সাধ্যে ছিলনা তার ঢাকাই শাড়ি কিংবা রেশমী চুড়ি;
নথ- মাকড়ি, হাঁসুলি- বিছা কিংবা
বালা-চুড়ি কিছুই ছিলনা সহজ নুনহীন পান্তার ঘরে।
নাড়িছেঁড়া কিছু ধন আর একটি জড়সড় হাসনাহেনা
এই ছিল তার স্বপ্নঘেরা পুঁটুলি।

নলখাগড়ার ঘরের কোণে হেরেমের বিলাস
আমার মায়ের হাসনাহেনা – যেন জীবনের প্রাণরস।
ছিলনা হাড়িতে চাল, উনুনে আগুন – এমন বহুদিন
তবুও জোনাকীর মেলায় বসে প্রতি সন্ধ্যায় মা
ফুসফুস ভরে নিতেন নির্মল ঘ্রাণ– তখন
ভুলেই যেতেন ঠিকানা তার হাভাতের ঘর ।

এখনও হাসনাহেনা বিলি কাটে সন্ধ্যার চুলে
আমাদের মাটির দাওয়া যেন স্বর্গের চাটাই
রূপকথা শুনতে আসে জোনাকী শিশুর দল:
এ যেন আমার মা - ঘিরে বসে আছি
আমরা – আমি আর আমার অনুজা।

হাত রাখি হাসনাহেনার শীতল পাতায় –
এ যেন মায়ের মুখ শুষ্ক সকরুণ – তবু
ঠোঁটের কোণে আঁকা এক ফালি সুখ
যেন কোনো ক্লেশ নেই, ছিলনা কখনও;
কখনও ছোঁয়নি তাকে খিদের চিনচিনে ব্যথা
কখনও দেখেনি সে বঞ্চনার ব্যাদান মুখ।

এখনও দাঁড়িয়ে যেন মা, হাতপাখা হাতে
বেহেশতী সুবাস ছড়ায় তারা ফুল থেকে
কপালে ছোঁয়ায় হাত আলগোছে মমতায়
ভেজাচোখে মেলে ধরে সবুজ আঁচল, আর
আমরাও ফিরে আসি বারবার মায়ের বুকে
দাওয়ার অদূরে স্থির মা, হাসনাহেনা বেশে।