বেলুনটা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল
আয়নোস্ফিয়ার ভেদ করে অনেক উপরে, সূর্যের কাছাকাছি –
আফ্রোদিতির সব সৌন্দর্য গায়ে মেখে।
ভেতরে ঝোলানো ছিল আমাদের উজ্জ্বল বর্ণমালা – অ, আ, ক, খ।
দেয়ালে, ভাষা আর স্বাধীনতার সৈনিকদের পবিত্র ম্যুরাল
আর অভ্যন্তরে মন্দ্রিত, দৈববাণীর মত বজ্র কণ্ঠ – এবারের সংগ্রাম ......।
আহা, কি উজ্জ্বল, কি বর্ণময় আমাদের শ্লাঘার সৌধ!

অতঃপর -
ফুলের কীটের মত কতিপয় লোভী ষড়যন্ত্রী উইপোকা হয়ে,
আমাদের গর্বের প্রতীককে বানিয়ে ফেলল তাসের ঘর।
ক্ষুধার্তের হাহাকার, নির্যাতিতের মর্ম বেদনা আর সর্বহারার ক্রন্দন
একেকটি টমাহক হয়ে বেলুনের গায়ে ঝরে পড়লো বৃষ্টির ছাটের মত।
আমাদের গৌরবের স্মৃতিচিহ্ন নেমে এলো
মেসোস্ফিয়ার হয়ে ট্রটোস্ফিয়ারের সিঁড়ি বেয়ে
পৃথিবীর মলিন ধুলায়।

দেখো, একদল লোক হেটে যাচ্ছে জম্বির মতো
ওরা দুঃখকে নিয়ে বিলাস করে,
পায়ের শৃঙ্খলকে ভাবে অলঙ্কার, দাসত্বকে বিনয়,
কষ্ট ও মৃত্যু ওদের কাছে অদৃষ্ট লিখন
এবং আত্মবিশ্বাস প্রাগৈতিহাসিক কোন শব্দ।

মরুভূমির বুক চিরে কবে ফিরে আসবে প্রত্যয়ের স্রোতস্বিনী,
আর বিশাল আকাশে আবার
মাথা তুলে দাঁড়াবে আমাদের পুষ্পিত অহংকার?