লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

একটি মোবাইল সিমের স্থায়ী হওয়ার গল্প
ভালবাসা

সংখ্যা

syed sabbir ahmed

comment ৩১  favorite ৮  import_contacts ১,৭১৩
আমি একটি মোবাইল সিম। আমি কোন কোম্পানির কোন মোবাইলে ব্যবহৃত হই সেটা গুরুত্বপূর্ণ না গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমি ব্যবহৃত হই সাময়িকভাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক আমার ভাগ্যের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে, বলা যায় এখন অমার গ্রহ নক্ষত্র এখন সব সৌভাগ্যের শীর্ষ বিন্দুতে অবস্থান করছে। ভাবছেন মোবাইল সিম এর আবার সৌভাগ্য দুর্ভাগ্য কি? আসলে আপনারা মানুষদের সমস্যা কি জানেন, আপনারা নিজেদের মহাজ্ঞানী ভাবেন, ভাবেন আপনারা সব রহস্য জেনে বসে আছেন। আহা এই বিশ্ব ব্রক্ষাণ্ডের তুলনায় আপনারা আর আপনাদের জ্ঞানের বহন যে কত ক্ষুদ্র তা যদি আপনারা অনুধাবন করতে পারতেন! তো যাই হোক আমার অতিকথনে আবার বিরক্ত হবেন না। আমরার এ অভ্যাস জাতিগত, বিশেষ করে আমরা যারা বঙ্গাল দেশের তাদের বাচলামির মাত্রা আবার একটু বেশি। কারণ নিশ্চয় বুঝিয়ে বলতে হবেনা। বুঝতে পারলেন না আপনাদের বুদ্ধিমান ভেবেছিলাম আসলে আপনারা সবাই গাধা, আমার মালিকের মত! কিচ্ছু বুঝেন না।
আরে মালিকের কথা বলাতে মনে হয়েছে আপনাদের কি বলতে শুরু করেছিলাম। ঘটনাটা হচ্ছে আমি একটা সাময়িক সিম যার বর্তমানে চূড়ান্ত সিম হওয়ার পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। আপনাদের সেই কাহিনীই এখন বলবো।
আমার মালিক একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আজকালের পোলাপানের মত সে ও ৮-১০টা সিম নিয়ে ঘুরাফিরা করে। সকালে একটা বিকেলে একটা আবার রাতে একটা। এভাবে করতে করতে আমার সিরিয়াল আসতে সপ্তাহে একবার বা দুই বার। সপ্তাহে আমাকে একবার বা দুইবার ১০টাকার খাবার দিত। এমন দীনহীন নিঃস্ব অবস্থায় আমার দিন কাটছিল।
তারপর একদিন একটা ঘটনা ঘটল। সে মানে আমার মালিক আমাকে একটিভ করে একটা নাম্বার ডায়াল করল, কিন্তু আমি কানেক্ট হবার আগেই কেটে দিল। এভাবে ১০-১২ বার করার পর গাধাটা শেষ পর্যন্ত কানেক্ট করার অনুমতি দিল। দুই বার ডায়াল টোন বাজার পর ওই প্রান্ত থেকে খুব মিষ্টি একটা গলা শোনা গেল।
-হ্যালো
-হে-এ-এ লো
-এমন হে-হে করছেন কেন, কে আপনি?
-ইয়ে মানে এটা কি নীলার নাম্বার?
-হ্যা, বলছি বলুন।
-না আজ ভার্সিটির এডমিশন টেস্টের রেজাল্ট দিয়েছে ত তোমার কী অবস্থা?
-ও-ও-ও
আপনি অনিন্দ্য ভাইয়া, তাই না
হ্যা ভাইয়া আমি চান্স পেয়েছে।
-ও খুব ভালো, ভালো;
তা তোমার পজিশন কত?
-২২০
হুউউম
ভাল আশা করি ভাল একটা সাব্জেক্ট পাবা।
-ভাইয়া, একটা কথা বলি?
হ্যা হ্যা বল বল।
-আপনি আমার সাথে কথা বলার সময় এত নার্ভাস থাকেন কেন?
ন-ন-ম নার্ভাস !!!
কে বলেছে নার্ভাস....থাকি।
কই নাতো?
(আমি ওই প্রান্তে অস্পষ্ট একটা হাসার শব্দ শুনলাম)
-না এমনি।
আচ্ছা ভাইয়া আমার ভাইবার ডেট হলে আমাকে জানাবেন, আপনি ত হলেই থাকেন তাই না?
-হাঁ হ্যা হ্যা অবশ্যই ..........
-আর ভাইয়া আমি আপনার এই নাম্বারটা সেভ করে রাখলাম,
আমি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল রিসিভ করিনা।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-গুড নাইট ভাইয়া।
-তোমাকে ও .........
এই ছিল নীলার সাথে আমার মালিকের প্রথম কথোপকথন। (আমাকে দিয়ে) এরপর সে সবসময় আমাকে ব্যবহার করা শুরু কলল। এরপর প্রতিদিন নীলাকে ফোন করত।
প্রতিদিন মিনিমাম ১০ মিনিট কথা তো বলতই এবং এই ১০ মিনিট এর আট মিনিট ই কাটত ওর কাপাকাপিতে।
আমিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতে লাগলাম, অন্যগুলো বাদ। আমি বেশ ভালই খাবার পাওয়া শুরু করলাম। আমাকে কেউ ডাকলে খুব সুন্দর একটা গান শুনাই। গানটা আমার মালিকের খুব প্রিয়, দাঁড়ান আপনাদের ২ লাইন গেয়ে শোনাই।

“তোমার জন্য নীলচে তারার একটুখানি আলো
ভোরের রঙ রাতে মিশে কালো;
কাঠবাদামের সাদার মায়ায় মিশিয়ে দিয়ে ভাবি,
আবছা নীল তোমায় লাগে ভালো”
দেখলেন ভালো খাবারদাবারের ফলে আমার গানের গলাও চমৎকার হয়ে গেছে!
এখন মূল ঘটনায় ফিরে যাই, আমার মালিক নীলাকে ফোন দিয়ে প্রতিদিন একি কথা বলতো। তোমার ভাইবার তো ডেট হোয়ে গেছে। তোমার হয়তো অর্থনীতি হতেও পারে”
এতোটুকু বলে আর কিছু বেকুবটার মুখ থেকে বের হতনা, নীলাও আর কিছু বলার না পেয়ে ফোন রেখে দিত। আর বেচারা সারারাত্রি ছটফট করত, আমি বালিশের নীচে থেকে ও তার যন্ত্রণাটা বুঝতাম।
একদিন দেখলাম বেকুবটা বেশ উত্তেজিত। প্রথম দিনের মতই আবার সেই ছটফটানি আর কাপাকাপি। নাম্বার ডায়াল করছে আর ডায়ালটোন আসার আগেই ডিস্কানেক্ট করছে। এভাবে ২৬ বারের মাথায় কানেক্ট করল-আবার সেই মিষ্টি স্বর-
-হ্যালো;
-হ্যালো নীলা (আজ বেশ আত্মবিশ্বাসী)
-হ্যা বলুন ভাইয়া।
-আজ কে আমি তোমার কাছে একটা জিনিস চাইব (কাপতে কাপতে)
-কী
-না মানে আমি একজন কে পছন্দ করি, তাকে কী তুমি আমার হয়ে ইয়ে মানে আমার পছন্দের কথা টা বলতে পারবে?
-কাকে পছন্দ করেন আপনি কই কখন ও তো আমাকে বললেন না!
-এখন বলছি, আমি তোমাকে তার নাম্বারটা এসএমএস করে পাঠাচ্ছি, তুমি তাকে কাইনডলি জানায়া দিও।
বলে খট করে ফোনটা কেটে দিয়ে নীলার নাম্বার টা এসএমএস করে পাঠালো।
কিছুক্ষণ পর নীলা ফোন দিল, থমথমে গলায় বলল-
-ভাইয়া এর মানে কি?
-মানে তো মনে হয় বুঝতেই পারতসো।
-ভাইয়া আপনি তো জানেন, আমি সামিরের সাথে রিলেশনে আছি?
-হ্যা জানি।
-তাহলে এরকম করলেন কেন আপনি?
প্লিজ দয়া করে আপনি আর কোন দিন আমাকে ফোন করবেন না।
-নীলা প্লিজ শোনো, আই এম সরি আসলে...........
খট.....
নীলা ফোন কেটে দিল।
এদিকে গাধাটার যে কি অবস্থা! সারারাত হল এর ছাদে বসে বাচ্চা ছেলেদের মত কান্নাকাটি করল, আর বারবার নীলার নাম্বাররে কানেক্ট করার চেষ্টা করল, কিন্তু না নীলার নাম্বারে আর কানেক্ট করা গেলনা। নীলা তার সিম বন্ধ করে দিয়েছে। আর আমার মালিক-
অন্য সময় তো আগের সিমগুলো ব্যবহার করতে করতে আমার সিরিয়াল আসতো মাসে এক অধবার আর এখন অমাকে কন্টিনিউয়াসলি ব্যবহার করে, অন্য সব সিম বাদ। আমাকে অন্তত ৫০ টাকার খাবার আগে থেকেই খাইয়ে রাখে। কেন রাখে? যদি নীলার যদি কোনদিন ফোন করতে ইচ্ছা হয়, যাতে কখনও নাম্বারটি বন্ধ না পায়।
-যদি মিসকল দেয় তাহলে যাতে আবার রিচার্জ করতে দৌড়াতে না হয়।
আমার দিনকাল তো চরম কাটছে। আজ দু’বছর হল এক সামান্য পার্টটাইম সিম থেকে আজ আমি সবচেয়ে বেশি বোনাস ও টক টাইম পাওয়া স্থায়ী সিম। কিন্তু আমার মালিক বেচারার দিন বেজায় খারাপ যাচ্ছে। সারাদিন সারারাত তার কাটে একটি কলের অপেক্ষায়। কোন অজানা নাম্বার থেকে কল আসলেই সে অস্থির হয়ে যায়। আর প্রতিবারই তাকে আশাভঙ্গের যন্ত্রণায় পড়তে হয়। আমার মাঝে মধ্যে বেশ খারাপ লাগে। তবে আমার খারাপ লাগাটা আমার মালিকের জন্য নয়, আমার জন্যই। আমাকে সে বালিশের নিচে রাখে। রাত্রে যখন তার চোখের জলে বালিশ ভিজে যায়, তখন আমার বড় বিশ্রী লাগে!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement