হাসপাতালের লিফট থেকে মায়ের লাশটা বের করতেই
আমার বোন রমিজা আমার ডাক নাম ধরে
চিৎকার করে বলে উঠলো, ‘তোতা ভাই,
মারে খাটে শোয়াইয়া কই লইয়া যান?’
হাসপাতালের ফিনাইলের গন্ধ ছেপে
আতর লোবানের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো।
মাজু ফুফু ওর মাথার কাপড় সামলে দিতে দিতে
মৌমাছি হয়ে গেলেন। আমার আর কিছু মনে নেই।
কোন এক অদৃশ্য মন্ত্রে, আমি যন্ত্র হয়ে গেলাম।

এখন আমি আমাদের আপন বসতে।
বিকালের সূর্য দিগন্ত ছুঁই ছুঁই করে ছুঁয়ে ফেললো।
মাগরেবের আজান হয়ে গেছে একটু আগে।
ড্রইং রুমের কলগুঞ্জন ছেড়ে আমি মায়ের ঘরে এলাম,
মাকে যায়নামাজে বসিয়ে দেবার জন্য।
জরিনার মা মায়ের জায়নামাজটা এখনো পেতে দেয়নি বলে,
বিরক্ত হয়ে জরিনার মাকে ডাকতে গিয়ে দেখলাম,
আমার চার বছরের মেয়ে বুবাইর মুখ
অবিকল মায়ের মুখ হয়ে গেছে।