মাকে নিয়ে অনেক স্মৃতিই আমাদের থাকে। এরকম একটি স্মৃতিচিত্র ধরার চেষ্টা করা হয়েছে কবিতায়।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - মা (মে ২০১৯)

মায়ের স্বরূপ
মা

সংখ্যা

জামাল উদ্দিন আহমদ

comment ৫  favorite ১  import_contacts ৮২
সাধ্যে ছিলনা তার ঢাকাই শাড়ি কিংবা রেশমী চুড়ি;
নথ- মাকড়ি, হাঁসুলি- বিছা কিংবা
বালা-চুড়ি কিছুই ছিলনা সহজ নুনহীন পান্তার ঘরে।
নাড়িছেঁড়া কিছু ধন আর একটি জড়সড় হাসনাহেনা
এই ছিল তার স্বপ্নঘেরা পুঁটুলি।

নলখাগড়ার ঘরের কোণে হেরেমের বিলাস
আমার মায়ের হাসনাহেনা – যেন জীবনের প্রাণরস।
ছিলনা হাড়িতে চাল, উনুনে আগুন – এমন বহুদিন
তবুও জোনাকীর মেলায় বসে প্রতি সন্ধ্যায় মা
ফুসফুস ভরে নিতেন নির্মল ঘ্রাণ– তখন
ভুলেই যেতেন ঠিকানা তার হাভাতের ঘর ।

এখনও হাসনাহেনা বিলি কাটে সন্ধ্যার চুলে
আমাদের মাটির দাওয়া যেন স্বর্গের চাটাই
রূপকথা শুনতে আসে জোনাকী শিশুর দল:
এ যেন আমার মা - ঘিরে বসে আছি
আমরা – আমি আর আমার অনুজা।

হাত রাখি হাসনাহেনার শীতল পাতায় –
এ যেন মায়ের মুখ শুষ্ক সকরুণ – তবু
ঠোঁটের কোণে আঁকা এক ফালি সুখ
যেন কোনো ক্লেশ নেই, ছিলনা কখনও;
কখনও ছোঁয়নি তাকে খিদের চিনচিনে ব্যথা
কখনও দেখেনি সে বঞ্চনার ব্যাদান মুখ।

এখনও দাঁড়িয়ে যেন মা, হাতপাখা হাতে
বেহেশতী সুবাস ছড়ায় তারা ফুল থেকে
কপালে ছোঁয়ায় হাত আলগোছে মমতায়
ভেজাচোখে মেলে ধরে সবুজ আঁচল, আর
আমরাও ফিরে আসি বারবার মায়ের বুকে
দাওয়ার অদূরে স্থির মা, হাসনাহেনা বেশে।



advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement