সাধারনের চেয়ে কত বেশি মহান তিনি ছিলেন।

ভাবীকে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, মেয়েটার পড়াশুনার খরচ চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। ভাবী শুধু হেসে বলেছিলেন “না ভাই, তা আমি আপনাকে করতে দিতে পারিনা। যে মানুষটা জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কারো কাছে হাত পাতেননি, এমন কি কেউ নিজ থেকে দয়া দেখাতে আসবে বলে নিজের প্রাণঘাতী রোগ সম্পর্কেও কাউকে বলেননি, তার মেয়ের জন্য কিভাবে আমি সাহায্য নিতে পারি?!”

বড় লজ্জা পেয়েছিলাম। ঠিকই তো। রাঙ্গা ভাইয়ের পরিবারের কাউকে ‘সাহায্য করতে চাওয়া’ আমার মত সাধারনের জন্য ধৃষ্টতাই। এ জগতে কিছু মানুষ আসেন, তারা শুধু দিতেই জানেন, নিতে জানেননা।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement