আশা করি গল্পটি পড়লে,পাঠক অনায়াসে বিষয় সামঞ্জস্যতা খুজে পাবেন।ধন্যবাদ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ অক্টোবর ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ২১টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ভৌতিক (ডিসেম্বর ২০১৮)

জানালার পেছনে
ভৌতিক

সংখ্যা

নাজমুল হুসাইন

comment ৩  favorite ০  import_contacts ২৬
টুপ করে নিভে গেল টেবিল ল্যাম্পটা।ঘরের অন্যান্য বাতি গুলো আগেই বিকট শব্দে ব্রাষ্ট হয়ে গেছে,বন্ধ জানালা এক ঝাপটায় খুলে গেল,শো শো শব্দে সারাটা ঘর ছেয়ে নিয়েছে বাতাস।ঘুট ঘুটে অন্ধকার মনে হয় যেন সারা পৃথিবী ছেয়ে নিয়েছে।বেশ জো্রে সোরেই ঘুরছে দেয়াল ঘড়ির কাটা।অন্যসময় কাটার আওয়াজ সাধারনত কানে খুব বেশি শোনা যায় না,গভির ভাবে খ্যয়াল না করার জন্যই হবে হয়তো।চারিধার নিরব নিঃশ্চুপ হয়ে ওঠার কারনে ঘড়ির কাটা তার শব্দের বাহাদুরি দেখাচ্ছে রিতীমত।ভূমি কম্পের মত কাঁপতে শূরু করেছে,খাট,চেয়ার টেবিল,আলমারি।চোখে দেখা না গেলেও ঐন্দ্রীলা স্পষ্ট বুঝতে পারছে সব।
অন্ধকারেও মানুষের মগজ সজাগ থাকে,এমনকি আলোর চেয়ে অন্ধকারের মধ্যেই তার কাজ শতগুন বেড়ে যায়।না দেখতে পাওয়া ঘটনা গুলো থেকে ব্রেইন একটা সিগন্যাল গ্রহণ করে,অতঃপর তা মনে প্রবেশ করায়।মন সেটা ভাবতে শূরু করে,ভাবনাটা কিন্তু অধিকাংশ সময় সত্য হয়।ভুল যে হয় না তা কিন্তু নয়।তার মানে ব্রেইন মাঝে মাঝে ভুল সিগন্যাল ও গ্রহণ করে থাকে।ঐন্দ্রীলা্র মগজ কোন ভুল সিগন্যাল গ্রহন করে নি।বাস্তব হল যে সে কম্পন অনুভব করছে,এমনকি তার শরীর পর্যন্ত কাপতে শুরু করেছে।ব্যাপার খানা কি সে কিছুই বুঝতে পারছে না।মনে হচ্ছে যেন ভৌতিক কিছু ঘটতে চলেছে।তবে কি হ্যালোসিনেশন?
আচমকা এক থাপ্পড়ে কান গরম হয়ে উঠলো তার।তীব্র চিৎকার করে খাটের এক কোণে গুটী শুটি হয়ে বসে পড়ল সে।না ব্যথার জন্য নয়।ভয় পেয়েছে,ভিশন ভয় পেয়েছে এবার।এত ক্ষন সব কিছুই স্বভাবিক ভাবে নিচ্ছিল ঐন্দ্রীলা,এখন তার মনের মধ্যে ভয় ঢুকতে শুরু করেছে,আজানা আসঙ্কায় ভীতসন্ত্রস্ত সে।ভূত প্রেত নিয়ে যদিও কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই,কিন্তু সে ভূত-প্রেত চরম ভাবে ভয় পায়।
সকালে হোটেলে উঠার সময় কেমন যেন অদ্ভুতূড়ে পরিবেশ মনে হয়েছিল তার কাছে,সিঁড়ি বেঁয়ে ওঠার সময় মনে হচ্ছিল,দেয়ালের ওপার থেকে কেউ যেন তাকে ডাকছে।তখন সেটাকে গুরুত্ব দেয় নি ঐন্দ্রীলা।অথচ এখন তার সাথে কি সব অদ্ভুত কান্ড ঘটছে।ভয়ে কুঁকড়ে যাবার মত অবস্থা।ক্ষনে ক্ষনে শিউরে উঠছে গা।বাতাসের বেগ আরো বেড়ে গেছে,কম্পন বেড়েছে ঢের বেশি।
অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে কোন মতে মোবাইলটা খুজে পেল সে।কিন্তু একি!মোবাইল যে বন্ধ হয়ে গেছে!এমন তো হবার কথা নয়।ঘুমানোর আগেইতো চার্য ফুল করেছিল।না ফোনে কোন প্রকার ডিস্টার্ব ও নেই।
বেলী ফুলের ঘ্রাণে মোহাচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে চারিপাশ।হঠাৎ তার চোখ গেল জানালার বাহিরে,পেছনের বাঁশ বাগানে।নিমেশেই ফরসা হয়ে উঠলো বাঁশ বাগান,অন্ধকারের বালাই নাই।মনে হচ্ছে জগতের সব আলো এখন জানালার পেছনে বাঁশ বাগানে এসে হাজির।একটা শিয়াল এদিক সে দিক ছোটা ছুটি করছে,তার মুখে মস্ত এক সাপের লেজ।কানে ভেষে এলো কান্নার আওয়াজ,বাচ্চা শিশুর মত কিছু একটা কাঁদছে,একটা কালো বিড়াল পাশের কবরটার উপর বসে নিজের হাত পা চাটছে আর ডাকছে।বিড়ালের ডাক যেন একদম বাচ্চা শিশুর কান্নার মত।তার মাথার উপর জারুল গাছটার ডালে ভয়ংকর নিশুতী সুরে বড় বড় চোখ করে একটা পেঁচা ডাকছে।মনে হচ্ছে যেন সে বিড়ালটাকে শাষাচ্ছে।
ঐন্দ্রীলা তার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না,ইচ্ছা করছে জোরে চিৎকার করে যদি একটু কাঁদতে পারত সে,না শব্দ বেরুচ্ছে না,কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে এসেছে,পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে,কাপতে কাপতে টেবিলের উপর রাখা পানির জগে হাত দিতেই,নূপুরের নিক্কন ধ্বনি কানে বেজে উঠলো।
আবার চমকে গেল ঐন্দ্রীলা।শব্দটা কোন দিক থেকে আসছে প্রথমটাই সে বুঝতে পারল না।তার পর লক্ষ্য করে দেখতে পেল,অন্ধকার ঘর আলোয় আলোকিত হয়ে গেছে।
একটা অষ্টাদশী মেয়ে মাথার উপরের ফ্যানের সাথে ঝুলছে!যখন সে ঘরে ঢুকেছিল,তখন সব কিছুই তো ঠিকঠাক ছিল।ফ্যানের সাথে কাউকে ঝুলে থাকতে দেখে নি।তবে কি ভুল-ভাল কিছু দেখছে নাতো?না একদম না,সব কিছু বাস্তব!তার পায়ে রুপোর নূপুর,বিকট শব্দে ওটা বাজছে।কান ঝালা পালা হয়ে যায় এমন বিকট আর অদ্ভুত শব্দ।উড়না পেচিয়ে সুইসাইড করেছে মেয়েটা,অথবা হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।জিহব্বাটা বেরিয়ে বাম পার্শে বেকে খানিকটা কেটে গেছে,টপ টপ করে রক্ত ঝরছে কাটা অংশ দিয়ে,ঠোটের ডান অংশে গোলাপি লিপিস্টিক খানিকটা শুকিয়ে গেছে।হরিনের মত বড় বড় চোখ দুটো ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে। জিহব্বার কাটা দাগ দেখে মনে হচ্ছে এই মাত্র মরলো,নইলে এমন তাজা রক্ত টপ টপ করে পড়ছে কেন? সমস্ত শরিরে এত শীঘ্র পচন ধরলো কি ভাবে?তা হলে কি অনেক দিন আগেই মরেছে?সব কিছুই কেমন যেন একটা ধাঁধা!মেডিকেল ডাক্তার হিসেবে এসব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে ঐন্দ্রীলা হকচকিয়ে উঠলো। লাশ পচা গন্ধে বমি আসার উপক্রম,সারা শরীর জুড়ে পোকায় কিলবিল করছে,পা থেকে কয়েক টুকরো মাংস খসে পড়লো মেঝেতে।হঠাৎ কার্নিশ থেকে কালো বিড়ালটা লাফ দিয়ে মেঝেতে পড়লো,ঐন্দ্রীলা জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালো,কবরের উপর বসে হাত পা চাটা কালো বিড়ালটা সেখানে নেই।ঘরের দরজা বন্ধ,জানালার ছিদ্র এত ছোট যে তার ফাঁক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব না,তাছাড়া বাকি পার্শে দেয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত,বিড়ালটা তাহলে কার্ণিশে এলো কি ভাবে?মাংসের টুকরো গুলো টুপ করে গিলে ফেলে,আবার লাফ দিয়ে মেয়েটার মুখের উপর গিয়ে বসলো,জিব থেকে বেয়ে পড়া রক্ত চাটতে শুরু করেছে ওটা।নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না ঐন্দ্রীলা,বমি করে মেঝে ভিজিয়ে ফেলেছে সে।টেবিলের পায়া ধরেই কোন রকমে বসে পড়েছে মেঝেতে।

বাম গালে কে যেন আবার ঠাস করে চড় বসিয়ে দিয়েছে,হাঁপাতে হাঁপাতেই মাথা উপর দিকে উঠালো সে।পেছন ফিরে তাকাতেই মেঝেতে দুটো চামচিকা দেখতে পেল,চিৎ হয়ে পড়ে আছে,মরা মানুষের মত।কালো বিড়ালটা লাফ দিয়ে তার ঘাড়ের উপর এসে পড়লো,চিৎকার করতে করতে সে দরজার দিকে ছুটল,কিন্তু শত চেষ্টা করেও খুলতে পারলনা।বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে কেউ।এত ক্ষনে কালো বিড়ালটা তার ওড়না কেড়ে নিয়েছে,নতুন বউ সাজার মত করে সে ওটা মাথার ঘোমটা বানাবার চেষ্টা করছে।
হঠাৎ করে আবার সারাটা ঘর অন্ধকার ময় হয়ে গেল,শপাৎ শপাৎ করে পেছনের জানালা গুলোও বন্ধ হল,ঐন্দ্রীলার সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে,ভয় যেন শরীর ও মন জুড়ে রাজত্ব শুরু করেছে।তার সাথে যা ঘটছে সে এগুলো কল্পনা করতে পারে না।বাস্তব চিত্রের ন্যায় ঘটনা গুলো তার সামনে ঘটে যাচ্ছে,দম যেন বন্ধ হয়ে আসছে,ভয়ের আতিশয্যে সে এখন দিশে হারা।যে মেয়েটা একটা তেলাপোকা দেখে বাড়ি মাথায় করে ফেলে,সে কিনা আজ মৃত্যু পুরিতে হাজির!
হরিণের শিং যখন জঙ্গলে আটকে যায়,তখন বাঘের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাবার জন্য জঙ্গলে মাথা ঢুকিয়ে বসে থাকে।ঐন্দ্রীলার চর্তুপাশে কোন বাঘ নেই,কিন্তু ভয় আছে,তাই সে চোখ বন্ধ করে ঘরের এক কোনে গিয়ে ঘুপটি মেরে বসে পড়লো।সহসা কে যেন তার হাত ধরে টানতে লাগলো,ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে আর ঐন্দ্রিলার হাত ধরে টানছে।চোখ মেলে তাকাতেই অট্টহাসি,এক ঝাটকায় সে তার হাত সরিয়ে নেয়,পুনরায় চমকে উঠে লাফ দিয়ে দূরে সরে গেল সে,সারাটা ঘর আলোয় ঝলমল করছে আবার,বাগান থেকে বেলী ফুলের ঘ্রাণ ছুটে আসছে,টেবিল ল্যাম্ফটা আবার জ্বলে উঠেছে,ঘুঙুরের শব্দ এখন আর কানে বাজছে না।ঘরে কোন প্রকার পচা গন্ধ নাই,একটা অষ্টাদশী মেয়ে বেনারশি শাড়ী পরে বিভোর হয়ে নাচ্ছে।কিন্তু কিছুক্ষন আগেও তো সে মৃত লাশ ছিল!মাথার উপর ঝুলতে থাকা ফ্যানের দিকে তাকালো ঐন্দ্রীলা,না সেখানে ঝুলন্ত মেয়েটার লাশ নেই!এসব হচ্ছেটা কি?
দমকা হাওয়ায় পেছনের জানালা আবার খুলে গেছে,বাহিরের জংগল থেকে কার যেন গান ভেসে আসছে।বাতাসের সাথে সাথে গানের সুর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেছে।নব বধুর সাজে মেয়েটা নেচেই চলেছে।সুপুরুষ একটা ছেলে তার গান থামিয়ে,মেয়েটার হাত ধরতেই দরজাটা খুলে গেল আচমকা।তিনটা কুকুর এসে খাবলে ধরলো মেয়েটাকে,সুদর্শন ছেলেটা যেন হাওয়ায় মিশে গেল।হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেল সে।মেয়েটার সারা শরির ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে ছিড়ে খেতে লাগলো কুকুর গুলো।ওর গায়ে না আছে ব্যথা,কণ্ঠে না আছে কান্না,শান্ত শীষ্ট সুবোধ রমনীর মত সে তার শরীর খাইয়ে দিচ্ছে কুকুর দিয়ে।আর খিল খিল করে হাসছে,অদ্ভুত এক হাসি!
চোখে মুখে ঝাপসা দেখতে লাগলো ঐন্দ্রীলা,তার খিচুনি শুরু হয়েছে,আধো আধো চোখে তাকিয়ে দেখলো তিনটা কুকুর তাকে ঘিরে ধরেছে।ধারালো নখ আর সুচালো দাঁতের ফাঁকে মেয়েটার শরিরের গোস্তের আশ লেগে আছে।জিহব্বা দিয়ে টপ টপ করে লালা বেয়ে পড়ছে।লাল কুকুরটা তার শরীর শুকতে শুরু করেছে,জানালার পেছন থেকে অদ্ভুত এক অট্টহাসি সুর ভেসে আসলো।চোখ দুটো জুড়ে আসলো তার,আর কিছুই দেখতে পেল না।তার চোখ এবার পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে এসেছে।হয়তবা জ্ঞান হারাতে চলেছে সে,মেঝেতে শরীরটা এলিয়ে পড়েছে।কান এখনো সজাগ,পেছনের জানালা থেকে তার কানে ভেসে আসতে লাগলো,করুন সুরে মেয়েটা ডাকছে ঐন্দ্রীলা…ঐন্দ্রীলা…ঐন্দ্রীলা…।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement