মৃত্যুর কাছে কখনো বহতা করিনি, জীবনের কাছে হারিয়েছি কত প্রীতিলতা
তবুও অশ্রুসিক্ত নয়নে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকি তোমার দরজা।
এই যে মনের করিডোরে জমিয়ে রেখেছি আকাঙ্খার অসুখ
দু’চোখের কটেজে নিয়ন বাতি জালাই প্রতিনিয়ত;
জোড়াতালি স্বপ্ন নাকি প্রত্যাশার বেলুন ফিরে দ্যাখিনি কখনো,
শুধু নির্জলা রাত্রির জলরঙে দু’হাত বাড়ায় আমার বিষাদে ঢাকা স্বরলিপির সুর।

ভেঙে যায় মন, ভেঙে যায় নির্বাক বর্ণমালা নিদারুণ; ফিসফাস শব্দে উতাল পাতাল জলতরঙ্গ
তবুও ফের করিনি তো আপোষ!
নিঃসঙ্গতার আঁধার, কিস্তিতে কেনা অপবাদ মেঘের কাছেই নিয়ত লুকোচুরি
এই তো শিশিরের শুভ্র কায়ায় ছুঁয়ে যায় ক্লান্ত অবসাদ, ফের ফুটে উঠে মেঘের সঙ্গম!
এভাবে বিলীন হতে হতে নীরব কালের সাক্ষী হয়ে দ্বাঁড়ায় অশ্লীল অতীত,
ধূসর নষ্ট জীবন আর তিলে তিলে ক্ষয়ে যাওয়া বাস্তুভিটা;
অতঃপর আর্তনাদের বুকে বসত গড়ি জ্বলন্ত সমুদ্র
যেখানে বর্ণময় কিছু সন্ধ্যা ফিরে দেয় আরও বেশি হতাশা, অভিমান আর অনুশোচনা!
একসময় আঁধারের মায়া কেন্দ্র করে শার্সিত জানালার গ্রিল বেয়ে বেয়ে ভিজে উঠে পাপোষ;
তবুও তোমার প্রতি মোটেও রাগ করিনি,
তুমি দাওনি বলে ধৈর্যের পাথর বসিয়েছি গভীর নলকূপে!

প্রভু! একবার নয়, শতবার তোমার কাছে হাত পেতে ভিক্ষে চাইতে
আমার কোন লজ্জা করে না, দ্বিধার অবকাশ জমে না।
আজ আর সুখ খুঁজি না, শান্তি কি তাও বুঝার প্রয়োজন মনে করি না;
যদি একসাগর জলে ভেলা ভাসিয়ে দাও জীবন, ভেঙে টুকরো টুকরো করে দাও রক্ত গড়া সভ্যতা
সেদিনও তোমার কাছে ক্ষমা চাইতে কোন লজ্জাবোধ করবো না।