এ পথে আসা হয়না অনেকদিন,
পরিচিত চায়ের দোকানদার আমাকে দেখেই চা বানাতে শুরু করেছে,
বেঞ্চে বসা একজন সরে গিয়ে বসার জায়গা করে দিলো,
ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে নিতেই পেছন থেকে ভেসে এলো,
“এতোদিন কোথায় ছিলেন?”
পুরনো কৃষ্ণচূড়া রঙের জামায় গড়পড়তা সৌন্দর্যের একটি মেয়ে,
আগে কখনো দেখিনি,কিন্তু মনে হলো আমি একেই খুঁজছি।

এতদিন আমি আটকে ছিলাম অসভ্য গিরগিটির লেলিহান জিভে,
ওখানে আটকে ছিল ঝাউবন, মেঠো পথ,জোড়া নদীর মোহনা,
ধানক্ষেত আর আমার উচ্ছল যৌবন।একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী
আটকে ছিলো,তুমুল যন্ত্রণায় তার হাতের আঙুল বাঁকা হয়ে যেত।

আমার দু’চোখের তলায় অনিদ্রার কালো দাগ,বুকের কুঠরিতে
অনিশ্চয়তার অজানা আতঙ্ক নিয়ে আমি ফিরে এসেছি এখানে।
চা পান করতে করতে আমি ভাবি,হে বালিকা, কে তুমি আমাকে
স্মরণে রেখেছ?সমস্যার ত্রিশঙ্কুরে ঝুলে থাকা আমাকে সবাই যখন
ছেড়ে গেছে,শুধু ছায়া টুকু সঙ্গী এখন,কে তুমি বিশ্বাসী নাবিকের
মত পেছন থেকে ডাকলে?

চা পান করতে করতে টের পাই বুকের উঠোনে তুমুল কোলাহল।
যে ঘরের দরজাখানা প্রবল আক্রোশে একদিন বন্ধ করে দিয়েছিলাম,
যার কাড়নে একরাশ অন্ধকার সেখানে পরম নিশ্চিন্তে স্তূপ হয়েছিলো,
যেখানে বাসা বেঁধেছিল ঘুণ পোকা আর ঝুল কালি,তার বদ্ধ কপাটে
টের পাই করাঘাত, যা নিয়ে এই অলস বিকেলে গর্ব করা যায়।